টানা দুই দিন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
· Prothom Alo
টানা দুই দিনে ১২ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছে। তার আগের দিন অর্থাৎ বুধবার একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেনে ৭ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই দিনই প্রতি ডলার কিনতে খরচ করেছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
প্রায় দেড় মাস বাজার থেকে মার্কিন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে গত ২ মার্চ আড়াই কোটি ডলার কেনা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সায়। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
Visit mchezo.life for more information.
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
গত মার্চ মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মাসের দায় বাবদ প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর মোট রিজার্ভ কমে হয়েছিল ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। তখন বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ নেমেছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের আসা এখনো ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে ব্যাংক মাধ্যমে ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৮ কোটি ডলারের। তার মানে চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। যদিও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেক উৎস পণ্য রপ্তানি আয় টানা আট মাস ধরে কমছে। গত মার্চে ৩৪৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দামও বেড়েছে। ফলে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। ফলে রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এমন পরিস্থিতি রিজার্ভ ধরে রাখতে বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।