মনু নদের পাড়ে ফাগুনের ফুলেল উচ্ছ্বাস
· Prothom Alo
‘আহা আজি এ বসন্তে/এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে/এত পাখি গায়’—কবিতার সেই পঙ্ক্তিগুলোর আবহ যেন ছড়িয়ে আছে চারপাশে। কোথাও বাঁশির সুর না-ও বাজতে পারে। তবে গাছে গাছে ঠিকই ফুটেছে বাহারি ফুল, গান গাইছে চেনা পাখিরাও। প্রকৃতি আপন খেয়ালে মেতে উঠেছে রং আর রূপের উল্লাসে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
প্রকৃতিতে এখন বসন্ত। মৌলভীবাজার শহরসংলগ্ন মনু নদের পাড়ে সেই বসন্তের রঙিন ছোঁয়া স্পষ্ট। গাছে গাছে নানা ফুল, গুনগুন করে উড়ছে ভ্রমর, পাখিদের আনাগোনা বেড়েছে ডালপালায়। সেখানে ফুলের সঙ্গে কচি পাতার মিতালি। শহরের শান্তিবাগ ওয়াকওয়ে এখন বসন্তের রূপে সেজে উঠেছে। প্রাতঃভ্রমণকারী, পথিক কিংবা দর্শনার্থী—সবার দৃষ্টি যেন চেনা-অচেনা এসব ফুলের দিকে, রঙের দিকে।
সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, মনু নদের পাড়ের এই খোলা প্রান্তরজুড়ে ফুটেছে নানা ফুল। চেনা প্রজাতির পাশাপাশি আছে বেশ কিছু অচেনা অতিথিও। কালো ভ্রমর ডানা মেলে ফুলে ফুলে বসছে। ওয়াকওয়ের যেদিকেই চোখ যায়, কোনো না কোনো ফুলের দেখা মিলছে।
এর মধ্যে নজর কাড়ছে গ্লিরিসিডিয়া, যা ফাল্গুনিমঞ্জরি বা ফাগুনমঞ্জরি নামেও পরিচিত। এটি দেশীয় গাছ না হলেও বহুদিন ধরে এ দেশে আছে। ওয়াকওয়ের দুটি গাছে এখন যেন ফুলের উৎসব। পাতাঝরা শাখায় হালকা গোলাপি-সাদার মিশ্রণে থোকা থোকা ফুল উপচে পড়ছে। নিষ্পত্র ডালে ফুলের এই উচ্ছ্বাস বসন্তের আগমনী বার্তা আরও জোরালো করে।
গ্লিরিসিডিয়া ফুলে সেজেছে গাছের শাখাওয়াকওয়ের আরেক আকর্ষণ বাটারকাপ ট্রি। দুটি গাছেই এখন হলুদ ফুল ফুটেছে। ঝুলে থাকা ফুলের ভারে নুয়ে পড়েছে ডাল। অনেক শাখাতেই পাতা নেই, কেবল ফুলের উচ্ছ্বাস। দূর থেকেই চোখে পড়ে উজ্জ্বল হলুদ রং। দক্ষিণ আমেরিকাজাত এই ছোট আকারের গাছ সাধারণত ২০ থেকে ২৫ ফুট লম্বা হয়।
এ ছাড়া ওয়াকওয়েতে আছে মরু ক্যাসিয়া যা ডেজার্ট ক্যাসিয়া, ক্রিসমাস বুশ বা উইন্টার ক্যাসিয়া নামেও পরিচিত। অন্তত দুটি গাছে এখন উজ্জ্বল হলুদ ফুলের সমারোহ। ছোট পাতার ফাঁকে ফাঁকে চলছে হলুদের উৎসব। আধা চিরহরিৎ এ গুল্ম বা ছোট গাছ সাধারণত ৮ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়।
গাছের শাখায় শাখায় কাঞ্চনের উচ্ছ্বাসকয়েকটি কাঞ্চন গাছেও ফুল ফুটেছে। গোলাপি, বেগুনি ও সাদা রঙের ফুলে গাছজুড়ে উচ্ছ্বাস। রক্তকাঞ্চন ও অর্কিড কাঞ্চনের গাছও রয়েছে একাধিক। অশোক গাছেও ডাল ফুঁড়ে এসেছে ফুল। চিরসবুজ এ মাঝারি আকৃতির বৃক্ষের তাজা ফুল কমলা, পরে তা লালচে হয়। ছোট ছোট ফুল গুচ্ছাকারে বড় মঞ্জরিতে ফুটে শাখাকে ভরিয়ে তোলে।
একটি বাগানবিলাসগাছে এখন কেবল ফুলের মেলা—পাতা নেই বললেই চলে। দু-একটি কাঠগোলাপগাছেও ফুটেছে সাদা-হলুদ রঙের কোমল ফুল। আরও কিছু গাছে কুঁড়ি দেখা যাচ্ছে—হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলোও বসন্তের রঙে ভরে উঠবে।
ফুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে পাতার রং। শাখায় শাখায় ফুটছে পীত, বেগুনি আভাযুক্ত কচি পাতা। সবকিছুর মধ্য দিয়ে নীরবে যেন প্রকৃতি গেয়ে যায়—‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান।’