৯২ শতাংশ আমানতই লাখ টাকার
· Prothom Alo
ক্ষুদ্র ও ছোট আমানতকারীরাই এখনো ব্যাংকের প্রধান চালিকা শক্তি। তাঁদের আমানতে বড় হচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলো। ছোট ছোট আমানত সহজে টানতে ডিজিটালসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ব্যাংকগুলো, যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংক আমানতে। এ ছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো প্রবাসী আয়ও ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ৯২ শতাংশই এক কোটি টাকার কম আমানত আছে এমন হিসাবধারীদের। ৮ শতাংশ আমানত রয়েছে, যাঁদের হিসাবে এক কোটি টাকার বেশি জমা আছে। আর পুরো ব্যাংক আমানতের মধ্যে ১৩ শতাংশই ২ লাখ টাকার কম আমানত আছে এমন হিসাবধারীদের। ২ লাখ থেকে ২৫ লাখ পর্যন্ত আমানতের হিস্যা ব্যাংকের মোট আমানতের ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের আমানতকাঠামো মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্তরের সঞ্চয়কারীদের আমানতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সব ব্যাংকেরই ছোট বা খুচরা আমানত বাড়ানোর লক্ষ্য থাকে। এসব আমানত টেকসই, যা সহজে একবারে উত্তোলন হয় না। এ ছাড়া খুচরা আমানতে সুদহারও কম থাকে। যেসব ব্যাংকের খুচরা আমানত যত বেশি, সেসব ব্যাংকের ভিত্তি তত মজবুত।
আমানত বাড়ল কত
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্যাংক আমানতে সাড়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংকে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা গত বছর শেষে বেড়ে হয়েছে ২১ লাখ ৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। গত বছর শেষে যা বেড়ে হয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানত প্রবৃদ্ধির নেতৃত্বে ছিল। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। আর রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। বড় আমানতের চেয়ে ছোট আমানত বেশি বেড়েছে। ব্যাংক খাতে ২০২৪ সাল শেষে গৃহস্থালি বা ব্যক্তিগত পর্যায়ের আমানতের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। গত বছর তা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে ব্যক্তিগত আমানতে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এক কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতকে গৃহস্থালি আমানত হিসেবে ধরা হয়।
কোন আমানত বাড়ল কত
আমানতের আকারভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জমা আছে এমন আমানতকারীদের হিসাবে যে আমানত রয়েছে তা ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ১৩ শতাংশ। ২০২৪ সাল শেষে এ ধরনের আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা। গত বছর শেষে যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ২০২৪ সাল শেষে ২ লাখ টাকা জমা আছে এমন হিসাবধারী ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৫৯ লাখ, যা গত বছর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৪৮ লাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শেষে ব্যাংকে ২ লাখ ১ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা আছে এমন হিসাবধারীর জমানো টাকার পরিমাণ ৫ লাখ ৫২ হাজার ২০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট আমানতের ৫৫ শতাংশ। এমন হিসাবধারীর সংখ্যা ৯৩ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ।
এ ছাড়া ২৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকার হিসাবে যে অর্থ জমা হয়েছে, তা মোট আমানতের ১৩ শতাংশ। এ ধরনের হিসাবে আমানত ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা থেকে গত বছর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এমন হিসাবধারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৪ হাজারে। আর ৫০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকার হিসাবে জমা আমানতের পরিমাণ ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ১১ শতাংশ। এমন হিসাবধারীর সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে বেড়ে গত বছর শেষে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজারে। এসব হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকের মোট আমানতের মধ্যে ৯২ শতাংশ আমানতই এক কোটি টাকার কম হিসাবধারীদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন আমানত ব্যাংকের মোট আমানতের ৮ শতাংশ। ১ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকা জমা আছে এমন হিসাবের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৩৯৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এসব হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ২৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা জমা রয়েছে এমন হিসাব ১৪১ থেকে কমে হয়েছে ১০৭টি। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে এমন হিসাব ৪৪ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।