বলিউডে দাউদ ইব্রাহিম ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগের কতটা সত্যি কতটা গুজব

· Prothom Alo

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বলিউড ও মাফিয়া চক্রের সম্পর্ক নিয়ে অসংখ্য গল্প, গুজব, পুলিশি তদন্ত এবং আদালতের নথি সামনে এসেছে। কখনো অর্থায়ন, কখনো চাঁদাবাজি, কখনো তারকাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সব মিলিয়ে বলিউডের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে এই আন্ডারওয়ার্ল্ড-যোগ।

Visit extonnews.click for more information.

শুরুটা কোথায়?
বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রবেশ রাতারাতি ঘটেনি। ভারতের স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে দেশটির চলচ্চিত্রশিল্পকে সরকার আনুষ্ঠানিক শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে ব্যাংকঋণ বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সুযোগ ছিল সীমিত। প্রযোজকদের অধিকাংশকেই ব্যক্তিগত অর্থদাতা, ব্যবসায়ী কিংবা অনানুষ্ঠানিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতো। এই শূন্যস্থানই ধীরে ধীরে অপরাধজগতের জন্য সুযোগ তৈরি করে।

ষাট ও সত্তরের দশকে মুম্বাইয়ের কুখ্যাত স্মাগলার ও আন্ডারওয়ার্ল্ড ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কেউ কেউ চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন। তবে তখন বিষয়টি ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় আশির শেষ ও নব্বইয়ের দশকে, যখন মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে আলোচিত নাম দাউদ ইব্রাহিম ও তাঁর ডি-কোম্পানি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

কেন বলিউডে আগ্রহী ছিল মাফিয়ারা?
অপরাধজগতের জন্য চলচ্চিত্র ছিল একাধিক কারণে আকর্ষণীয়। প্রথমত, এটি ছিল অর্থ সাদা করার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র। মাদক, চোরাচালান বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করে বৈধ আয়ের রূপ দেওয়া যেত বলে তদন্তকারী ব্যক্তিরা বহুবার অভিযোগ করেছেন। দ্বিতীয়ত, বলিউড ছিল সামাজিক প্রভাব অর্জনের একটি মাধ্যম। তারকাদের সঙ্গে ছবি তোলা, পার্টিতে উপস্থিত থাকা কিংবা চলচ্চিত্রে অর্থ লগ্নি করা আন্ডারওয়ার্ল্ড ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াত। তৃতীয়ত, বিদেশি বাজারে চলচ্চিত্রের বিতরণ অধিকারও ছিল লাভজনক ব্যবসা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য প্রবাসী ভারতীয়–অধ্যুষিত অঞ্চলে হিন্দি ছবির বাজার দ্রুত বাড়ছিল। ফলে চলচ্চিত্রের বিদেশি স্বত্ব নিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।

নব্বইয়ের দশক: ভয়, চাঁদাবাজি ও রক্তাক্ত বাস্তবতা
নব্বইয়ের দশককে বলিউড-আন্ডারওয়ার্ল্ড সম্পর্কের সবচেয়ে অন্ধকার সময় বলা হয়। এই সময়ে বহু প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক এবং অভিনেতা নিয়মিত হুমকির ফোন পেতেন। চাঁদা দাবি করা হতো, না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
চলচ্চিত্র নির্মাতা রামগোপাল ভার্মা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সেই সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের লক্ষ্য ছিল একজনকে আক্রমণ করে দশজনের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক হামলার পেছনে ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের কৌশল।

১৯৯৭ সালে সংগীতজগতের প্রভাবশালী উদ্যোক্তা গুলশান কুমারের হত্যাকাণ্ড পুরো ভারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তদন্তে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে আসে। এ ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে চলচ্চিত্র ও সংগীতশিল্পের ওপর অপরাধ চক্র কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল।

এর কিছুদিন পরই প্রযোজক-পরিচালক রাকেশ রোশনের ওপর হামলা হয়। তাঁর ব্লকবাস্টার ছবি ‘কাহো না...প্যায়ার হ্যায়’ মুক্তির পর এই হামলা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশি তদন্তে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নাম উঠে আসে।

মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে আলোচিত নাম দাউদ ইব্রাহিম। এএনআই

তারকারা কি আন্ডারওয়ার্ল্ডের ঘনিষ্ঠ ছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন সময়ে কিছু বলিউড তারকার সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ড ব্যক্তিদের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। দুবাইয়ের পার্টি, বিদেশি অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অনেক তারকার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে কোনো ছবি বা সামাজিক যোগাযোগকে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না।

অনেক ক্ষেত্রে তারকারা নিজেরাই দাবি করেছেন, তাঁরা বুঝতে পারেননি, কারা ওই আয়োজনের পেছনে ছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, ভয় ও চাপের পরিবেশে অনেক আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করাও কঠিন ছিল।

