হয়তো ইশরাতের জীবনেও অলৌকিক কিছু ঘটবে...
· Prothom Alo
ইশরাত জাহানের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। স্বামী সারওয়ার-ই আলমকে সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদন দেখিয়ে ইতালিয়ান এক শল্যচিকিৎসক জানিয়েছিলেন, ইশরাত হয়তো আর বেশি দিন বাঁচবেন না। কিন্তু চিকিৎসকের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়নি।
ইশরাত বেঁচে আছেন। তাও প্রায় চার বছর হয়ে গেছে। যদিও যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের দুই কামরার একটি কেয়ার হোমের বিছানা এখন ইশরাতের জগৎ। বিছানা থেকে নেমে জানালার পাশে যাওয়ার শক্তিটুকুও তাঁর নেই। হোমের পরিচর্যাকারী আর হুইলচেয়ার—এই তাঁর সঙ্গী।
Visit syntagm.co.za for more information.
সারওয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতায় বেঁচে আছেন ইশরাত। পানিও খেতে পারেন না। মুখ খুলতেও পারেন না। মন চাইলে একটু ডান থেকে বাঁয়ে কিংবা বাঁ থেকে ডানে নড়াচড়া করার সাধ্য নেই। বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে কৃত্রিম উপায়ে। টিউবের সহায়তায় তরল খাবার খান, সেই খাবারের স্বাদ আর গন্ধ—কিছুই পান না তিনি।
সারওয়ার পেশায় কবি, সাংবাদিক। ২০১১ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। এর আগে বছর দশেক ছিলেন ফ্রান্সের প্যারিসে। সারওয়ার-ইশরাত দম্পতির তিন সন্তান। এর মধ্যে সানিয়া আলম (১৯) সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে আইনে পড়ছেন। সাহির আলম (১৪) নবম শ্রেণিতে আর সামির আলম (৬) দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। মায়ের সান্নিধ্য ছাড়াই বড় হচ্ছে ওরা।
মা ইশরাত জাহান কেয়ার হোমে। বাসায় সন্তানদের পাশে বাবা সারওয়ার-ই আলমকী হয়েছিল সেদিন
তারিখটা ২০২২ সালের ৬ মে। ওই দিন ইশরাতের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। সারওয়ার জানান, তখন সামিরের বয়স মাত্র দুই বছর। ছেলেকে রাতের খাবার খাইয়ে নিজেও খেতে বসেছিলেন ইশরাত। হঠাৎ সোফা থেকে পড়ে গেলেন। বাসায় অ্যাম্বুলেন্স এল। কুইন্স হাসপাতালে নেওয়া হলো। অস্ত্রোপচার হয় আট ঘণ্টা ধরে।
জ্ঞান ফেরার পর, পা নাড়াতে পারছিলেন না ইশরাত। মুখ খুলতে পারছিলেন না। সারওয়ার বলেন, হাসপাতাল থেকে পাঠানো হলো রিহ্যাব বা পুনর্বাসনের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে। সেখানে তিন মাসে পরিবর্তন হলো খুবই সামান্য। বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে বিশেষায়িত কেয়ার হোমে নেওয়া হলো।
তারিখটা ২০২২ সালের ৬ মে। ওই দিন ইশরাতের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। সারওয়ার জানান, তখন সামিরের বয়স মাত্র দুই বছর। ছেলেকে রাতের খাবার খাইয়ে নিজেও খেতে বসেছিলেন ইশরাত। হঠাৎ সোফা থেকে পড়ে গেলেন। বাসায় অ্যাম্বুলেন্স এল। কুইন্স হাসপাতালে নেওয়া হলো। অস্ত্রোপচার হয় আট ঘণ্টা ধরে।
