সুইজারল্যান্ডে প্রতি ৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন কোটিপতি, ধনী হওয়ার সুইস সূত্রগুলো জানুন

· Prothom Alo

ধনী হতে চাইলে বেশির ভাগ মানুষ মার্কিনদের নকল করতে চান। সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপ, ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজার কিংবা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার গল্পগুলো আমাদের দারুণ টানে। কিন্তু এখানেই একটা মস্ত ভুল লুকিয়ে আছে। ইউবিএস ও ক্রেডিট সুইসের গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্টের মতো নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিবেদনগুলো ঘাঁটলে এক অদ্ভুত সত্য সামনে আসে। সুইজারল্যান্ডে প্রতি সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে একজন কোটিপতি! এই হার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। অথচ গড় আয়ের দিক থেকে সুইজারল্যান্ড হয়তো বিশ্বের শীর্ষ দেশের তালিকায় ওপরের দিকে থাকবে না। তাহলে তাঁদের এই অবিশ্বাস্য সম্পদের পেছনের জাদুকরী রহস্যটা কী? এ সাফল্যের মূলে আসলে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নেই, আছে তাঁদের জীবনযাপন ও কিছু অলিখিত নিয়ম। চলুন, সুইসদের সেই সাতটি নীরব শৃঙ্খলার কথা জেনে নিই, যা বেশির ভাগ মানুষই এড়িয়ে যান।

Visit catcrossgame.com for more information.

১. বাড়ি কেনার মোহ নেই

সুইজারল্যান্ডে ৪১ শতাংশ মানুষ নিজের বাড়ির মালিক

যুক্তরাষ্ট্র বা আমাদের দেশে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো নিজের একটা বাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ নিজের কেনা বাড়িতে থাকেন। কিন্তু সুইসদের হিসাবটা একেবারে উল্টো। সেখানে মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষ নিজের বাড়ির মালিক।

তাঁরা ইচ্ছা করেই সারা জীবন ভাড়া বাড়িতে থাকেন। এর কারণ হলো, তাঁরা নিজেদের সব নগদ টাকা ইট-পাথরে আটকে রাখতে চান না। তাঁরা মনে করেন, গর্ব, অহংকার বা সামাজিক স্ট্যাটাসের চেয়ে নগদ টাকা বা ‘লিকুইডিটি’ অনেক বেশি দরকারি।

বাড়ির পেছনে যে বিশাল অঙ্কের টাকাটা জমানো হতো, সেটা তাঁরা অন্যান্য লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করেন।

২. সঞ্চয়টাই তাঁদের প্রথম বিল

বেতন পাওয়ার পর প্রথমেই তাঁরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা সঞ্চয়ের খাতে সরিয়ে ফেলেন সুইসরা

সাধারণ মানুষ মাসের শেষে খরচ করার পর যা বাঁচে, তা জমান। সুইসরা এই নিয়মের ঠিক উল্টো পথে হাঁটে। বেতন পাওয়ার পর প্রথমেই তাঁরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা সঞ্চয়ের খাতে সরিয়ে ফেলেন।

এটিকে তাঁরা বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের মতোই বাধ্যতামূলক মনে করেন। এখানে কোনো মোটিভেশন বা ইচ্ছাশক্তির ব্যাপার নেই, পুরোটাই স্বয়ংক্রিয় নিয়মের খেলা। খরচের আগে জমানোই তাঁদের মূলমন্ত্র।

সম্পর্ক গোপন রাখলে কি ঘনিষ্ঠতা বাড়ে

৩. ডিগ্রির চেয়ে স্কিলের কদর বেশি

সুইসরা প্রতিবছর তাঁদের আয়ের ৫ থেকে ১০ শতাংশ খরচ করেন নতুন কিছু শেখার পেছনে

সুইসরা শুধু দামি ডিগ্রি বা গালভরা পদবির পেছনে ছোটেন না। তাঁরা প্রতিবছর তাঁদের আয়ের ৫ থেকে ১০ শতাংশ খরচ করেন নতুন কিছু শেখার পেছনে। নতুন ভাষা শেখা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো বা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি অর্জনই তাঁদের লক্ষ্য।

কারণ, তাঁরা জানেন, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির চেয়ে একটি নতুন ও যুগোপযোগী দক্ষতা তাঁদের আয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. এক ব্যাংকে ভরসা নয়

