স্বাস্থ্য বাজেট বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ

· Prothom Alo

এবার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সন্তোষজনক। থোক বরাদ্দের পরিমাণই প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যয়ের দক্ষতা না থাকায় এই টাকা ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি আছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখন স্বাস্থ্য খাতের বড় চ্যালেঞ্জ বাজেট বাস্তবায়ন করা।

Visit rouesnews.click for more information.

আজ রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য বাজেটের বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। নাগরিক সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও এআরকে ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজনে সহায়তা করে সুইডিশ দূতাবাস।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত কীভাবে চলবে বা চলা উচিত, তা নিয়ে বিএনপির একটি দল ২০২২ সালে কাজ শুরু করে। বিএনপি কী করতে চায়, তা তাদের ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় কমানো ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের কথা বলে আসছেন। এ বিষয়গুলো বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়ন করা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রুমানা হক। তিনি প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দে (৭ দশমিক ৪ শতাংশ) সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, স্টেন্ট, ইন্ট্রাকুলার লেন্স ও ক্যানসারের ওষুধের কাঁচামালে ভ্যাট প্রত্যাহার করায় চিকিৎসায় মানুষের নিজস্ব ব্যয় কমবে। কিডনির ডায়ালাইসিস করেন, এমন রোগীরাও বাজেটের সুফল ভোগ করবেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া ও ব্যয় করার ক্ষেত্রে অদক্ষতা আছে। জেলা হাসপাতাল, মাতৃ ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিভিন্ন ভাতা, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, এমএসআর, খাবারসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অব্যয়িত থাকে। টাকা ফেরত যায়। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বাজেট বাস্তবায়নে একটি যথাযথ পথরেখা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ ব্যবহার করা চ্যালেঞ্জের। এর জন্য খাত চিহ্নিত করতে হবে, প্রকল্প বা কর্মসূচি নিতে হবে, তা অনুমোদন করতে হবে এবং তারপরে তার বাস্তবায়ন হবে। এসব করতে সময় চলে গেলে বরাদ্দ অব্যয়িত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিগ্রস্ত—এই সাধারণ ধারণা জনমনে আছে। সরকারি ব্যবস্থাতেই হয়তো এই দুর্নীতির কারণ লুকিয়ে আছে। বর্তমান সরকার এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য জাকির হোসেন, ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক প্রধান খায়রুল ইসলাম ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন।

Read full story at source