জিম্বাবুয়ের এক টেস্ট ছাপিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টি অস্ট্রেলিয়ায়
· Prothom Alo

সিরিজ জিতলেই বোনাস—বাংলাদেশ ক্রিকেটে রীতিটা নতুন নয়। ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই উল্লেখ আছে ‘উইনিং বোনাস’–এর কথা। বড় সাফল্যে বোনাস থাকে এর বাইরেও। এবারও যেমন পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে বোনাস দিতে চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু রীতি ভেঙে ক্রিকেটাররা বিসিবিকে জানিয়েছেন, তাঁরা বোনাস নেবেন না। এই টাকায় শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ আর জিম সংস্কারের অনুরোধ জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
Visit umafrika.club for more information.
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতার পরিবর্তন ইদানীং মাঠের খেলাতেই দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে টেস্ট জয়ের পর পরের ম্যাচটা ফ্ল্যাট উইকেটে খেলে নিরাপদ থাকতে চাওয়াটা যেমন অস্বাভাবিক হতো না। কিন্তু সিলেটেও বাংলাদেশ দল স্পোর্টিং উইকেটেই খেলেছে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান মাঝে ভয় ধরালেও সেখানেও জিতেছে বাংলাদেশই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সাফল্যে বিশ্ব ক্রিকেটকেই একটা বার্তা দেওয়া গেছে বলে মনে করেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। গতকাল প্রথম আলোকে জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা সবাইকে একটা বার্তা দিতে পেরেছি, এমনকি নিজেদেরকেও। অনেক দেশই একটা টেস্ট জিতলে পরের টেস্টের জন্য ফ্ল্যাট উইকেট বানায়। হারার ভয় যেন না থাকে, সিরিজটা জেতা যায়...উদ্দেশ্য এটাই থাকে। আগে হলে আমরাও এমন করতাম। কিন্তু এখন আমরা তা করি না।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২–০তে সিরিজ জয়ে উচ্ছ্বাস আছে বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালেরও। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বেও এখন তামিম নিজেই। সিরিজ জয়ের কৃতিত্বটা তিনি দিয়েছেন দল সংশ্লিষ্টদেরই। মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে গতকাল তামিম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মাঠে যাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাঁদেরকে বাহবা দিতে হবে। কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার—এটা তাঁদের সাফল্য।’
ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারানোর পর টেস্টে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। জুলাইয়ে এক টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ে সফর করবে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। টেস্টে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তাই অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর পর আগামী আগস্টে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে দল। বাংলাদেশের বর্তমান দলের কোনো ক্রিকেটারেরই অবশ্য কোনো সংস্করণের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা নেই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতার পর নাজমুল হোসেনকঠিন সে লড়াইয়ের আগে দলকে আরও উন্নতির তাগাদা দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। উন্নতিটা কোথায় দরকার, হাবিবুল তা বলেছেন নির্দিষ্ট করেই, ‘একটা জায়গায় অবশ্যই আমাদের উন্নতি করতে হবে, সেটা হচ্ছে ওপেনিং। তিন নম্বরে যে খেলবে, সে ১০–১২ ওভারের মধ্যেই উইকেটে চলে আসছে। এটা ভালো বিষয় নয়। আমরা এখন র্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বরে আছি। ৪–৫–এ যেতে চাইলে আমাদের এই জায়গায় উন্নতি করতেই হবে।’ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ স্মৃতিটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য আনন্দেরই। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজের একটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ।
মাঝে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্ট থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের চিন্তাটা এখন অস্ট্রেলিয়াকে ঘিরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টটিকে বলা যায় অস্ট্রেলিয়া–পরীক্ষার আগে নিজেদের তৈরি করার একটা সুযোগ। চোট কিংবা ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’–এর কারণে কাউকে বিশ্রাম দিতে না হলে সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে চায় বাংলাদেশ।
হাবিবুলের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য এখন বাংলাদেশের আছে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই টেস্ট সিরিজের দিকে আমি তাকিয়ে থাকব। আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়াকে আমরা এই সিরিজে অন্তত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব। আমি বলছি না জিতব, কিন্তু তাদের চ্যালেঞ্জ অবশ্যই জানাতে পারি।’
ঘরের মাঠে সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পর ভিন্ন কন্ডিশনেও একই বার্তা দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময় বাংলাদেশ দলের জন্য।
বোনাসের টাকা সুইমিং পুলের জন্য দিলেন ক্রিকেটাররা