বৈশাখী উৎসবের বিজয়ীদের দেওয়া হলো বিশেষ স্মারক

· Prothom Alo

‘অনেক সংস্কৃতি আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বৈশাখী উৎসবে অংশ নিয়ে সেই সংস্কৃতিকে নতুন করে দেখেছিলাম। অনেক পুরোনো খেলা খুঁজে পেয়েছিলাম, আমরা ছোটরা যা আগে দেখিনি। ওই আয়োজন আমাদের বৈশাখের আনন্দকে নতুন করে রাঙিয়েছিল।’

Visit umafrika.club for more information.

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ইউনাইটেড সিটির শেফ’স টেবিল কোর্টসাইড প্রাঙ্গণে প্রথম আলো আয়োজিত বৈশাখী উৎসবের স্মৃতি স্মরণ করে কথাগুলো বলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির সুবাহা তাবাচ্ছুম। আয়োজনটির সহযোগিতায় ছিল শেফ’স টেবিল কোর্টসাইড। সুবাহা তাবাচ্ছুম উৎসবে ‘খ’ বিভাগে হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

সেদিন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যারা বিজয়ী হয়েছিল, আজ শনিবার সেই বিজয়ীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ও হাতের লেখা নিয়ে গোল্লাছুটের বিশেষ সংখ্যাটি বাঁধাই করে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে দেওয়া হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে বিজয়ীদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

লাইফ প্রিপারেটরি স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী নুসায়ের ইসলাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, সে যখন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়, সেটা দেখে তার বন্ধুরা তাকে অনেক প্রশংসা করে।

অভিভাবকেরাও তাঁদের ভালো লাগার অভিব্যক্তি বর্ণনা করেন। হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়া আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেবাস্মিতা কুন্ডুর বাবা দীপঙ্কর কুন্ডু শিশুদের সৃজনশীল জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে প্রথম আলোর প্রতি আহ্বান জানান।

বিজয়ী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অতিথিরা। আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে

১৪ এপ্রিল আয়োজিত হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম হয়েছিল শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বেলিসা বাসারাত, দ্বিতীয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেবাস্মিতা কুন্ডু এবং তৃতীয় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসায়বাহ হায়দার রাহা।

একই প্রতিযোগিতায় ‘খ’ বিভাগে প্রথম হয়েছিল উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকসানা আহমেদ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির সুবাহা তাবাচ্ছুম এবং তৃতীয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিহা আলম।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম হয়েছিল লাইফ প্রিপারেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসাইবা সালাম, দ্বিতীয় হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির অর্জুন সাহা এবং তৃতীয় লাইফ প্রিপারেটরি স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী নুসায়ের সালাম।

একই প্রতিযোগিতায় ‘খ’ বিভাগে সব কটি পুরস্কারই জিতেছিল হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে প্রথম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তি সাহা, দ্বিতীয় অষ্টম শ্রেণির শাজমা জাহা খান এবং তৃতীয় সপ্তম শ্রেণির আফ্রোদিতি পাত্র।

বিজয়ীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীনসহ অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে আনিসুল হক কিশোরদের সৃজনশীলতা ও জ্ঞান বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিশু-কিশোরদের মেধা ও মনন বিকাশে নিয়মিত চিত্রাঙ্কন ও লেখালেখির ওপর গুরত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন শিশুদের পড়ার অভ্যাস গড়তে ‘গোল্লাছুট’ ও কিশোর আলোর মতো প্রকাশনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবাদপত্র পড়ার মাধ্যমে শিশুদের সাধারণ জ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান বৃদ্ধি পায়, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হয়।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর আরও উপস্থিত ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড ইভেন্টস) আজওয়াজ খান, হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল, ‘গোল্লাছুট’ সম্পাদক মাহফুজ রহমান, প্রতিযোগিতার বিচারক ও প্রথম আলোর প্রধান শিল্প উপদেষ্টা অশোক কর্মকার, গ্রাফিকস আর্টিস্ট এস এম রকিবুর রহমানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রভাষক আরাফাত করিম।

Read full story at source