সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতায় প্রতি পদে পদে নিহত হয় সম্ভাবনা: আসিফ
· Prothom Alo

পবিত্র রমজান মাস এলেই করোনাকালের দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায়—এমন মন্তব্য করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দেশের বিনোদন অঙ্গনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতার কারণেই সম্ভাবনা বারবার নষ্ট হচ্ছে।’
আসিফ আকবরফেসবুক পোস্টে আসিফ লিখেছেন, বাংলাদেশের সব সংকটের প্রতিফলন আগে পড়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে। প্রথম চালানেই বন্ধ হয় সংগীতের কার্যক্রম—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা নেই, ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না, এমনকি বাড়িওয়ালারাও ভাড়া দিতে অনাগ্রহী হন। তবু শিল্পীরা পেশা আঁকড়ে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
Visit goldparty.lat for more information.
আসিফ আকবরকরোনাকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই শিল্পী জানান, স্টুডিও বন্ধ থাকায় সে সময় মোবাইল ফোনে ঘরে বসেই রেকর্ডিং করতে হয়েছে। টেকনিশিয়ান না থাকা, নিরাপত্তা আতঙ্ক—সব মিলিয়ে সংগীতশিল্পীদের অনেকেই শহর ছেড়েছেন, কেউ প্রবাসে গেছেন, কেউ আবার পেশা বদলেছেন। তবে কঠিন সময়ে দু-একজন প্রযোজকের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি।
আসিফ আকবরসরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ আকবর লেখেন, ‘যেভাবে সরকার যায় সরকার আসে, ঠিক সেভাবেই চাটুকারের দল যায়, চাটুকারের দল আসে।’ তাঁর ভাষায়, গালভরা বুলি আর ভাঙা স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি যেন এক অন্তহীন ‘টম অ্যান্ড জেরি’র গল্প।
সবচেয়ে কড়া সমালোচনা করেন সংস্কৃতিকর্মীদের ভেতরের বিভাজন ও স্বার্থপরতা নিয়ে। তাঁর মতে, শিল্পীদের নিজেদের সংকীর্ণ মানসিকতা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বেই সম্ভাবনা ধ্বংস হচ্ছে। ‘সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতায় প্রতি পদে পদে নিহত হয় সম্ভাবনা, আর সাংস্কৃতিক বলয়ে ছড়ি ঘোরায় অভিশপ্ত পদাতিক’—লিখেছেন আসিফ আকবর।
পোস্টের শেষে করোনাকে শিক্ষা ও আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ‘মহামারি চলে গেলেও আমরা শিক্ষা গ্রহণ করিনি; বরং বিপদ কেটে যেতেই আবারও অহংকারে ফিরে গেছি।’