সন্তান অপহরণের অভিযোগে দুবাইয়ের শাসকের ভাতিজার স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

· Prothom Alo

দুবাইয়ের শাসকের ভাতিজার সাবেক স্ত্রী ও একসময়ের আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্ট জয়নব জাভাদলিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন বিবিসিকে বলেছে, জয়নব জাভাদলির তিন সন্তানের বাবা ও তাঁর সাবেক স্বামী শেখ সাঈদ বিন মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুমার করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে।

Visit afnews.co.za for more information.

ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতের অনুমোদিত সাক্ষাতের সময় জয়নব তাঁর সন্তানদের অপহরণ করেছেন।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে জয়নবের পরিবার ও বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রায় দুই দিন জয়নব ও তাঁর তিন সন্তানের কোনো খোঁজ মিলছিল না।

গ্রেপ্তার এড়াতে ও সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে কয়েক মাস ধরে জয়নব কার্যত গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছিলেন। জয়নবের আশঙ্কা ছিল, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যেকোনো সময় তাঁর সন্তানদের কেড়ে নিতে পারেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

এর আগে গত বছর জয়নবের সাবেক স্বামী তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে সন্তানদের অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানেরা কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে দুই অভিভাবকের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এ কারণে সন্তানদের কয়েক দফায় দুই অভিভাবকের মধ্যে হস্তান্তর হয়েছে। এ সময় উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে সন্তান অপহরণের অভিযোগ তুলেছিলেন।

জয়নব সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ই-ক্রাইম বা ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধ আইনেও গ্রেপ্তার হতে পারেন। তিনি গত বছর তাঁর সাবেক স্বামী শেখ সাঈদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন।

সেই সময় তাঁর পক্ষে লড়াই করা ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ডেভিড হেইগের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন জয়নব। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম, সন্তানদের সঙ্গে থাকার এটাই আমার শেষ সুযোগ। কারণ, তারা আমাকে আর কখনোই বাচ্চাদের দেখতে দেবে না। আমি মন থেকে বিশ্বাস করেছিলাম, এটাই আমার শেষ ভরসা। তাই, লাইভে এসে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলাম।’

আদালতের শুনানিতে শেখ সাঈদের আইনজীবীরা জয়নবকে মা হিসেবে অযোগ্য বলে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তাঁদের অভিযোগ, জয়নব সন্তানদের স্কুলে পাঠাননি এবং তাদের হোটেলে বসবাসের অনুপযুক্ত পরিবেশে রেখেছেন। এমনকি তিনি তাঁর ছোট মেয়ের স্বাস্থ্যকেও ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশন জানায়, পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শিশুদের কল্যাণ ও সর্বোচ্চ স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জবাবে জয়নবের আইনজীবী ডেভিড হেইগ সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জয়নবকে যেন অবিলম্বে তাঁর আইনজীবী, কনস্যুলেট ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দিয়ে দুবাইয়ে তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।

Read full story at source