মার্কিন তেল অবরোধের মুখে তৃতীয়বারের মতো বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে কিউবা

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর সংকটের মধ্যে শনিবার কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এ নিয়ে চলতি মার্চ মাসে দেশটিতে তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয় (ব্ল্যাকআউট) দেখা দেয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন কিউবান ইলেকট্রিক ইউনিয়ন দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এই ব্ল্যাকআউটের ঘোষণা দিলেও প্রাথমিকভাবে এর কোনো কারণ জানায়নি।

Visit h-doctor.club for more information.

পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি জানায়, কামাগুয়ে প্রদেশের নুয়েভিতাস তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি উৎপাদন ইউনিট আকস্মিক বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মুহূর্ত থেকে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত অন্য ‘মেশিনগুলোতেও’ একের পর এক গোলযোগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল এবং পানি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে ‘মাইক্রো-আইল্যান্ড’ জেনারেটর ইউনিটগুলো চালু করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পুরোনো অবকাঠামোর কারণে গত দুই বছরে কিউবায় দেশজুড়ে বা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই অবকাঠামোগত সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানিসংকট, যার ফলে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। শনিবারের এই ঘটনা এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় এবং চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো ব্ল্যাকআউট।

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে কিউবার বহু মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। টর্চের আলোতে রান্নাঘরে কাজ করছেন একজন নারী। ১৬ মার্চ ২০২৬

বিদ্যুৎ বিপর্যয় কিউবার স্বাভাবিক জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এর ফলে কর্মঘণ্টা কমে গেছে, মানুষের রান্নাবান্না ও খাবার সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং হাসপাতালগুলো কিছু অস্ত্রোপচার বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, তিন মাস ধরে দ্বীপরাষ্ট্রটি বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোনো তেল পায়নি। কিউবা তার অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার পুরোনো গ্রিড ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার এই বিদ্যুৎ-সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করেছে। গত জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কিউবার কাছে তেল বিক্রেতা বা সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাকে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং রাজনীতি ও অর্থনীতিতে উদারীকরণের শর্ত দিয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্প কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ করার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন।

কিউবার জ্বালানিসংকটের আরেকটি বড় কারণ হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়া। এর ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের সঙ্গে কিউবাকে যেভাবে ধ্বংসে মেতেছেন ট্রাম্প

Read full story at source