সারওয়ার বলেন, এখানে এক বছরে খরচ হবে প্রায় এক কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। পাশে দাঁড়ান প্যাট্রিক নামের একজন চিকিৎসক। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় ইশরাতের শারীরিক জটিলতার কথা জানিয়ে তিনি চিঠি পাঠানো শুরু করেন। দুটি প্রতিষ্ঠান সাড়া দেয়। তাদের যৌথ অর্থে বাসার কাছের একটি কেয়ার হোমে ইশরাতের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়।
এর আগে ২০১৬ সালে ৩৪ বছর বয়সে প্রথমবার ইশরাতের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। সারওয়ার বলেন, তখন সুস্থ হলেও মানসিকভাবে এটা মেনে নিতে পারেননি ইশরাত। মাসখানেক হাসপাতালে ছিলেন। বাসায় ফেরার পর বেঁচে থাকার উৎসাহটাই যেন হারাতে শুরু করেন। শুরু হয় কাউন্সেলিং সেবা।
মা ইশরাত জাহানের জন্মদিনে কেয়ার হোমে ছেলে–মেয়েরা‘আমিই ওদের বাবা, আমিই মা’
সারওয়ারের সঙ্গে ৯ মে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়। ২০২২ সালের ৬ মে থেকে ২০২৬ সালের ৯ মে—এই চার বছরের কঠিন সংগ্রামের গল্প শোনালেন তিনি।
সারওয়ার বলেন, কখনো একা আবার কখনো সন্তানদের নিয়ে কেয়ার হোমে স্ত্রীকে দেখে আসেন। একা গেলে বাসায় ফিরে সন্তানদের সামনে মা ভালো আছেন, সেই গল্প শোনাতে হয়। সানিয়া, সাহির ও সামির বাবার সেই মিথ্যা গল্পটা শুনে বড় হচ্ছে। মা ভালো হয়ে যাচ্ছে—এটা শুনে বেড়ে উঠছে।
সারওয়ারের ভাষায়, এটা নৈতিকতার বিচারে কতটা ঠিক, জানি না। তবে এটা ছাড়া উপায়ও নেই। তিনি বলেন, ‘তিন সন্তানের মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে এটা করতে হয়েছে, হচ্ছে। ওরা একবার ভেঙে পড়লে, স্বাভাবিক রাখা বেশ কঠিন হয়ে যাবে। ওদের মা বেঁচে থেকেও নেই। আমিই ওদের বাবা, আমিই মা।’
সারওয়ার ও ছেলেমেয়েদের ঈদসহ যেকোনো উৎসবের সকালটা শুরু হয় কেয়ার হোমে। সবাই একই রকমের পোশাক পরতে চাইলে হোমের পরিচর্যাকারীরা সাজিয়ে দেন ইশরাতকে। বেলুন, কেক, ফুল দিয়ে ইশরাতকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছবি তোলা হয়। কিন্তু ইশরাত বরাবরের মতোই ভাবলেশহীন। যেন পার্থিব এ পৃথিবীর কিছুই তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।
সারওয়ার ও ছেলে–মেয়েদের ঈদসহ যেকোনো উৎসবের সকালটা শুরু হয় কেয়ার হোমে। সবাই একই রকমের পোশাক পরতে চাইলে হোমের পরিচর্যাকারীরা সাজিয়ে দেন ইশরাতকে। বেলুন, কেক, ফুল দিয়ে ইশরাতকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছবি তোলা হয়। কিন্তু ইশরাত বরাবরের মতোই ভাবলেশহীন। যেন পার্থিব এ পৃথিবীর কিছুই তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না।
সারওয়ার বলেন, চার বছরে ছেলে–মেয়েরা একটু একটু করে বড় হচ্ছে। কিন্তু ইশরাতের জীবন যেন এক জায়গায় থমকে আছে। শুধু একটাই সান্ত্বনা, ইশরাত বেঁচে আছে।
সারওয়ার তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সন্তানেরা যেদিন কেয়ার হোমে যায়, ফিরে এসে একদম চুপ হয়ে যায়। যে যার বিছানায় চলে যায়। কারও সঙ্গে কারও কোনো কথা নেই। সমস্ত ঘরে নেমে আসে তীব্র যন্ত্রণাদগ্ধ এক নিঃসীম নীরবতা! আমি সে নীরবতার ভাষা বুঝি। কিন্তু আমার কিছুই করার থাকে না—না ওদের জন্য, না নিজের জন্য।’
প্রতিবার কেয়ার হোম থেকে ফেরার সময় এ পরিবারের সদস্যদের মনে একটা প্রত্যাশা থাকে—হয়তো অলৌকিক কোনো ঘটনা ঘটবে। ইশরাত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
