কোন বৃষ্টিতে কই মাছ ডাঙায় উঠে আসে

· Prothom Alo

তুমি হয়তো শুনেছ, বর্ষার রাতে হঠাৎ কেউ দেখেছে, উঠানে মাছ নড়ছে। লোকে বলে, কই মাছ নাকি বৃষ্টি নামলেই ডাঙায় উঠে আসে। কেউ আবার দাবি করে, ‘আজ এমন বৃষ্টি, কই ওঠার বৃষ্টি!’ কথাটা শুনতে লোককথার মতো লাগলেও এর পেছনে বিজ্ঞান আছে। আর কই মাছও সাধারণ মাছের মতো নয়।

Visit tr-sport.bond for more information.

Climbing Perch, অর্থাৎ কই মাছ, এমন এক মাছ যা শুধু পানিতে টিকে থাকে না, দরকার হলে কিছু সময় ডাঙায়ও নড়াচড়া করতে পারে। এর শরীরে আছে বিশেষ এক অঙ্গ—ল্যাবিরিন্থ অর্গান—যা বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে সাহায্য করে। এ কারণেই অন্য অনেক মাছের চেয়ে কই একটু ‘দুঃসাহসী’।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—সব বৃষ্টিতে কি কই ডাঙায় ওঠে? না। নির্দিষ্ট কিছু ধরনের বৃষ্টি আর পরিবেশই কইকে এ কাজ করতে উসকে দেয়।

টানা ভারী বৃষ্টি: যখন জলাশয়গুলো যুক্ত হয়ে যায়

কই মাছ সবচেয়ে বেশি ডাঙায় ওঠার সম্ভাবনা থাকে টানা ভারী বর্ষণে। ধরো, কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হলো। পুকুর উপচে পানি গেল পাশের ডোবায়, ডোবা মিশল খালে। আগে আলাদা থাকা জলাশয়গুলো হঠাৎ যুক্ত হয়ে গেল। এই অবস্থায় কই মাছের সামনে নতুন পথ খুলে যায়।

তুমি একে ভাবতে পারো, হঠাৎ কোনো শহরের বন্ধ রাস্তা খুলে গেছে। এখন অন্য এলাকায় যাওয়া সম্ভব। কই মাছও ঠিক তেমন নতুন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে চায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, এটা বেঁচে থাকা আর প্রজনন—দুই কারণেই হতে পারে। নতুন জায়গায় খাবারও বেশি মিলতে পারে।

এই সময় ভেজা মাটি, কাদা, ঘাস—এসবের ওপর দিয়ে কই পাখনার সাহায্যে ঠেলেঠুলে এগোয়। দেখতে অনেকটা হামাগুড়ির মতো।

লোকজন যে বলে ‘এই বৃষ্টি কই ওঠার বৃষ্টি’—তা অনেক সময় এমন টানা বর্ষাকেই বোঝায়।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পারস্য সাগরের জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে

প্লাবনের বৃষ্টি: যখন পানি ছড়িয়ে পড়ে

সব ভারী বৃষ্টি এক রকম নয়। কিছু বৃষ্টি আছে, যেগুলো শুধু মাটি ভেজায়। আবার কিছু বৃষ্টি পুরো এলাকা প্লাবিত করে ফেলে।

এই প্লাবনের বৃষ্টি কই মাছের জন্য বিশেষ। কারণ, এতে চারপাশে অগভীর পানির স্তর তৈরি হয়। রাস্তার ধারে, মাঠে, উঠানে—পানি ছড়িয়ে থাকে। এতে ডাঙা আর জল—দুটোর সীমা যেন ঝাপসা হয়ে যায়। এই অবস্থায় কই মাছের চলাফেরা সহজ হয়।

শুকনা মাটিতে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ। শরীর শুকিয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্লাবিত, কাদাময় পরিবেশে সেই ঝুঁকি কম। তাই বন্যা বা প্লাবনধর্মী বৃষ্টি কই ওঠার জন্য খুব অনুকূল।

অনেক গ্রামে বর্ষার রাতে টর্চ ফেলে মানুষ মাছ ধরেছে—এমন গল্প কেবল গল্প নয়, বাস্তবও।

