এই নির্মম অন্যায়ের বিচার আমরা দেখতে চাই
· Prothom Alo

শিশু ও নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এর অংশ হিসেবে ২২ মে বিকেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৮ নম্বর গেট–সংলগ্ন সড়ক থেকে ২ নম্বর গেট–সংলগ্ন সড়কে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা।
‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই: ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ স্লোগানে এই কর্মসূচিতে বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
Visit betsport.cv for more information.
মানববন্ধনে বন্ধু সালমান ফারসি বলেন, ‘ধর্ষণ এমন একটি অন্যায়, যার শাস্তি জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। আমরা সম্প্রতি অনেকগুলো ধর্ষণের ঘটনার সাক্ষী হয়েছি, এমনকি গতকালও একটি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। শাস্তি দিতে যত দেরি হবে, ততই এর পরিমাণ বাড়তে থাকবে।’ এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও বিচারের উদ্দেশ্যে কিছু দাবি উত্থাপন করেন।
‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই: ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ স্লোগানে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি।সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘ড্যাফোডিল বন্ধুসভা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে, সামনেও করে আসবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি করেছি। এর একটাই কারণ, এই নির্মম অন্যায়ের বিচার আমরা দেখতে চাই।’
অর্থ সম্পাদক রিজভী আমিন বলেন, ‘এ দেশে বিচার সর্বদা প্রক্রিয়াধীন থেকে যায়। আজ আমরা রাজপথে আছি, কাল থাকব না; আর ঠিক কাল আবার ভুলে যাব বিচারের কথা। আমাদের একটা চাওয়া—দ্রুতগতিতে যেন ধর্ষণের বিচার হয়।’
কর্মসূচি চলাকালীন আশপাশের সাধারণ মানুষ, এলাকাবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ান। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘ড্যাফোডিল বন্ধুসভার আজকের এই আন্দোলন প্রশংসা করার মতো। কয়দিন আগে আমাদের এলাকায়ও একটা ধর্ষণ হয়েছে। আপনাদের মতো মানুষ রাজপথে নামলে এই ধর্ষকেরা ভয়ে থাকবে।’
‘শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই: ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ স্লোগানে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি।যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ বলেন, ‘আমরা কিছু জানতেও চাই না, আমরা কিছু বলতেও চাই না। শুধু বিচার চাই এবং দ্রুতগতিতে বিচার চাই।’
সভাপতি মুসাভভির সাকির তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা বিচার অবশ্যই চাই। তবে তার আগে ধর্ষণ নির্মূল করতে হবে। ধর্ষক কারা? আমাদের সমাজের কেউ, পরিবারের কেউ, আমাদের মধ্যেই কেউ। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে সবার আগে। আমরা সমাজের নারীদের সেই স্বাধীনতা দিতে পারি না যে তারা কখনো নির্যাতিত হলেও আমাদের কিছু বলতে পারে না। সমাজের এ সমস্ত মানসিকতা ও নিয়ম সবার আগে পরিবর্তন করতে হবে। ধর্ষণের মামলা হয়, কিন্তু বিচার হয় না। এই নির্মম অন্যায়ের শাস্তি হওয়া চাই দ্রুত সময়ে। আমরা আজ ধর্ষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছি।’
সভাপতি, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা