রাজশাহীতে মুদিদোকানিকে ছুরি মেরে হত্যা, ভ্যানচালক আটক
· Prothom Alo

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক মুদিদোকানিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুঠিয়া পৌরসভার কাউন্সিল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এরপর হামলাকারী মাইনুল ইসলাম (২৩) নামের এক ভ্যানচালককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
Visit sport-tr.bet for more information.
নিহত মামুনুর রশিদ ওরফে জুয়েলের (৪৮) বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। কাউন্সিল বাজারে তাঁর মুদিদোকান আছে। হামলার অভিযোগে আটক মাইনুল ইসলাম (২৩) উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ভ্যানচালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে দোকান খুলে ভেতরে বসে ছিলেন মামুনুর রশিদ। এ সময় কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মাইনুল দোকানে ঢুকে তাঁর ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাইনুল তাঁর কাছে থাকা ছুরি দিয়ে মামুনুরের বুকে আঘাত করেন। মামুনুর রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা মাইনুলকে ধাওয়া করে আটক করে। উত্তেজিত জনতা তাঁকে পিটুনি দিয়ে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং জনরোষ থেকে মাইনুলকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেন।
অভিযুক্ত মাইনুলের বাবা কামাল হোসেন বলেন, ছেলের জন্মের এক বছর পর তাঁর মা মারা যায়। দাদা-দাদির কাছে মানুষ হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নেশা ও অত্যাচার করার কারণে বউ চলে গেছে। আদালতে যৌতুকের মামলা করেছে। তিনি ভিটা বিক্রি করে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। জমি বিক্রি করে ছেলেকে একটা ভ্যান কিনে দিয়েছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সেই ভ্যানও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেকে জিজ্ঞেস করলে বলেছে, চায়ের দোকানের কাছে রাখা ছিল, হারিয়ে গেছে। তিনি সকালবেলা লোকমুখে শুনতে পেয়েছেন, মামুনুর রশিদের দোকানে ঢুকে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নেওয়ার জন্য খামচা দিয়েছিল।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজন মাইনুলকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে মারধর করেছে। চিকিৎসার জন্য আপাতত তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ জন্য এখনো তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।