জেন-জি প্রজন্মের জন্য বুমারদের ১৭টি অমূল্য পরামর্শ

· Prothom Alo

বুমারদের লাইফ এক্সপেরিয়েন্সকে ক্যাশ অন করো। কারণ, তোমাদের (জেন–জি) ডিজিটাল ভাইব মন্দ নয়, তবু লাইফটা কিন্তু ট্রেন্ড নয়, রিয়েল গেম; এ জন্যই স্মার্ট ডিসিশন, সেলফ গ্রোথ, টাইম ম্যানেজমেন্ট আর ফিউচার ভিশন সেট করে নিজের স্টোরিটা লেভেল আপ করো, নো ক্যাপ, প্লে স্মার্ট, স্টে রিয়েল।

Visit betsport.cv for more information.

নানা বয়সের মানুষ নানা প্রজন্ম হিসেবে আলোচিত হন। বেবি বুমারদের জন্ম ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সাল, তাঁরা এখন সমাজে নানা-দাদা, নানি-দাদি চরিত্রে আছেন। আবার জেন-জিদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২। এই দুই প্রজন্মের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কয়েক দশকের। বুমাররা যখন পৃথিবীর চড়াই-উতরাই দেখে আজ অভিজ্ঞতায় পরিপক্ব, জেন-জি তখন আধুনিক প্রযুক্তির জোয়ারে গা ভাসিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত।

বুমাররা অভিজ্ঞ; তাদের কাছ থেকে শেখার আছে

দুই প্রজন্মের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ে অনেক রসিকতা থাকলেও জীবনের গভীর উপলব্ধির জায়গায় বুমারদের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। সম্প্রতি জনপ্রিয় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম রেডিটে একদল অভিজ্ঞ বুমার তরুণ প্রজন্মের জন্য তাঁদের জীবনের সেরা কিছু পরামর্শ ও টিপস শেয়ার করেছেন। সেখান থেকে বেছে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো।

১. দাঁতের যত্ন নিন: বুমারদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ও বারবার আসা পরামর্শটি ছিল এটি। বার্ধক্যে গিয়ে দাঁতের সমস্যায় না ভুগতে চাইলে তরুণ বয়স থেকেই ডেন্টাল হাইজিনের বিষয়ে আপস করবেন না।

২. তারুণ্যের সঠিক ব্যবহার: ২০ বছর বয়সে আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো আপনার যৌবন। তাই দৌড়ান, সাঁতার কাটুন এবং জীবনকে উপভোগ করুন। পাশাপাশি শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও সঠিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলুন। আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

৩. বার্ধক্যকে মেনে নিন, কিন্তু বুড়ো হবেন না: বয়স বাড়লে শরীর বুড়ো হবেই, কিন্তু মনকে তরুণ রাখা আপনার হাতে। এ ছাড়া বুমারদের সহজ কথা, কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না।

৪. সময়ের হিসাব রাখা: সময় খুব দ্রুত চলে যায়। সময়ের বাজেট করতে শিখুন। যদি কোনো সম্পর্ক বা চাকরিতে আপনার ভবিষ্যৎ না থাকে, তবে সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসুন। একা থাকা কোনো অভিশাপ নয়, অর্থহীন সম্পর্কে আটকে থাকা বেশি কষ্টের।

৫. বর্তমানের সৌন্দর্য উপভোগ করুন: ২০ বছর পর যখন নিজের পুরোনো ছবি দেখবেন, তখন বুঝবেন আপনি কতটা সুন্দর ছিলেন এবং আপনার সামনে কত সম্ভাবনা ছিল। আপনি যতটা মোটা ভাবছেন নিজেকে, আসলে আপনি ততটা নন। অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না।

