নর্থ সাউথের ‘লাল জামা পরা মেয়েটা’
· Prothom Alo

শিক্ষার্থীরা তো বটেই, পয়লা বৈশাখে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এনএসইউএসএস) আয়োজন দেখতে এখন অন্য ক্যাম্পাসের অনেকেও অপেক্ষায় থাকেন। বিশেষ করে এনএসইউয়ারদের ফ্ল্যাশমবের ভিডিও যে অনলাইনে সাড়া ফেলবে, সেটা এখন একরকম রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এবার পয়লা বৈশাখে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন একজন, তিনি মালিহা মাসফিরাত, ডাকনাম মেধা। রুনা লায়লা ও প্রীতম হাসানের গাওয়া ‘জ্বালা জ্বালা’ গানের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত নেচে মেধা এরই মধ্যে নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। মেধাকে চেনেন না, জানেন না, এমন অনেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘লাল জামা পরা মেয়েটা দারুণ!’
ভিডিওটা হয়তো আপনিও দেখেছেন। পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন বাংলা গানের সঙ্গে নেচেছে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের বেশ বড় একটা দল। তবে মেধার আলাদা করে নজর কাড়ার কারণ আছে। ঝলমলে হাসি আর একাগ্রতাই বলে দিচ্ছিল, ‘জ্বালা জ্বালা’ গানে নাচের দলটাকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিস্তারিত জানতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে। এই যে বেশ একটা ‘তারকাখ্যাতি’ ছড়িয়ে পড়ল, ব্যাপারটা কেমন উপভোগ করছেন? নাচের সঙ্গে তাঁর পথচলাটাই–বা কেমন?
Visit truewildgame.online for more information.
দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনিনাচের প্রথম অধ্যায়
মেধা বড় হয়েছেন নওগাঁয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সুলতান মাহমুদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাচের তালিম নেওয়া শুরু। তবে একটু যখন বড় হলেন, পড়ালেখার চাপ বাড়ল, ধীরে ধীরে থেমে গেল নাচের চর্চা। দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি।
মেধা বলেন, ‘আমার বেসিক ছিল ক্ল্যাসিক্যাল। ছোটবেলায় আমি মূলত ভরতনাট্যম আর কত্থক বেশি করতাম। এরপর অনেক দিন নাচ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে পড়াশোনার কারণে। কিন্তু নাচটা কখনোই আমার ভেতর থেকে হারিয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হলো, এখন আবার শুরু করা উচিত। তারপর আলিফিয়া স্কোয়াডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুনভাবে নাচ শুরু করি, নিজেকে আরও ভিন্ন ঘরানায় গড়ে তোলার সুযোগ পাই।’
বড় দলের চ্যালেঞ্জ
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব। পুরো পারফরম্যান্সের কোরিওগ্রাফি, মঞ্চ পরিকল্পনা এবং দলীয় সমন্বয়ের একটি বড় অংশ ছিল তাঁর নেতৃত্বে। ‘জ্বালা জ্বালা’ ও ‘মহা জাদু’—দুটি গানে কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। পাশাপাশি অন্য গানগুলোয়ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
মেধা জানালেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রায় ৮০ জনের বিশাল দলটাকে এক ছন্দে আনা, কেননা তাঁদের বেশির ভাগই পেশাদার নৃত্যশিল্পী নন। সবার সহযোগিতায় চ্যালেঞ্জ উতরেছেন তিনি। বলছিলেন, ‘যেহেতু বেশির ভাগই নন-ড্যান্সার, সবাইকে স্টেপ শেখানো, আবার সবাই মিলে একসঙ্গে প্র্যাকটিস করা, বিষয়টা একদমই সহজ ছিল না। কিন্তু সবাই খুব সাহায্য করেছে। তাই ধীরে ধীরে সহজ হয়ে গেছে।’
মহড়ার সময়ও মেধা ভাবতে পারেননি, নাচটা এত সাড়া ফেলবে। বলছিলেন, ‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়। যদি সবাই এক তালে করতে পারে, তাহলে খুব সাধারণ স্টেপও দারুণ লাগে। পুরো পারফরম্যান্সটাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। আমরা সব সময় এটায় মনোযোগ দিয়েছি। সে জন্য হয়তো সবাই পছন্দ করেছে।’
বড় পর্দার স্বপ্ন
মেধা শুধু নাচের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নন। মডেল হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন। ফটোশুটের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের প্রকল্পের সঙ্গে। টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) ও ওভিসিতেও (অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল) এখন তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। ক্যামেরার সামনে কাজ করার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ধাপে ধাপে এগিয়ে দিচ্ছে স্বপ্নের দিকে।
অভিনয়জগতে মেধার যাত্রা শুরু হয় জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর মাধ্যমে। কোনো আনুষ্ঠানিক অডিশন ছাড়াই, একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের আহ্বানে তিনি যুক্ত হন এই প্রকল্পে। তবে মেধার লক্ষ্য আরও বড়। বলছিলেন, ‘নিজেকে এমন জায়গায় চাই, যাতে আমাকে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বাইরের মানুষও চিনবে। যদি সুযোগ পাই এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চাই। এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’