কেয়ার হোমে একই রঙের পোশাক পরে ইশরাত জাহানের পাশে স্বামী–সন্তানেরাঢাকা থেকে প্রবাসে
ইশরাত ঢাকার বনেদি পরিবারের মেয়ে। পড়াশোনা করেছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে, চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাইকোলজিতে।
২০০৩ সাল। ইশরাত তখন স্নাতকের শিক্ষার্থী। ইশরাতের এক মামার মাধ্যমে সারওয়ারের সঙ্গে পরিচয়। ২০০৪ সালের ২৩ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০০৬ সালে স্বামীর কর্মস্থল প্যারিসে চলে যান তিনি।
২০০৭ সালে ইশরাত–সারওয়ার দম্পতির কোলজুড়ে আসে প্রথম সন্তান। এরপর ২০১১ সালে প্যারিস থেকে লন্ডনে গিয়ে থিতু হওয়া। সেখানেই ২০১২ ও ২০১৯ সালে আরও দুই সন্তানের জন্ম।
সারওয়ার জানান, ছোট ছেলের জন্মটাও ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা। ইশরাত তখন বাসায়। বাচ্চার মাথা জরায়ুর মুখ পর্যন্ত চলে আসে। ভিডিও কলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে বলে সারওয়ার সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন ইশরাতকে। পরে অ্যাম্বুলেন্স এলে ইশরাতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইশরাতের দ্বিতীয়বার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আগে তাঁর বাবা মারা যান। মেয়ের এই অসুস্থতা মেনে নিতে পারেননি মা। তিনিও ২০২৪ সালে মারা গেছেন। মা নেই—এটা এখনো ইশরাতকে জানানো হয়নি। ইশরাতের বড় ভাই থাকেন আমেরিকা, বোন কানাডায়।
তবু জীবন যাচ্ছে কেটে...
বাসায় মা নেই। বড় বোন বাকি দুই ভাইকে মায়ের যত্নে আগলে রাখছে, বড় করছে। ১৫ বছর বয়স থেকে মেয়েটা এসব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে—বলছিলেন সারওয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা এভাবে পাশে না থাকলে, হয়তো ভেঙে চুরমার হয়ে যেতাম। ও সবাইকে আগলে রেখেছে।’
সারওয়ার বলেন, ‘জীবনের সব বয়সের আলাদা আলাদা দায়িত্ব থাকে। স্বার্থপরের মতো আরেকটি বিয়ে কিংবা জীবন নিজের মতো গুছিয়ে নেওয়া—কোনোটাই পারিনি।’
ছোট ছেলেটার মায়ের আদরের কোনো স্মৃতিই নেই। কেয়ার হোমে গিয়ে মাকে কত কিছু বলার চেষ্টা করে। মা দিবসে সবাই নিজেদের মায়ের গল্প বলে, আর ও স্কুলে যেতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে আমাকেও কাউন্সেলিং নিতে হয়েছে, বলেন সারওয়ার।
সারওয়ারের আশা, অলৌকিক কিছু একটা ঘটবে। ইশরাত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন। তবে বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন তিনি। চাঁদরাতে মেয়ের হাতে মেহেদি দেওয়া, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, ওদের পছন্দের খাবার রান্না করা—এমন নানা কাজ নিজেই করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি চলে নিজের পেশাগত কাজ, লেখালেখি।
সারওয়ার জানান, মাঝে একবার হুইলচেয়ারে বসিয়ে পরিচর্যাকারীরা ইশরাতকে বাসায় এনেছিলেন। একবার তিনিসহ ইলফোর্ডের ছোট্ট শপিং মলে যান ইশরাত। কখনো পার্কে নেওয়া হয়। বাংলা সিনেমা পছন্দ করতেন, সিনেমা হলে নিয়ে গিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি দেখিয়ে আনা হয়েছে।