সাংবাদিক ও গবেষকদের মতে, বলিউডের প্রায় সবাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন ধারণা অতিরঞ্জিত; বরং বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। কেউ কেউ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কেউ হুমকির মুখে পড়েছেন, কেউ ব্যবসায়িক কারণে অপরাধ চক্রের সংস্পর্শে এসেছেন, আবার অনেকে সম্পূর্ণ দূরে থেকেছেন।

কাস্টিং ও সিনেমার ওপর প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কিছু আন্ডারওয়ার্ল্ড গোষ্ঠী নির্দিষ্ট অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে ছবিতে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। কোনো কোনো প্রযোজক দাবি করেছেন, ফোন করে নির্দিষ্ট শিল্পীকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হতো। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু মুম্বাই পুলিশের একাধিক তদন্তে চলচ্চিত্রশিল্পে অপরাধ চক্রের প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।
চলচ্চিত্র মুক্তি, বিদেশি স্বত্ব বিক্রি, সংগীত অধিকার—এসব ক্ষেত্রেও অপরাধ চক্রের আগ্রহ ছিল বলে বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিচালক রামগোপাল ভার্মার সিনেমায় বারবার উঠে এসেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প। এক্স থৈকে

যখন প্রিমিয়ারও ছিল আতঙ্কের
বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু একসময় বলিউডে সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান পর্যন্ত বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকিতে।

সম্প্রতি পরিচালক-নৃত্যপরিচালক ফারাহ খান জানিয়েছেন, করণ জোহরের প্রথম ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ মুক্তির সময়ও হুমকির কারণে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এটি প্রমাণ করে যে সমস্যা শুধু অর্থায়নেই সীমাবদ্ধ ছিল না; পুরো চলচ্চিত্রসংস্কৃতিই একসময় ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করত।

শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি: বড় মোড়
২০০০ সালের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ভারত সরকার চলচ্চিত্রশিল্পকে আনুষ্ঠানিক শিল্প খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে ব্যাংকঋণ, করপোরেট বিনিয়োগ, বীমা এবং অন্যান্য বৈধ অর্থায়নের পথ খুলে যায়। এর পাশাপাশি মুম্বাই পুলিশের বিশেষ অভিযান, সংগঠিত অপরাধবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব কমতে থাকে।

করপোরেট স্টুডিও, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারভিত্তিক বিনিয়োগের যুগ শুরু হলে চলচ্চিত্র ব্যবসা ধীরে ধীরে আরও স্বচ্ছ কাঠামোর দিকে অগ্রসর হয়।

তবু কি সব শেষ?
আন্ডারওয়ার্ল্ডের আগের সেই প্রকাশ্য দাপট এখন আর নেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে। বিভিন্ন সময় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের কাছে চাঁদাবাজির হুমকি, নিরাপত্তা জোরদার করা কিংবা গ্যাংস্টারদের নাম ঘিরে বিতর্ক সামনে এসেছে।
তবে অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, নব্বইয়ের দশকের মতো পরিস্থিতি এখন আর নেই। চলচ্চিত্রশিল্পের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে গেছে, নজরদারি বেড়েছে এবং করপোরেট জবাবদিহিও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

মিথ, বাস্তবতা ও ইতিহাস
বলিউড-আন্ডারওয়ার্ল্ড সম্পর্ক নিয়ে অসংখ্য কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। এর কিছু সত্য, কিছু অতিরঞ্জিত, কিছু এখনো রহস্যে ঢাকা। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, একসময় মুম্বাইয়ের অপরাধজগত চলচ্চিত্রশিল্পে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল। অর্থায়ন, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ—সব মিলিয়ে বলিউডের ইতিহাসের এক জটিল অধ্যায় তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে এই শিল্পের হাজারো নির্মাতা, শিল্পী ও কর্মী সেই অন্ধকার সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং বৈধ কাঠামোর ভেতরে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

পর্দায় বলিউড ও আন্ডারওয়ার্ল্ড–যোগ
১৯৭০ থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের উত্থান এবং বলিউডের সঙ্গে তাদের নানা ধরনের যোগাযোগ ভারতীয় সমাজে বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চলচ্চিত্রে অর্থ লগ্নি, তারকাদের হুমকি, চাঁদাবাজি, অপরাধ চক্রের ক্ষমতার বিস্তার—এসব বাস্তব ঘটনাই পরে জায়গা করে নেয় সিনেমার পর্দায়। নির্মাতারা কখনো বাস্তব চরিত্রের ছায়ায়, কখনো সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করেছেন অসংখ্য আলোচিত চলচ্চিত্র। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমা শুধু বক্স অফিসে সফল হয়নি, ভারতীয় অপরাধ ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।

‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’: ডনের উত্থানের কাহিনি
২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’ অনেকের মতে মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর একটি। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র সুলতান মির্জা। তিনি অপরাধজগতের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও সাধারণ মানুষের কাছে একধরনের রবিনহুড–সুলভ ভাবমূর্তি তৈরি করেন। এই চরিত্রে অভিনয় করেন অজয় দেবগন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সুলতান মির্জা চরিত্রটির পেছনে বাস্তব ডন হাজি মাস্তানের ছায়া রয়েছে। অন্যদিকে ইমরান হাশমি অভিনীত শোয়েব খান চরিত্রটি অনেকটাই দাউদ ইব্রাহিমের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। ছবিটি শুধু অপরাধ চক্রের গল্প নয়; এতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে মুম্বাইয়ের অপরাধজগত ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রশিল্পের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। ক্ষমতা, অর্থ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংঘর্ষে তৈরি এই সিনেমা দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

‘কোম্পানি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন বিবেক ওবেরয়। আইএমডিবি

‘কোম্পানি’: অপরাধ সাম্রাজ্যের ভেতরের লড়াই
রাম গোপাল ভার্মার ‘কোম্পানি’ ভারতীয় গ্যাংস্টার চলচ্চিত্রের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে দেখানো হয়, এক অপরাধ সাম্রাজ্যের জন্ম, বিস্তার এবং শেষ পর্যন্ত ভাঙনের গল্প। অজয় দেবগন ও বিবেক ওবেরয়ের অভিনয় ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সিনেমাটি দেখার সময় অনেক দর্শকই দাউদ ইব্রাহিম ও ছোট রাজনের বাস্তব সম্পর্কের প্রতিফলন খুঁজে পান। যদিও নির্মাতারা সরাসরি কোনো নাম ব্যবহার করেননি, তবু আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, বিশ্বাসঘাতকতা এবং আন্তর্জাতিক বিস্তারের বিষয়গুলো অত্যন্ত বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

হিন্দি সিনেমায় দাউদ ইব্রাহিম কীভাবে প্রভাব খাটাতেন, ফাঁস করলেন পরিচালক

‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’: রক্তাক্ত এক সকালের গল্প
১৯৯১ সালে মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালায় সংঘটিত এক বাস্তব পুলিশি অভিযানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয় ‘এই সিনেমা। ছবির গল্পে দেখা যায়, মুম্বাই পুলিশের একটি বিশেষ দল একদল কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বন্দুকযুদ্ধ। বিবেক ওবেরয় অভিনীত মায়া ডোলাস চরিত্রটি বাস্তব আন্ডারওয়ার্ল্ড সদস্যের জীবন থেকে নেওয়া। অন্যদিকে সঞ্জয় দত্ত অভিনয় করেন একজন কঠোর পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায়। এই সিনেমার বিশেষত্ব হলো, এটি অপরাধী ও পুলিশের দুই দৃষ্টিভঙ্গিই তুলে ধরে। ফলে দর্শক শুধু সংঘর্ষ নয়, তার পেছনের বাস্তবতাও দেখতে পান।

‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’: অপরাধ, সন্ত্রাস ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সংযোগ
অনুরাগ কশ্যপ পরিচালিত ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’কে অনেকেই ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সাহসী রাজনৈতিক-অপরাধভিত্তিক চলচ্চিত্র বলে মনে করেন। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই সিরিজ বোমা হামলার তদন্ত নিয়ে নির্মিত এই ছবি সাংবাদিক এস হুসেন জায়দির বই থেকে অনুপ্রাণিত। এখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে আন্ডারওয়ার্ল্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র এবং সন্ত্রাসী সংগঠন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করেছিল। চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগে নানা আইনি জটিলতায় আটকে যায়। তবে মুক্তির পর সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকেই একে ভারতীয় অপরাধভিত্তিক সিনেমার মাস্টারক্লাস বলে আখ্যা দেন।

‘ডি-ডে’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

‘ডি-ডে’: পলাতক ডনকে ধরার অভিযান
২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ডি-ডে’ সরাসরি আন্ডারওয়ার্ল্ডের আন্তর্জাতিক রূপকে সামনে নিয়ে আসে। ছবির গল্পে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন দল বিদেশে অবস্থানরত এক কুখ্যাত ডনকে দেশে ফিরিয়ে আনার মিশনে নামে। ঋষি কাপুর অভিনীত গোল্ডম্যান চরিত্রটিকে ঘিরে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়। কারণ, চরিত্রটির মধ্যে অনেকেই দাউদ ইব্রাহিমের ছায়া দেখতে পান। সিনেমাটি দেখায়, অপরাধজগত কেবল একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সময়ের সঙ্গে তা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্র, গোয়েন্দা সংস্থা ও অপরাধ চক্রের জটিল সম্পর্কও উঠে আসে ছবিতে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুন্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও আইএমডিবি অবলম্বনে

Read full story at source