বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, প্রেমিকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

· Prothom Alo

রাজধানীর কাফরুল এলাকায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় প্রেমিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের (৩২) আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

Visit truewildgame.online for more information.

রায়ে বলা হয়েছে, আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া রায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতে রাখার কথাও বলা হয়েছে। ওই সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগীর সন্তানের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ভুক্তভোগীর বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যদি আসামির সম্পত্তি থেকে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব না হয়, তবে রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব নেবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।

মামলাটির বিচারকালে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের পূর্বপরিচয় ছিল। ঘটনার ১১ মাস আগে ভুক্তভোগীর স্বামীর মৃত্যু হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি তাঁর বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকার একটি বাসায় ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন আসামি। পরে বিষয়টি প্রকাশ না করতে তিনি বিয়ের আশ্বাস দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিয়ের কথা বলে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি একইভাবে বিয়ের কথা বলে বাসায় গিয়ে আবারও তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানালে আসামি বিয়ে করতে টালবাহানা করতে থাকেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাফরুল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী।

তদন্ত শেষে একই বছরের ২৫ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক আকলিমা আক্তার।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের ফলে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী একটি সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের দুই সপ্তাহ পর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রমাণিত হয়, শিশুটির জৈবিক পিতা আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন।

Read full story at source