কই সব সময় বৃষ্টি পড়ার মধ্যেই ওঠে না

বৃষ্টির পরের ভেজা রাত: যখন মাটি ঠান্ডা, বাতাস আর্দ্র

মজার বিষয়, কই সব সময় বৃষ্টি পড়ার মধ্যেই ওঠে না। অনেক সময় বৃষ্টি থামার পরও ওঠে।

ধরো, সন্ধ্যায় ঝুম বৃষ্টি হলো। রাতে বৃষ্টি থেমে গেছে। কিন্তু মাটি ভেজা, কাদা নরম, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি। এই পরিবেশ কই মাছের জন্য নিরাপদ।

কারণ, ভেজা পরিবেশে শরীর শুকিয়ে যাওয়ার ভয় কম। উপরন্তু রাতের ঠান্ডা তাপমাত্রা তাকে সাহায্য করে। তাই কেউ যদি বলে, ‘বৃষ্টি তো থেমেছে, তবু কই উঠছে’—সেটাও অস্বাভাবিক নয়। বরং অনেক সময় এই সময়টাই বেশি সুবিধাজনক।

ওমানের মিরবাত শহরের সৈকতে এত চিংড়ি এল কীভাবে

শুধু বৃষ্টি না, পানির সমস্যাও কারণ

শুধু বৃষ্টি হলেই কই ওঠে—এমন ভাবলে ভুল হবে। কখনো পানির ভেতরের সমস্যাও তাকে ডাঙার দিকে ঠেলে দেয়। যেমন পানিতে অক্সিজেন কমে গেলে।

গরমে, পচা জৈব পদার্থে, কিংবা স্থির পানিতে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। তখন কই অন্য মাছের মতো সহজে হার মানে না। সে বিকল্প খোঁজে। দরকার হলে জলাশয় ছেড়ে অন্য জায়গা খোঁজে।

এই কারণেও বৃষ্টির সময় কইকে বেশি নড়াচড়া করতে দেখা যায়। কারণ, তখন পালানোর সুযোগ থাকে। অর্থাৎ বৃষ্টি শুধু সংকেত নয়, সুযোগও।

তাহলে কোন বৃষ্টিতে ওঠে না?

এবার উল্টোটা ভাবো।

হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি? কই সাধারণত ওঠে না। দুপুরে হঠাৎ ১০ মিনিটের একপশলা? সাধারণত কই ডাঙায় উঠবে না। এমন বৃষ্টি যাতে জলাশয়ের অবস্থা বদলায় না। তাতেও উঠবে না কই।

কারণ, কই শুধু ভেজা দেখেই ওঠে না। তার দরকার পরিস্থিতির বদল। পানি বাড়া, সংযোগ তৈরি হওয়া, আর্দ্রতা, চলার সুযোগ—এসব একসঙ্গে কাজ করে।

কই বৃষ্টি টের পায়—কথাটা কি সত্যি?

তুমি হয়তো শুনেছ, কই মাছ নাকি আগে থেকেই বুঝে যায় বৃষ্টি আসছে। শুনতে কুসংস্কারের মতো লাগলেও পুরোটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অনেক প্রাণী বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, কম্পন—এসবের পরিবর্তন টের পায়। মাছও পরিবেশের সূক্ষ্ম পরিবর্তনে সাড়া দেয়।

বৃষ্টি আসার আগে চাপের বদল বা পানির আচরণে পরিবর্তন কই অনুভব করতে পারে—এমন ধারণা গবেষণায় আলোচিত হয়েছে। হয়তো এ কারণেই গ্রামের মানুষ বহু আগে থেকেই কিছু বৃষ্টিকে ‘কই ওঠার বৃষ্টি’ বলে চিনত।

তাই সব বৃষ্টিতে কই ওঠে না। টানা ভারী বর্ষণ, প্লাবনের বৃষ্টি আর ভেজা ঠান্ডা রাত—এসবই কই মাছকে ডাঙায় তুলতে পারে।

কেন কিছু মানুষ চোখের সামনে থাকা জিনিস খুঁজে পায় না

Read full story at source