স্বাস্থ্যের অন্ধচক্র, নতুন মন্ত্রীদ্বয় ও চারটি প্রশ্ন
· Prothom Alo

বিএনপি নির্বাচনের আগে বেশ কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা ও সমাধানগুলো বোঝার চেষ্টা করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রাক্-প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি পর্বে সময় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কথা শুনেছেন, প্রশ্ন করেছেন। দলীয় বলয়ে একটা স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ দলের সম্মিলন ঘটেছে। দুর্দশাগ্রস্ত স্বাস্থ্য খাত, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে লিখেছেন ইশতিয়াক মান্নান
Visit albergomalica.it for more information.
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিনন্দন। আশা করছি, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে দুর্দশাগ্রস্ত স্বাস্থ্য খাতকে উজ্জীবিত করতে তাঁরা কার্যকর নেতৃত্ব দেবেন।
আজকের লেখার একটু পূর্বকথন দরকার। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে তৎকালীন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করণীয় নিয়ে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যে বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম।
তার পর থেকে পদ্মা-যমুনায় অনেক জল গড়ালেও, আমাদের স্বাস্থ্য খাতের কোনো উন্নতি তো হয়ইনি; বরং সমস্যা বেড়েছে। তাই সেই লেখা পুনর্মুদ্রণ করে দিলেও নতুন মন্ত্রীদ্বয়ের বিবেচনার জন্য পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক হতো।
পরিবর্তিত বাস্তবতায় ও বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে আগের লেখার ধারাবাহিকতায় কিছু করণীয়র ব্যাপারে একটু বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
২.
নির্বাচনী অঙ্গীকারে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, সুশাসনের জন্য কাঠামো তৈরি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ, দরিদ্রের জন্য সুরক্ষা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, ব্যক্তি খাত থেকে স্বাস্থ্যসেবা ক্রয়, দুর্নীতি রোধ ইত্যাদি সব প্রয়োজনীয় ও সঠিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অঙ্গীকারের মূলনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এই অঙ্গীকারনামা থেকে বোঝা যায় যে বিএনপি নির্বাচনী পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি ভালো নিয়েছে এবং সেইমতো অঙ্গীকারগুলো জনসমক্ষে এনেছে।
বিএনপি নির্বাচনের আগে বেশ কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা ও সমাধানগুলো বোঝার চেষ্টা করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রাক্-প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি পর্বে সময় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কথা শুনেছেন, প্রশ্ন করেছেন।
আশার কথা এই যে দলীয় বলয়ে একটা স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ দলের সম্মিলন ঘটেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে স্বাস্থ্য নিয়ে এই পর্যায়ের কারিগরি বিশ্লেষণ এর আগে হয়নি।
এবার বাস্তবায়নের পালা—যাত্রাপথের কঠিনতম পর্ব।
স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ সরকারকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে৩.
যেহেতু পর্যাপ্ত ‘হোমওয়ার্ক’ করা আছে, আমাদের মন্ত্রী মহোদয়দের শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। দরকার হবে শুধু আমলাদের ব্রিফিংয়ের ওপর নির্ভর না করে, সেগুলো হৃদয়ঙ্গম করা এবং নিজেদের বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার তৈরি করা।
একদিকে জনগণের প্রত্যাশা, দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং অন্যদিকে বাস্তবতা—এই ত্রিভুজ সমীকরণে অগ্রাধিকার নির্বাচনের কাজটিও সহজ নয়; বরং খুবই কৌশলী একটি বিষয়।
চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের খোলনলচে পাল্টানো দরকার। অঙ্গীকারের বেশ কিছু অংশ বাস্তবায়ন করতে হলে আইনি ও কাঠামোগত পরিবর্তন লাগবে (যেমন যুক্তরাজ্যের এনএইচএস মডেল, অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ইত্যাদি)। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এগুলো স্বল্প মেয়াদের কাজ নয়।
শুনতে একটু কঠিন শোনালেও, ‘পরাক্রমশালী’ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মনোবল ও জেদ না থাকলে এই দেশের আমলাতন্ত্র নামক কৃষ্ণগহ্বর থেকে এই পর্যায়ের সংস্কার বা পরিবর্তন বের করে আনা দুরূহ।
আমি জানি না, সরকারি দল প্রস্তুতি পর্বে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের কৌশল এবং মোটাদাগের পথরেখা নিয়ে ভাবার সময় পেয়েছে কি না, না পেয়ে থাকলে সেটা দ্রুতই করতে হবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে চিহ্নিত করা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের একটি সমস্যা হিসেবে।
নিয়োগ, পদায়ন-বদলি, পদোন্নতি, শিক্ষা, ক্রয়—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দলীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও প্রভাবের যে ব্যাপক অভিযোগ আছে, তা থেকে কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ও তার উপদলগুলো মোটেও মুক্ত নয়।
আইন এবং দলের প্রভাব/ প্রয়োজন—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট সীমানা টেনে শুরু থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
৪.
