লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু ইচ্ছাশক্তিই কি যথেষ্ট
· Prothom Alo

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে। কেউ কেউ সেই উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য পূরণ হলে সেখানেই পুরোপুরি আটকে যান। আবার কেউ নতুন কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেটা পূরণে আরেকটু বেশি কর্মদক্ষতা বাড়াতে চান। এই কর্মদক্ষতা, লক্ষ্য ও অর্জনে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন প্রেরণাদায়ক শক্তি।
অনুপ্রেরণা নানা দিক থেকে আসে এবং তা বাড়ানোর উপায়ও রয়েছে। কেউ নিজের মনের অভ্যন্তরীণ ইচ্ছাশক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে, আবার কেউ অন্য কারোর প্রশংসা, কাজ ও সফলতার মাধ্যমেও অনুপ্রেরণা লাভ করে। তবে অভ্যন্তরীণ প্রেরণা মানুষকে আরও জোরালোভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং এর ফলে অর্জিত সাফল্যও বেশি তৃপ্তিদায়ক হয়।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
অনুপ্রেরণা কোথা থেকে আসে
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘প্রেরণা’ শব্দটির অর্থ অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক উৎস থেকে উৎপত্তি হওয়া এমন একটি উদ্দীপনা, যা মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। এটি মানুষের মনের গভীর থেকে উঠে আসে এবং লক্ষ্য ও স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। জীবনে বড় কিছু অর্জনের জন্য শুধু ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়; সেই ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার জন্য অনুপ্রেরণার প্রয়োজন।
অনুপ্রেরণা সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি নিজের ভেতরের অভ্যন্তরীণ প্রেরণা, যা মানুষের জৈবিক চাহিদা, আবেগ এবং পরিবেশগত উদ্দীপনার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত বা বাধ্য করে। দ্বিতীয়টি বাহ্যিক প্রেরণা, যা বিভিন্ন প্রণোদনার দ্বারা অনুপ্রাণিত করে। যেমন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করার প্রেরণা, অথবা অবসর সময়ে শিল্পকর্ম তৈরি করার প্রেরণা ইত্যাদি। অনুপ্রেরণার অন্যান্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে কৌতূহল, নিজের মতো স্বাধীনচিত্তে বেঁচে থাকা, নিজের পরিচয় ও বিশ্বাসের স্বীকৃতি, ইতিবাচক আত্মভাবমূর্তি তৈরি এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন সমস্যা ও ক্ষতি এড়ানোর ইচ্ছা থেকেও অনুপ্রেরণা তৈরি হয়।
আইইএলটিএস প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করবেনলক্ষ্যে অবিচল থাকতে সাহায্য করে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. রিচার্ড রায়ান এবং ড. এডওয়ার্ড ডেসিদের মতে—বাহ্যিক অনুপ্রেরণার চেয়ে অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা মানুষকে লক্ষ্যে অবিচল রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। মাঝেমধ্যে হয়তো সবাই একেবারেই অনুপ্রাণিতবোধ করেন না এবং এটা খুব স্বাভাবিক। সেই পরিস্থিতিতে নিজের অস্বস্তিটা অনুভব করুন, নিজের ভেতরের নেতিবাচক কথাগুলো শুনুন, নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হোন এবং আবার কাজটি শুরু করুন।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি একটি কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করে বাড়ি ফিরেছেন। এবার থেকে শুধু বিশ্রাম নিতে ও অবসরে থাকতে চান। অবসরের এই সময়ে লক্ষ্য ঠিক করুন, প্রতিদিন অন্তত পাঁচ পৃষ্ঠা করে হলেও বই পড়বেন। সে জন্য আপনার বিছানার পাশে একটি বই রেখে দিন।
এই পদ্ধতি ইতিবাচক চিন্তা ও লক্ষ্য ঠিক রাখার প্রতি দৃঢ়ভাবে মনোবল জোগায়। একই সঙ্গে নিজের মধ্যে গেঁথে থাকা নেতিবাচক অভ্যাস ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতে বাধা প্রদান করে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ ড. গ্যাব্রিয়েল ওয়েনটিঙ্গেন, অনুপ্রেরণাকে বাস্তবসম্মত উপায়ে কাজে লাগানোর জন্য বলেছেন, ‘শুধু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখলেই লক্ষ্যে অবিচল থাকা যায় না। অনুপ্রেরণার পাশাপাশি পথে কী কী বাধা আসতে পারে, তা আগে থেকে কল্পনা করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে রাখলে লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সহজ হয়।’
কাজ জমিয়ে রাখার অভ্যাস দূর করা
কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. টিমোথি পাইচিলের মতে, কাজ জমিয়ে রাখা কোনো অলসতা বা সময় ব্যবস্থাপনার অভাব নয়; বরং এটি নেতিবাচক আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার মতো সমস্যা। তিনি বলেন, ‘কোনো কাজ শুরু করার মুড তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সময় বেধে কাজটি শুরু করুন। কাজের প্রতি উৎসাহ বেড়ে যাবে।’
একটি মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, একবার কাজ শুরু করলে কাজের প্রতি বিরক্তি বা ভয় দ্রুত সময়ের মধ্যে কেটে যায়। কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে প্রায়ই অস্বস্তি ও দীর্ঘ সময়ের জন্য অবসর নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় অধিকাংশ মানুষের। কিন্তু এই অস্বস্তি কাটিয়ে ওঠার এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা থেকে উঠে আসার উপায় হচ্ছে, যেকোনো কাজকে ছোট ছোট এবং সহজবোধ্য অংশে ভাগ করে নেওয়া। এরপর একটি ধাপ সম্পন্ন করার পর পরবর্তী আরেকটি ধাপ সম্পন্ন করার জন্য মনের মধ্যে উদ্দীপনা জেগে উঠবে।
সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত করার অভ্যাস নিজেকেও প্রেরণা জোগায়
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, ‘মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আত্ম-উপলব্ধি ও পরিপূর্ণ সুখের সন্ধান করা। শুধু নিজের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, সহকর্মীদের উন্নতিতে সহযোগিতা কিংবা উৎসাহিত করা মানুষের আত্মিক বিকাশ ঘটায়। সহকর্মীকে অনুপ্রাণিত করলে কাজের পরিবেশ ইতিবাচক হয়, যা পরোক্ষভাবে আপনার নিজের কাজের পরিধি ও দক্ষতাকে প্রসারিত করে।’
এ ছাড়া বিভিন্ন নামীদামি প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা কিংবা প্রমোশনের মাধ্যমে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে থাকে। কর্মীরা নির্ধারিত সুবিধার বাইরে বিশেষ পুরস্কার দ্বারা তখনই অনুপ্রাণিত হন, যখন তাঁরা বিশ্বাস করেন যে কঠোর পরিশ্রম করলে কর্মক্ষমতা আরও ভালো হবে, ভালো কর্মক্ষমতার জন্য তাঁরা পুরস্কৃত হবেন।
বন্ধু, কক্সবাজার বন্ধুসভা