কথা রাখেনি ঢাকার দুই সিটি, ১২ ঘণ্টা পরেও পড়ে আছে বর্জ্য
· Prothom Alo

সরকারি ঘোষণা ছিল, পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সরানো হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আবার ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ বলেছিল নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করবে।
Visit newsbetting.bond for more information.
তবে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর দুই সিটির বিভিন্ন এলাকায় আজ শুক্রবার সকালেও কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ঈদের পরদিন শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্থানে কোরবানির পশুর বর্জ্য তখনো সরানো হয়নি। কোথাও বর্জ্য স্তূপ হয়ে জমে আছে, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ। কিছু এলাকায় দুর্গন্ধও ছড়াতে দেখা গেছে।
এ বছর কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ঈদের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, কাজ শুরুর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য সরানো হবে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, সরকার নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করা হবে।
বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনতবে আজ সকালে সরেজমিনে দুই সিটির মোট ২৯টি জায়গায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৮টি এবং দক্ষিণ সিটির ১১টি এলাকায় বর্জ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন এলাকায় মাংস কাটার চাটাই, পশুর খাদ্য হিসেবে আনা খড়-ভুসি এবং কোরবানির বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
উত্তর সিটিতে বর্জ্য
সকাল ৮টা ৫ মিনিট। মিরপুর-১১–এর ১৯ নম্বর লাইনের ২ নম্বর অ্যাভিনিউ।সকাল ৮টা ৭ মিনিট। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের চিত্র। ওই সড়কে তিন জায়গায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে ছিল।সকাল ৫টা ৫৫ মিনিট। সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়ক। ওই সড়কের তিনটি স্থানে এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছেঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন যেসব এলাকায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুর-১১ সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়ক, সাংবাদিক আবাসিক এলাকার পশ্চিম পাশের সড়ক, মিরপুর ১০/ডি এলাকার উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়ক, সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, মিরপুর-১০ গোলচত্বর–সংলগ্ন সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে, বেগম রোকেয়া সরণির পূর্ব মণিপুর এলাকা, শাহজাদপুর লেকভিউ সড়ক, গুলশানের ৫১, ৫৪, ৯৪ ও ১০৪ নম্বর সড়ক, বনানীর ২৩/এ সড়ক, বনানী এ ব্লকের ৪ নম্বর সড়ক, মিরপুর-১১-এর ১৯ নম্বর লাইনের ২ নম্বর অ্যাভিনিউ, ২১ নম্বর লাইনের ৩ নম্বর অ্যাভিনিউ এবং মিরপুর-১১-এর ডি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের তিনটি স্থান।
সকাল ৬টা। মিরপুর ১০/ডির মিরপুর উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তায় কোরবানির বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেসকাল ৬টা ৪ মিনিট। সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের চিত্রসকাল ৬টা ৬ মিনিট। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর–সংলগ্ন বেগম রোকেয়া সরণির সেন্ট্রাল প্লাজার সামনেসকাল ৬টা ৮ মিনিট। বেগম রোকেয়া সরণির পূর্ব মণিপুর অংশে। কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ ও রক্ত জমে, পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেসকাল ৭টা ৩১ মিনিট। শাহজাদপুর লেকভিউ সড়কের চিত্রসকাল ৭টা ৪৪ মিনিট। গুলশান ২ নম্বরের ৫৪ নম্বর সড়কদক্ষিণ সিটির অবস্থা কেমন
সকাল ৬টা ২৮ মিনিট। জিগাতলা হক ম্যানশনের সামনেঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন যেসব এলাকায় বর্জ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডিতে পপুলার মেডিকেল কলেজের পাশের সড়ক, জিগাতলায় হক ম্যানশনের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের সামনে, হাজারীবাগ মনেশ্বর রোড, গণকটুলী সিটি কলোনি এলাকা, বিজিবি ১ নম্বর গেটসংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার, চকবাজারের নূর ফাতাহ লেন, বকশীবাজারের অরফানেজ রোড, বকশীবাজার সিটি করপোরেশন মার্কেট, আগা সাদেক রোডের বাংলাদেশ মাঠ এবং নাজিরাবাজারের কাজী আলাউদ্দীন রোড।
সকাল ৬টা ৩৩ মিনিট। হাজারীবাগ মনেশ্বর রোডসকাল ৬টা ৩৪ মিনিট। গণকটুলী সিটি কলোনি এলাকা। কোরবানির পশুর রক্ত, বর্জ্য জমে আছে। পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেসকাল ৬টা ৪৮ মিনিট। বকশীবাজার সিটি করপোরেশন মার্কেটের পাশের সড়কে কোরবানির বর্জ্য পড়ে আছেসকাল ৬টা ৫৭ মিনিট। নাজিরাবাজার কাজী আলাউদ্দীন রোডে প্রায় অর্ধেক জায়গা কোরবানির পশুর বর্জ্য বন্ধ হয়ে আছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় পশুর লেজ, খুর, আংশিক চামড়া, মাড়ি, শিং, ভুড়ির বর্জ্য ও খুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও পশুর রক্তও জমে থাকতে দেখা যায়।
কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে চায় ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর ১২ ঘণ্টার আগেইডিএসসিসির কথা–কাজে অমিল
গতকাল রাত ৯টায় নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম দাবি করেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে এবং বাকি চারটি ওয়ার্ড—৮, ১১, ১৮ ও ৫৩ নম্বরে—প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে আজ সকালে যেসব এলাকায় কোরবানির বর্জ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো দক্ষিণ সিটির ১৪, ২২, ২৭, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত। এসব ওয়ার্ডকে আগের রাতেই শতভাগ বর্জ্যমুক্ত বলে দাবি করা হয়েছিল।