৬. ৭০ বছর বয়সের কথা ভাবুন: ২০ বছর বয়সে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন, ৭০ বছর বয়সে আমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাই? এটা আপনার জীবনের সিদ্ধান্তগুলোকে অনেক সহজ করে দেবে।
৭. ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সাবধানতা: ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্টক মার্কেটের পয়েন্ট ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নয়, যতক্ষণ তা ব্যাংকে না পৌঁছাচ্ছে। এ ছাড়া বন্যাপ্রবণ এলাকায় ঘর ভাড়া বা কেনার আগে ১০ বার ভাবুন।
৮. পরিস্থিতির ফাঁদ থেকে মুক্তি: যদি কোনো পরিস্থিতি আপনাকে আটকে রাখে, তবে নিজেকে মুক্ত করার কৌশল শিখুন। অনেক সময় আমরা মানসিক বাধ্যবাধকতার ফাঁদে পড়ে পিছিয়ে যাই। ২০ বছর বয়সে যা পাহাড়সম সমস্যা মনে হয়, ৪০-এ গিয়ে তা সামান্য মনে হতে পারে।

আপনাকে নিয়ে অন্যে কি ভাবছে সেটা ভাবার দরকার নেই

৯. অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া: আপনার সম্পর্কে অন্য কে কী ভাবছে, তা নিয়ে মাথা ঘামানো আপনার কাজ নয়। এটা বুমারদের অন্যতম সেরা জীবনদর্শন।
১০. মদ্যপান ও নেশা বর্জন: তরুণ বয়সে মদ্যপান আনন্দদায়ক মনে হলেও বয়স বাড়লে এটা হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা, স্মৃতিভ্রম ও স্থূলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজের শরীরকে ভালোবাসুন।
১১. নিয়মিত সঞ্চয়: প্রতি সপ্তাহে সামান্য কিছু টাকা এমন একটি অ্যাকাউন্টে জমা করুন, যা সহজে তোলা যাবে না। দীর্ঘ মেয়াদে এটি আপনাকে বড় নিরাপত্তা দেবে।

১২. সাফল্যের নিজস্ব সংজ্ঞা তৈরি করুন: সাফল্য মানেই দামি গাড়ি বা বাড়ি নয়। সমাজ বা মা–বাবার দেখানো সংজ্ঞার পেছনে না ছুটে আপনি কিসে সুখী হবেন, সেটা খুঁজুন। ভোগবাদী সংস্কৃতির ইঁদুর–দৌড়ে নামবেন না।

১৩. নিজের মতামত চেপে রাখা: ৩৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর আপনি ২০ বছর বয়সের অনেক চিন্তাভাবনা নিয়ে অনুতপ্ত হতে পারেন। তাই সব বিষয়ে মতামত জাহির না করে ধৈর্য ধরুন।

১৪. একে অপরকে সাহায্য করা: পৃথিবীতে আমরা এসেছি একে অপরের জীবনকে সহজ করতে এবং কিছুটা আনন্দ পেতে। এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিন।

১৫. বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়া: নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে বড় ঝুঁকি নিন (যেমন কোনো নতুন স্টক বা উদ্যোগ)। এটি আপনাকে বড় সাফল্যের সুযোগ দিতে পারে।

সব বিষয়ে মতামত জাহির না করে ধৈর্য ধরুন

১৬. চক্রবৃদ্ধি মুনাফা: টাকা কীভাবে কাজ করে এবং ইনভেস্টমেন্ট কীভাবে সময়ের সঙ্গে বাড়ে, তা দ্রুত শিখে নিন। যত দ্রুত বিনিয়োগ শুরু করবেন, তত লাভ।

১৭. নিজেকে সময় দিন: জীবন কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। নিজেকে ছাড় দিন, বিরতি নিন এবং নিজের গতিতে এগিয়ে যান।

বুমারদের এই পরামর্শগুলো কেবল কথা নয়, কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার নির্যাস বলা যায়। জেন-জি যদি এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাদের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে যুক্ত করতে পারে, তবে একটি সফল ও সুন্দর জীবন গড়া অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

সূত্র: আপওয়ার্দি

ছবি: এআই

Read full story at source