যেকোনো সরকারে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হলে একটা জনপ্রিয় বিতর্কের বিষয়, তিনি চিকিৎসক বা ডাক্তার কি না।
ডাক্তার কিংবা ডাক্তার নন, এমন মন্ত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি বিচারে বা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের বিচারে পারফরম্যান্সের দিক থেকে খুব দৃশ্যমান পার্থক্য চোখে পড়েনি।
গত ৩০ বছরে কোনো স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেই স্বাস্থ্য খাতের নীতি বা কাঠামো পরিবর্তনে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি; তাঁরা আমলানির্ভর ‘বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল’ চালিয়ে গেছেন এবং অন্যান্য বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেহেতু ডাক্তার নন, তাই এই সেক্টরের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠী ডাক্তারদের নৈকট্য, আস্থা অর্জন তো তাঁকে করতেই হবে; উপরন্তু তাঁদের পেশাগত সমস্যাগুলো বুঝতে হবে, সমাধানও করতে হবে।
সব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমার পরামর্শ হবে, অঙ্গীকারের মধ্যে যে ‘ই-হেলথ কার্ড’–এর কথা আছে, সেটাকে ধরে শুরু করুন। স্বাস্থ্য খাতের সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় ও ডিজিটাল ব্যবস্থানির্ভর করে ফেলুন। এই কাজে অনেক অগ্রগতি থাকলেও সমন্বিত দিকনির্দেশনার অভাবে পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় বিস্তৃতি হয়নি।
অন্যদিকে তিনি দেখবেন যে অনেক নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কাঠামোগত পরিবর্তন যখন ডাক্তারদের গোষ্ঠীস্বার্থ ক্ষুন্ন করে, তাঁরা তখন জোটবদ্ধ হয়ে যান—অতীতে এমন উদাহরণ আছে।
স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তারদের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় কাজ করেন নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিক্যাল সহকারী, পরিবারকল্যাণ সহকারী—এমন অনেক কর্মকর্তা–কর্মচারী। এঁরাও তাঁদের নিজস্ব স্বার্থরক্ষায় অত্যন্ত সচেতন।
আশা করি, মন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, পোড় খাওয়া অভিজ্ঞতা, দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন এবং জনমানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার আলোকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সমুন্নত রাখতে পারবেন গোষ্ঠীস্বার্থের ওপরে।
প্রতিমন্ত্রী মহোদয় যেহেতু বিলেতে অধ্যাপনা করেছেন এবং সরাসরি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, তাই তিনি যদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের নিয়ে এ দেশে দক্ষতাভিত্তিক চিকিৎসাশিক্ষা/ প্রশিক্ষণ, গবেষণা, মানভিত্তিক চিকিৎসাসেবা প্রদান ও গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করেন, তাহলে এই খাত উপকৃত হবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষায় এনএইচএস মডেল–সংক্রান্ত তাঁর অভিজ্ঞতা মূল্যবান হবে।
৫.
অঙ্গীকারের সবচেয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উপাদানটি হচ্ছে প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ও অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর ওপর মনোযোগ।
এই দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে নিয়ে আসা খুব দরকার, তা না হলে সীমিত সম্পদের দেশে এই ব্যবস্থার উন্নতি তো দূরের কথা, ন্যূনতম মান ধরে রাখাও কঠিন হবে।
কিন্তু এ কাজগুলোতে হাত দেওয়ার আগে আমাদের মধ্যে যে ‘রোগতাত্ত্বিক পরিবর্তন’ (এপিডেমিওলজিক্যাল ট্রানজিশন) হয়েছে, সেটা বোঝা দরকার। এই দেশের মানুষের রোগের প্রভাব বা চাপ (বার্ডেন) এবং ধরন (প্রোফাইল) ও সেগুলোর আগামী কয়েক দশকের প্রক্ষেপণ এখনো করা হয়নি।
এই বিশ্লেষণ ও প্রক্ষেপণই হবে স্বাস্থ্য খাতের সব পরিকল্পনার ভিত্তি; কাঠামো, জনবল, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, বরাদ্দ, বিনিয়োগ—সবকিছুর।
আমরা যেন স্বাস্থ্যকর্মীর পদ তৈরি ও নিয়োগের আগে একটু উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও প্রযুক্তিমুখী হই; ইন্টারনেট, ‘পয়েন্ট অব কেয়ার’ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সব মিলিয়ে এই প্রস্তাবিত নতুন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা হয়ে উঠতে পারেন যুগান্তকারী পরিবর্তনের এজেন্ট।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার: সরকার যেভাবে সুপারিশ বাস্তবায়ন শুরু করতে পারে৬.
