আইইএলটিএস প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করবেন
· Prothom Alo

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই পরীক্ষা হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইংরেজি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়ন, যা বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত স্কোর পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু গুছিয়ে পড়লে এবং সঠিক পথে এগোলে আইইএলটিএস মোটেও কঠিন নয়।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
আইইএলটিএস প্রস্তুতি শুরু করার আগে নিজের ইংরেজির বর্তমান অবস্থা বোঝা জরুরি। ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, যেমন ব্রিটিশ কাউন্সিল বা আইডিপি বাংলাদেশ, বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে মক টেস্টের সুবিধা দেয়। এই পরীক্ষাগুলো দিলে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবেন তাঁদের কোন সেকশনে বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার—লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং নাকি স্পিকিং। আইইএলটিএসে চারটি অংশ থাকে এবং প্রতিটির জন্য আলাদা কৌশল দরকার।
লিসেনিংয়ে প্রতিদিন বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, বা টেড টকের অডিও শোনার অভ্যাস করতে হবে। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী এই অংশে পিছিয়ে পড়েন। কারণ, ব্রিটিশ বা অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণ অপরিচিত লাগে। তাই আগে থেকে কানকে অভ্যস্ত করা দরকার।
রিডিংয়ে দ্রুত পড়ার দক্ষতা বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা যেমন ডেইলি স্টার, ডেইলি সান বা প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ পড়া ভালো অভ্যাস হতে পারে।
রাইটিংয়ে টাস্ক ওয়ান ও টাস্ক টু আলাদাভাবে প্র্যাকটিস করতে হবে। বিশেষত টাস্ক টুতে নিজের মতামত গুছিয়ে প্রকাশ করার দক্ষতা লাগে। প্রতিদিন একটি করে রচনা লিখলেও দ্রুত উন্নতি হয়।
স্পিকিংয়ে অনেকেই লজ্জা পান। কিন্তু বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ইউটিউবে আইইএলটিএস স্পিপিং মক টেস্ট দেখেও প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
সিভি তৈরি করবেন কীভাবেএখন আর শুধু কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। আইইএলটিএস ডট ওআরজি IELTS.org-এর ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে স্যাম্পল টেস্ট পাওয়া যায়। এ ছাড়া ক্যামব্রিজ আইইএলটিএস বইগুলো (১ থেকে ১৮) বাংলাদেশের যেকোনো বইয়ের দোকানে স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায়। এগুলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রস্তুতির উপকরণ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, পরীক্ষার কমপক্ষে ২-৩ মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। প্রতিদিন মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা নিয়মিত পড়লেই ভালো ফলাফল সম্ভব। হঠাৎ করে বেশি চাপ না নিয়ে ধীরে ধীরে এগোনোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
স্বপ্নের দেশে পড়তে যাওয়া বা ক্যারিয়ার গড়ার পথে আইইএলটিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত চর্চা এবং মনোবল ধরে রাখলে যেকোনো শিক্ষার্থীই কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোর অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধাবী—শুধু দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা।
সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা