তুরস্কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ‘কূটনৈতিক’ সংবর্ধনা  

· Prothom Alo

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আঙ্কারায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বেলা একটায় এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া। এ ছাড়া আঙ্কারার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কুটনৈতিক সদস্য এবং তুরস্কের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মো. আমানুল হক এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান সস্ত্রীক অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

বাংলাদেশ ও তুরস্কের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানস্থলটিতে বাংলাদেশি বিভিন্ন সংস্কৃতি, চিত্র এবং পণ্য প্রদর্শনী দেশি-বিদেশি সবাইকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কূটনৈতিক অঙ্গনের সদস্য, বিশিষ্ট অতিথি এবং বাংলাদেশের বন্ধুদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির অসীম আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথার এক গভীর এবং তাৎপর্যপূর্ণ স্মারক। এ দিবসসমূহ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই অগণিত শহীদের স্মরণ করি, যাঁদের অসীম সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের মহান মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত পয়লা বৈশাখের গুরুত্বও তুলে ধরে বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ আমাদের জাতির নবজাগরণ, আশা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাসের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি বলেন, তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত মিত্র এবং মূল্যবান অংশীদার। আমাদের উন্নয়নমূলক অগ্রগতিতে তুরস্কের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের উভয় দেশের জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে।’

রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন দূতাবাস প্রধান ও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুরস্কের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান চমৎকার রাজনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে বহুমাত্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা, শিল্প, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বহুপক্ষীয় অঙ্গনে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে স্বাগত জানান এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কমিউনিটির শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আগত অতিথিদের মধ্যাহ্নভোজ পরিবেশন করা হয়।

Read full story at source