সুইস কোটিপতিরা তিন থেকে পাঁচটি ব্যাংক ব্যবহার করেন

আমরা সাধারণত একটি বা দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করি, কিন্তু সুইস কোটিপতিরা তিন থেকে পাঁচটি ব্যাংক ব্যবহার করেন। দৈনন্দিন খরচের জন্য একটি, বিনিয়োগের জন্য আরেকটি ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য অন্য একটি।

এটি কোনো ভয় থেকে নয়; বরং সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখার চিরন্তন বিনিয়োগ নীতিরই একটা অংশ। এটিকে তাঁরা বলেন বিকল্প পথ খোলা রাখা।

৫. নীরব সম্পদ

আয়ের চেয়ে অনেক কম খরচ করে জীবন কাটান এবং উদ্বৃত্ত টাকা নীরবে বিনিয়োগ করতে থাকেন সুইসরা

সুইসদের কাছে ধনী মানেই রাস্তায় দামি স্পোর্টস কার হাঁকানো বা গায়ে বড় বড় ব্র্যান্ডের লোগোওয়ালা জামা পরা নয়। তাঁরা ‘স্টিলথ ওয়েলথ’–এ বিশ্বাস করেন। আয়ের চেয়ে অনেক কম খরচ করে জীবন কাটান এবং উদ্বৃত্ত টাকা নীরবে বিনিয়োগ করতে থাকেন।

এর মানে এই নয় যে তাঁরা কৃপণতা করেন; তাঁরা কেবল ক্ষণিকের লোকদেখানো জাঁকজমকের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি তৃপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

কৃতজ্ঞতা কীভাবে আপনাকে এবং আপনার মস্তিষ্ককে বদলে দেয়

৬. শুরু থেকেই বৈশ্বিক চিন্তা

সুইসরা ধনী হওয়ার পর বিশ্ব নিয়ে ভাবেন না; বরং ধনী হওয়ার জন্যই তাঁরা বৈশ্বিক চিন্তা করেন

সুইস বিনিয়োগকারীরা শুধু নিজেদের দেশের গণ্ডিতে আটকে থাকেন না। তাঁরা সম্পদ, নাগরিকত্ব ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের কথা মাথায় রাখেন। ধনী হওয়ার পর তাঁরা বিশ্ব নিয়ে ভাবেন না; বরং ধনী হওয়ার জন্যই তাঁরা বৈশ্বিক চিন্তা করেন।

৭. ধৈর্যই আসল জাদু

সুইসদের কাছে সম্পদ মানে শুধু টাকা আয় করা নয়; বরং সেই টাকা ধরে রাখা, রক্ষা করা এবং সময়ের হাতে ওই টাকা বহুগুণ বাড়তে দেওয়া

রাতারাতি ধনী হওয়ার কোনো শর্টকাট সুইসদের অভিধানে নেই। তারা ইঁদুরদৌড়ে বিশ্বাসী নন; বরং ধীরে ধীরে এগোতে পছন্দ করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সম্পদ কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সেটাই তাঁদের চিন্তার মূল জায়গা।

শেষ কথা

রাতারাতি ধনী হওয়ার কোনো শর্টকাট সুইসদের অভিধানে নেই

সুইসদের এই মডেল খুব সহজ, কিন্তু মানাটা বেশ কঠিন। কারণ, সুইসদের কাছে সম্পদ মানে শুধু টাকা আয় করা নয়; বরং সেই টাকা ধরে রাখা, রক্ষা করা এবং সময়ের হাতে ওই টাকা বহুগুণ বাড়তে দেওয়া। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই, কোনো হইচই নেই। আছে শুধু নীরব এক শৃঙ্খলা।

এখন প্রশ্ন হলো, আপনি কি মার্কিনদের মতো দ্রুত ছুটতে চান, নাকি সুইসদের মতো এই নীরব শৃঙ্খলার পথে হাঁটার মতো যথেষ্ট ধৈর্য আপনার আছে? এই প্রশ্নের উত্তরই বলে দেবে, আপনি ভবিষ্যতে কেমন জীবন যাপন করবেন!

সূত্র: ইটস ফিন্যান্সিয়াল এডুকেটর

কে এই সোফি শাইন, যাঁকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন শিখর ধাওয়ান

Read full story at source