রোদে বের হলেই ত্বক কালচে দেখায়, স্কিনকেয়ারে চাই পরিবর্তন
· Prothom Alo

আসছে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্ম মানেই রোদ, আর্দ্রতা আর ঘামে ভেজা দিন। আমাদের দেশে গরমের সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চ আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ। ফলে ত্বক একদিকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ করে, অন্যদিকে পানিশূন্যতায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ব্রণ, র্যাশ, ট্যান, পিগমেন্টেশন কিংবা সংবেদনশীলতা সবকিছুই যেন বাড়ে এই সময়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মে সুস্থ ত্বক পেতে বেশি প্রসাধনী নয়, প্রয়োজন সঠিক উপাদান ও ধারাবাহিক যত্ন। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মানুষের সাধারণ ত্বকের ধরণ—তৈলাক্ত, মিশ্র ও সংবেদনশীল—বিবেচনায় একটি কার্যকর রুটিন হতে পারে এমন:
Visit asg-reflektory.pl for more information.
কোমল ক্লিনজিং—অতিরিক্ত নয়, সঠিকভাবে
বাংলাদেশের আর্দ্র গরমে ত্বক দ্রুত ঘেমে যায় এবং রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে ব্রণ দেখা দিতে পারে। তবে ঘন ঘন কড়া ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়, ফলে ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে শুরু করে।
তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য হালকা জেলভিত্তিক ক্লিনজার ভালো। শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে সালফেটমুক্ত কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্রণপ্রবণ ত্বকে উপকারী, আর নিয়াসিনামাইড অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। দিনে দু’বার—সকাল ও রাতে—মুখ পরিষ্কার করাই যথেষ্ট।
সকালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা
বাংলাদেশে গ্রীষ্মে সূর্যের তাপমাত্রা যেমন বেশি, তেমনি অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবও তীব্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ধুলা ও দূষণ। ফলে ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, যা পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্য ডেকে আনে।
সকালে হালকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিরাম ব্যবহার করলে ত্বক বাড়তি সুরক্ষা পায়। ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে, নিয়াসিনামাইড ত্বকের বাধা শক্তিশালী করে, আর ফেরুলিক অ্যাসিড অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বাড়ায়। সানস্ক্রিনের আগে এই ধাপটি বিশেষভাবে কার্যকর।
সানস্ক্রিন: প্রতিদিন অপরিহার্য
বাংলাদেশের প্রখর রোদে সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে বের হওয়া মানে ত্বককে ঝুঁকির মুখে ফেলা। অন্তত এসপিএফ ৩০, তবে খোলা রোদে থাকলে এসপিএফ ৫০ ব্যবহার করাই ভালো। অবশ্যই ইউভিএ ও ইউভিবি—দুই ধরনের সুরক্ষা থাকতে হবে।
আর্দ্র আবহাওয়ায় জেল বা ম্যাট ফিনিশ সানস্ক্রিন বেশি আরামদায়ক। বাইরে থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পুনরায় ব্যবহার জরুরি। ঘরের ভেতরেও জানালার পাশে বসলে সূর্যের প্রভাব পড়তে পারে—এ বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
হালকা ময়েশ্চারাইজারেই সুরক্ষা
গরমে অনেকেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কিন্তু এতে ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়, সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং তেল নিঃসরণও বাড়তে পারে।
অয়েল-ফ্রি ও নন-কমেডোজেনিক জেল ময়েশ্চারাইজার গরমে উপযোগী। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে ভারী অনুভূতি ছাড়াই। সেরামাইড ত্বকের প্রাকৃতিক বাধা মজবুত করে, যা আর্দ্র গরমে খুবই প্রয়োজনীয়।
পিগমেন্টেশন ও ব্রণে সচেতন পদক্ষেপ
বাংলাদেশে সূর্যের তীব্রতা ও ঘামের কারণে ট্যান ও ব্রণ বাড়তে দেখা যায়। তাই হঠাৎ কড়া চিকিৎসা না নিয়ে নির্দিষ্ট উপাদান ব্যবহার করাই ভালো।
পিগমেন্টেশনের ক্ষেত্রে আলফা আরবুটিন, কোজিক অ্যাসিড বা ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড উপকারী হতে পারে। ব্রণের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কার্যকর, তবে বেনজয়েল পারঅক্সাইড বা রেটিনয়েড ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত—কারণ গরমে ভুল প্রয়োগে ত্বক সহজেই জ্বলে যেতে পারে।
প্রয়োজন হলে পেশাদারি যত্ন
শুধু ঘরোয়া রুটিন নয়, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে কিছু ট্রিটমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। হাইড্রেটিং ফেশিয়াল ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার ও সতেজ করে। পিগমেন্টেশন বা ব্রণের জন্য উপযোগী কেমিক্যাল পিল বা লেজার চিকিৎসাও করা যায়, তবে অবশ্যই সঠিক সুরক্ষা মেনে।
ভেতর থেকে যত্ন
ত্বকের সুস্থতা শুধু বাহ্যিক পরিচর্যায় সীমাবদ্ধ নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, তরমুজ, আমড়া, পেয়ারা বা লেবুর মতো মৌসুমি ফল খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল-চিনি কমানো ত্বকের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনে রোদ এড়িয়ে চলা, ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের গ্রীষ্ম কঠিন—তবে সঠিক উপাদান, হালকা টেক্সচার এবং নিয়মিত যত্নে ত্বক থাকতে পারে উজ্জ্বল ও স্থিতিশীল। মনে রাখবেন, গরমে সুস্থ ত্বকের চাবিকাঠি হলো কম পণ্য, কিন্তু সঠিক পণ্য—নিয়মিত ও সচেতন ব্যবহার।
ছবি: এআই