‘রাজবাড়ীর রাজা’র ওজন ৩৮ মণ, দাম ১৫ লাখ টাকা, বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারি

· Prothom Alo

বাড়ির গাভি থেকে জন্ম নেওয়া বাছুরটি লালন–পালন করে বড় করেছেন খামারি। সেটি এখন ৩৮ মণ ওজনের বিশাল এক ষাঁড়। সাদা-কালো রঙের অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের তিন বছর দুই মাস বয়সী ষাঁড়টি কোরবানির হাটে বিক্রি করা হবে। সুঠাম দেহ ও শান্ত স্বভাবের হওয়ায় ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজবাড়ীর রাজা’।

Visit albergomalica.it for more information.

ষাঁড়টির মালিক রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী শেখ। তবে এত বড় ষাঁড় বিক্রি হবে কি না, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।

বুধবার দুপুরে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি দোচালা টিনের ঘরের মধ্যে ষাঁড়টিকে দুই পাশ থেকে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘরে আরেকটি মাঝারি আকারের গাভিসহ একটি বাছুর রয়েছে। মাথার ওপর সিলিং ফ্যান ও ঘরের দরজার সামনে আরেকটি ফ্যান ঘুরছে। দিন-রাত এভাবে দুটি ফ্যান চালু থাকে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ষাঁড়টিকে প্রতিদিন গম, ভুট্টা, ছোলা, চাউলের গুড়া, খইল, আলু, ঘাসসহ যাবতীয় দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। ষাঁড়টিকে কখনো ইনজেকশন বা মোটাতাজাকরণের ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার খাবার খেত। এক বছর বয়সের পর থেকে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার খাবার দিতে হয়। নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে বড় করেছেন। তাঁর ছোট ছেলে সাহেব আলী সর্বক্ষণ ষাঁড়টির দেখভাল করেন। প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ষাঁড়টি দেখতে মানুষজন আসছেন।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘২০০৮ সালে কুষ্টিয়ার জগতি এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি গাভি কিনি। গাভিটি একটি বকনা বাছুর জন্ম দেয়। বাছুরটি বড় হয়ে এই ষাঁড়ের জন্ম দেয়। এর কয়েক মাস পর গাভিটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিক্রি করে দিই। মাকে বিক্রির আগপর্যন্ত প্রতিদিন এই ষাঁড় ১২ থেকে ১৪ লিটার দুধ খেত। কোনো দিন ওর মায়ের দুধ আমরা বিক্রি করিনি। মাঝেমধ্যে আমরা কিছু খেলেও বাকিটা ও-ই খেত।’

মোহাম্মদ আলী রোববার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত বড় গরু বাড়িতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। চারদিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়েছে। তাই রাজবাড়ীর রাজাকে বিক্রির জন্য ঢাকার গাবতলীতে নিয়ে এসেছি। এর আগে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে আসতেন, পরামর্শ দেন। তাঁরা কয়েক দিন আগে ফিতা দিয়ে মাপজোখ করে ৩৭ মণের বেশি ওজন দেখেছিলেন। এখন ওজন বেড়ে ৩৮ মণ ছাড়িয়েছে। বিক্রির জন্য ১৫ লাখ টাকা চাচ্ছি। ইতিমধ্যে ১১ থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দাম উঠেছে।’

পাশের গ্রাম থেকে দেখতে আসা সজল মণ্ডল বলেন, ‘এত বড় গরু আমার জীবনে আগে দেখিনি। আমি মাঝেমধ্যে গরুটিকে দেখতে আসি। যতই দেখি, তারপরও মন ভরে না। তাই বারবার গরুটি দেখতে আসি। মাঝেমধ্যে হাত দিয়ে ছুঁয়েও দেখি।’

ষাঁড়টিকে খাওয়াচ্ছেন খামারি মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাহেব আলী। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামে

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, এ বছর জেলায় ৮ হাজার ৮৭২ জন খামারি প্রায় ৭০ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজারের মতো ষাঁড়-বলদ রয়েছে। ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৪০ হাজারের মতো। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৫৫ হাজার। প্রায় ১৮ হাজার গবাদি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এসব গরু ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘ষাঁড়টি তার মায়ের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে। পাশাপাশি কুড়া, ভুসি, খইল, কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়েছে। গরুটি এলাকায় বিক্রি করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হতো। আমরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছি। খামারি তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল যেন পান, সেই কামনা করছি।’

Read full story at source