সামান্য উন্নতিতে আশা জাগে
ইশরাতের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি, সামান্য পরিবর্তনেও সারওয়ারের মনে আশা জেগে ওঠে। এমনই একটি ঘটনার কথা জানালেন তিনি। তারিখটা ২০২২ সালের ৩ জুন। কুইন্স হাসপাতাল থেকে নার্স জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ইশরাতের ভেন্টিলেটর খুলে রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ইশরাত ভেন্টিলেটর ছাড়াই শ্বাস নিচ্ছেন।
ওই দিনের কথা ফেসবুকে লিখে রেখেছেন সারওয়ার। লেখেন, ইশরাত ডান হাতটা একটু নাড়াচাড়া করছে। দীর্ঘ ২৮ দিন পর এই উন্নতিটুকুও ছিল অনেক বড় কিছু।
এরপর একই বছরের ৫ জুনের স্মৃতি টুকে রেখেছেন। সেদিন চিকিৎসক ইশরাতের নাম ধরে ডাকতে বলেছিলেন। মনে হয়, ইশরাতের চোখের মণি দুটো একটু নড়ছে। সেখানে উপস্থিত সবাই দেখলেন ইশরাতের চোখে একধরনের চাঞ্চল্য। মুখের ত্বক একটু কাঁপছে। চিকিৎসক বাচ্চাদের ছবি দেখাতে বললেন। সারওয়ার মুঠোফোনে থাকা বাচ্চাদের ছবি বের করেন, দেখান। তখন ইশরাতের চোখের পাতা আরেকটু প্রশস্ত হয়। চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী, মুঠোফোনটা ডানে-বাঁয়ে নিলে ইশরাতের চোখের মণিও এদিক–সেদিক যাচ্ছে।
২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর। ইশরাত হাসপাতালে আছেন সাত মাস হয়ে গেছে। বাসা থেকে নর্থ উইক পার্ক হাসপাতালে আসা–যাওয়ার দূরত্ব ছিল প্রায় ৪৪ মাইল। সেখানে যাওয়ার পর ইশরাতকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে আনা হলে সেই আগের মতোই ছিলেন ভাবলেশহীন। তখন তিন বছর বয়সী সামির মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘আই লাভ ইউ মাম’। মায়ের গালে চুমু খায়। কিন্তু মা নিশ্চুপ। ছোট সামির কেঁদে ফেলে। উপস্থিত সবার চোখ ভিজে যায়।
এভাবেই নানা স্মৃতির অ্যালবাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুকে রাখছেন সারওয়ার।
কেয়ার হোমে ইশরাত জাহান। পাশে স্বামী-সন্তানেরাছোট ছোট স্মৃতি
ছোট ছোট উন্নতি হচ্ছে ইশরাতের। সারওয়ার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ছবি পাঠালেন। এ বছরের ২০ মার্চ তোলা। ইশরাতের হাতের লেখা। লিখেছেন, ঈদ মোবারক। সঙ্গে তিন সন্তানের নাম। নতুন লিখতে শেখার পর বাচ্চাদের হাতের লেখা যেমন হয়, এলোমেলো। তাতেই খুশি সারওয়ার।
কেয়ার হোমে কেমন আছ? এ প্রশ্ন লিখে, সঙ্গে ‘ভালো’ নাকি ‘খারাপ’ লিখে দিলে ঠিকঠাক টিক চিহ্ন দিয়ে জানাতে শিখেছেন ইশরাত।
সারওয়ার জানান, মাঝে একবার হুইলচেয়ারে বসিয়ে পরিচর্যাকারীরা ইশরাতকে বাসায় এনেছিলেন। একবার তিনিসহ ইলফোর্ডের ছোট্ট শপিং মলে যান ইশরাত। কখনো পার্কে নেওয়া হয়। বাংলা সিনেমা পছন্দ করতেন, সিনেমা হলে নিয়ে গিয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি দেখিয়ে আনা হয়েছে।
সারওয়ার বলেন, হয়তো ইশরাত এতে আনন্দ পেয়েছেন। আগে ইশরাতের ভয়ংকর খিঁচুনি হতো। এখন কিছুটা কমেছে।
‘অপেক্ষা’ নামের একটি কবিতায় সারওয়ার লিখেছেন—
‘আমি এমন একটি দিনের জন্য দিন গুনছি,
যেদিন দুঃখগুলো হাওয়ায় মিলে
হারিয়ে যাবে,
আনন্দরা আমায় এসে করবে আলিঙ্গন,
আমি এমন একটি দিনের জন্য দিন গুনছি,
যেদিন নতুন আলোয় ভরে যাবে আমার এ মন...’