বলা হয়, যে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সম্পর্ক যত ভালো, সে দেশের স্বাস্থ্যের অবস্থাও তত ভালো। এই হালকা কথার একটা গভীর তাৎপর্য আছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার হচ্ছে যে ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশ করা হবে, যা এখন ১ শতাংশের কম। পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা বলে মনে হয়েছে।
মন্ত্রীদ্বয় আর কয়েক মাসের মধ্যেই বুঝতে পারবেন যে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর মূল বাধা স্বাস্থ্য খাত নিজেই; অর্থাৎ তার সুনাম ও সক্ষমতার প্রবল ঘাটতি। এই খাত যে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ঠিকমতো খরচ করতে পারে না, এই অপবাদ তাঁরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন।
এই ‘অন্ধ চক্র’ ভাঙতে হলে প্রধানমন্ত্রী, দলের নীতিনির্ধারক, সংশ্লিষ্ট আমলা—সবাইকে স্বাস্থ্যের দলে টানতে হবে। একদিকে যেমন তাঁদের সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে, বারবার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করতে হবে; অন্যদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য পরিমাপযোগ্য পরিকল্পনায় রূপান্তর করতে হবে।
দল ভারী করতে মাননীয় মন্ত্রীদ্বয় ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিয়ে একটা সংসদীয় ককাস করার কথা ভাবতে পারেন। এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের। অগ্রাধিকারভুক্ত কাজগুলোকে মাথায় রেখে সংসদে ও দলীয় পরিমণ্ডলে এ ধরনের একটা সহযোগী প্রেশার গ্রুপ কাজে দিতে পারে।
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়ে এই বৈষম্য কবে দূর হবেএই পাহাড়প্রমাণ সমস্যা, প্রত্যাশা ও অঙ্গীকারের সামনে আমাদের মন্ত্রীদ্বয় এই ভেবে অসহায় বোধ করতে পারেন যে কোথায় শুরু করা যায়।
সব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমার পরামর্শ হবে, অঙ্গীকারের মধ্যে যে ‘ই-হেলথ কার্ড’–এর কথা আছে, সেটাকে ধরে শুরু করুন। স্বাস্থ্য খাতের সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় ও ডিজিটাল ব্যবস্থানির্ভর করে ফেলুন। এই কাজে অনেক অগ্রগতি থাকলেও সমন্বিত দিকনির্দেশনার অভাবে পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় বিস্তৃতি হয়নি।
এই ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগ, সেবা প্রদানে দক্ষতা, সুশাসন, মনিটরিং, পরিকল্পনা, মাননিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি রোধসহ বহু কাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি সুবিধাজনক কাঠামো ও পরিবেশ তৈরি করে দেবে।
কাজটি অপেক্ষাকৃত সহজ, সুনির্দিষ্ট, পৃথিবীব্যাপী অনেক মডেল আছে এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। দুই বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও সুফল পাওয়া সম্ভব।
৭.
শেষ করব মাননীয় মন্ত্রীদ্বয়কে চারটি প্রশ্ন দিয়ে। এই প্রশ্নগুলো তাঁরা যদি সব সময় বিবেচনায় রাখেন, তাহলে করণীয় বুঝতে পাবেন।
এক. স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য জনগণের পকেট থেকে টাকা খরচ কি কমেছে? (বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকায় ৭৩ টাকা মানুষ নিজের পকেট থেকে খরচ করেন, যা পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ)
দুই. পরিমাপযোগ্য এবং দৃশ্যমানভাবে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান কি বেড়েছে? জনগণ কি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে খুশি?
তিন. যাঁর যা স্বাস্থ্যসেবা দরকার, তা কি তিনি সঠিক সময়ে, পরিমাণে ও সেরা গুণগত মানে নিতে পেরেছেন?
চার. ওপরের তিনটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সূচকের তথ্য কি আপনার সেলফোনে থাকা বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন?
আগামী দিনগুলোতে প্রতিদিন না হলেও, অন্তত মাসে একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা নিজেরাই যদি নিজেদের এই প্রশ্নগুলো করেন এবং নির্মোহভাবে উত্তরগুলো বিবেচনা করেন, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।
আর যদি ভুলে যান, আমরা আবার ২০৩০ সালের শেষে এসে বিনীতভাবে এই প্রশ্নগুলো তাঁদের মনে করিয়ে দেব।
ইশতিয়াক মান্নান আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ। দুর্দশাগ্রস্ত ও সংঘাতপীড়িত দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন
*মতামত লেখকের নিজস্ব
[২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রথম আলো ছাপা সংস্করণে এ লেখা দুর্দশাগ্রস্ত স্বাস্থ্য খাত, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও নতুন মন্ত্রীদ্বয়—এ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।]