প্রেম ও দর্শনের আলোচনায় রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’
· Prothom Alo

গ্রীষ্মের বিকেলের নরম রোদ, চারপাশে সবুজের সমারোহ—এমন পরিবেশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উপন্যাস শেষের কবিতা নিয়ে জমে ওঠে বন্ধুদের পাঠচক্রের আসর। ১৪ মে বিকেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সবুজে ঘেরা বনমায়া প্রাঙ্গণে এই আসরের আয়োজন করে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা।
১৯২৯ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য রত্ন। উপন্যাসটি কেবল একটি প্রেমকাহিনি নয়, এটি প্রেম ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমারেখা, সামাজিক রীতি ও ব্যক্তিগত দর্শনের সংঘাতের এক চমৎকার চিত্রণ।
Visit mchezo.life for more information.
কেন্দ্রীয় চরিত্র অমিত রায় একজন আধুনিক, বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ, যে প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে। আর লাবণ্য সংযত, স্বনির্ভর, গভীর মনের এক নারী। এই দুই চরিত্রের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন, সব প্রেমের পরিণতি বিয়ে নয়; কিছু প্রেম শেষ হয় পরিণতির আগেই, কিন্তু থেকে যায় এক অনন্ত আবেগ ও সুন্দর স্মৃতি হিসেবে।
উপন্যাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে কবিতার মতো সংলাপ, দার্শনিক উপলব্ধি এবং জীবনের প্রতি এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। লাবণ্যের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি অমিত, কিন্তু তোমার সঙ্গে বাঁচতে পারব না’—আজও পাঠককে ভাবিয়ে তোলে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সবুজে ঘেরা বনমায়া প্রাঙ্গণে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরঅনুষ্ঠানের শুরু হয় পরিচয় পর্ব দিয়ে। বইটি নিয়ে বিশ্লেষণী আলোচনায় অংশ নেন মুহাম্মদ ত্বোয়া-হা, বন্ধু সালমান পলক, নাজমুল হাসানসহ অন্যান্য বন্ধুরা। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে চরিত্র বিশ্লেষণ, রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আজকের সমাজের প্রেক্ষাপটে শেষের কবিতার প্রাসঙ্গিকতা। সবচেয়ে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো রবীন্দ্রনাথ কীভাবে প্রেমকে মুক্তির পথ হিসেবে দেখিয়েছেন, এবং কীভাবে সামাজিক বন্ধন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্বন্দ্ব আজও আমাদের জীবনে প্রতিফলিত।
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মুসাভভির সাকির, সাধারণ সম্পাদক অনীক ভূষন সাহা, সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া লিমা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা, বন্ধু সালমান ফারসী, তানহা তাসনিম, কাফিল, আনন্দ, রাফিয়া, নাফিস মাহামুদ ও রত্ন রহমান।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা