বাপ্পা ভাইয়ের কথা শুনে বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি: মুক্তি
· Prothom Alo

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে এফডিসিপাড়ায় যখন আলোচনা বাড়ছে, তখন একটি সিদ্ধান্তে আবেগপ্রবণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে বাপ্পারাজ। আর তাঁর সেই সিদ্ধান্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। মুক্তির মতে, জীবনে মাত্র দুবার প্রকাশ্যে কেঁদেছেন তিনি। প্রথমবার বাবার মৃত্যুর পর। দ্বিতীয়বার কেঁদেছেন কয়েক দিন আগে, যখন বাপ্পারাজ তাঁকে জানান যে তিনি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
বাপ্পারাজ ও রুমানা ইসলাম মুক্তিশিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন সামনে রেখে সভাপতি পদে বাপ্পারাজের নাম ঘোষণার পর শিল্পীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুক্তি ছিলেন সবচেয়ে আশাবাদী ও উচ্ছ্বসিত। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা, বৈঠক ও আড্ডাতেও একসঙ্গে দেখা গেছে তাঁদের। কিন্তু সেই সমীকরণ বদলে যায় হঠাৎ করেই।
Visit newsbetting.bond for more information.
বাপ্পারাজগত সপ্তাহে বাপ্পারাজ জানান, তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রথম আলোকে বাপ্পারাজ বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কারণও আছে। নির্বাচন করে যদি সময় দিতে না পারি, তাহলে বিষয়টা ভালো দেখায় না। তাই নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আরমান ও মুক্তিবাপ্পারাজের এই ঘোষণার পর কী পরিস্থিতি হয়েছিল, সেটি নিজেই জানালেন মুক্তি। তিনি বললেন, ‘আমি কারও সামনে কখনো কান্না করি না। জীবনে দুবার কেঁদেছিলাম। একবার বাবা মারা যাওয়ার পর। আরেকবার এই কদিন আগে। যখন বাপ্পা ভাই বললেন, নির্বাচন করবেন না। আমি বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি। তখন খুব টেনশনে ছিলাম। ভাবছিলাম, এখন কী করব, কোথায় যাব। নির্বাচনের তো আর বেশি সময় নেই।’
বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর পর পুরো প্যানেল নতুন করে সভাপতি প্রার্থী খোঁজার কাজে নামে। তখনই সামনে আসে ফাইট ডিরেক্টর আরমানের নাম। মুক্তি বলেন, ‘আমাদের একজন সিনিয়র বললেন, আরমান হতে পারে। সত্যি বলতে, আমাদের কারও মাথায় তাঁর নাম ছিল না। কারণ, আরমান (ফাইট ডিরেক্টর আরমানকে মামা বলে ডাকেন) মামা সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন, পুরো প্যানেল সাজানোর কাজও করছিলেন। তিনি নিজেও চাইছিলেন কোনো নায়ক সভাপতি পদে আসুক। কিন্তু পরে আমরা ভাবলাম, আরমান মামাই তো এফডিসির প্রকৃত হিরো। ভোটারদের মতামত ও চাওয়ার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত তাঁকেই সভাপতি পদে চূড়ান্ত করা হয়।’