ফেনীতে ক্রেতা না পেয়ে নদীতে ফেলা হলো শতাধিক কোরবানির পশুর চামড়া
· Prothom Alo
কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন কিছু বাড়তি আয়ের আশায়। কিন্তু ক্রেতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে শতাধিক গরু ও খাসির চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন ফেনীর দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের কাটাখালী নদীতে এসব চামড়া ফেলে দেওয়া হয়। চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
চামড়া ফেলে দেওয়া দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী হলেন উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের দিদারুল আলম ও খুরশিদ আলম।
Visit catcross.org for more information.
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে নগদ অর্থ দিয়ে শতাধিক গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেন দিদারুল ও খুরশিদ। পরে সেগুলো বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারে নেওয়া হলেও গতকাল দুপুর পর্যন্ত কোনো চামড়া ব্যবসায়ীর দেখা পাননি তাঁরা। এদিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হওয়ায় চামড়াগুলোয় পচন ধরতে শুরু করে। একপর্যায়ে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে ভ্যানগাড়িতে করে চামড়াগুলো কাটাখালী নদীতে ফেলে দেন তাঁরা। পরে সেগুলো নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
খুরশিদ আলম বলেন, কিছুটা লাভের আশায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে নগদ অর্থ দিয়ে চামড়াগুলো কিনেছিলেন। বিক্রির আশায় গত বৃহস্পতিবার রাতভর অপেক্ষা করলেও কোনো ব্যবসায়ী আসেননি। প্রচণ্ড গরমে চামড়াগুলোয় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে। এতে তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
নদীতে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেওয়ায় পরিবেশদূষণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম বলেন, চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার ভিডিও প্রশাসনের নজরে এসেছে। চামড়া বিক্রি করতে না পারলে তাঁরা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানাতে পারতেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইউএনও বলেন, গতকাল রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই ব্যবসায়ী তাঁদের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে ফেনী শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, ক্রেতা না পাওয়ায় তিনি তাঁর কোরবানির গরুর চামড়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দান করেছেন। কয়েক বছর ধরেই একই কারণে তিনি চামড়া বিক্রি না করে দান করে আসছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেনী শহরের একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার সুপার জানান, এ বছর তাঁদের প্রতিষ্ঠানে শতাধিক গরুর চামড়া দান এসেছে। গত বছর প্রতিটি চামড়া সাড়ে ৪০০ টাকা করে বিক্রি করা গেলেও এবার কোনো দাম নির্ধারণ ছাড়াই আড়তে দিতে হয়েছে। আড়তদার বিক্রির পর মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে গতবারের তুলনায় কম দাম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ছয় উপজেলায় ৭৯ হাজার ৭৭৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষজাতীয় পশু ৬৩ হাজার ৫৫টি এবং ছাগল ও ভেড়া ১৬ হাজার ৭২১টি।