কোন দেশের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি আত্মপ্রেমী

· Prothom Alo

নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করা, নিজের সাফল্য নিয়ে বেশি গর্ব করা বা সব সময় নিজের কথাই ভাবা—এই স্বভাবকে মনোবিজ্ঞানে নার্সিসিজম বা আত্মপ্রেম বলা হয়। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের মধ্যে নার্সিসিজমের মাত্রা একেক রকম। কিছু দেশে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশের আয়তন কেন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার বলি, ঘন কিলোমিটার নয়
গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আত্মপ্রেম বা আত্মমুগ্ধতার স্কোর পাওয়া প্রথম পাঁচটি দেশ হলো যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, চীন, ইরাক ও জার্মানি।

গবেষণাটি কীভাবে করা হয়েছিল

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৫৩টি দেশের ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর জরিপ করেন। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষদের তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, নিজের গুরুত্ববোধ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

Visit newsbetting.bond for more information.

যেসব দেশে নার্সিসিজম সবচেয়ে বেশি

গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আত্মপ্রেম বা আত্মমুগ্ধতার স্কোর পাওয়া প্রথম পাঁচটি দেশ হলো যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, চীন, ইরাক ও জার্মানি। অর্থাৎ সারা বিশ্বের ভেতর দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষেরা সবচেয়ে বেশি আত্মমুগ্ধ। এই পাঁচটি দেশের অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি ইতিবাচক, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও আত্মকেন্দ্রিক মত প্রকাশ করেছেন।

যেসব দেশে নার্সিসিজমের প্রবণতা সবচেয়ে কম

যেসব দেশের মানুষের মধ্যে নার্সিসিজম সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো যথাক্রমে সার্বিয়া, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক। ইউরোপের এই দেশগুলোর মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি বিনয়ী ও কম আত্মমুগ্ধ বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এই দেশগুলোর মানুষদের সহনশীলতা ও অন্যদের সাহায্য করার প্রবণতাও বেশি।

ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝখানে মাত্র ১৪ কিলোমিটার জলপথ, সেতু নেই কেন
গবেষকেরা বলছেন, নার্সিসিজম শুধু একটি দেশের বৈশিষ্ট্য নয়। এটি মানুষের একটি সাধারণ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, যা সংস্কৃতি, সমাজ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় দেখা যায়।

একটি চমকপ্রদ তথ্য

অনেকেই মনে করেন, আত্মমুগ্ধতা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকার ১৬তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ শীর্ষ পাঁচে নয়। এর একটি কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন। তবে যাঁরা আদি মার্কিন (ইউরোপীয়দের উপনিবেশ হওয়ার আগে থেকেই উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী নাগরিক), তাঁদের প্রজন্মের ভেতর আবার আত্মমুগ্ধতা বেশি।

গবেষকেরা বলছেন, নার্সিসিজম শুধু একটি দেশের বৈশিষ্ট্য নয়। এটি মানুষের একটি সাধারণ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, যা সংস্কৃতি, সমাজ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় দেখা যায়। নার্সিসিস্ট হওয়া খারাপ নয়, বরং প্রয়োজনীয় পরিমাণে নার্সিসিস্ট হওয়া স্বাস্থ্যকর। তবে ‘আমিই সেরা, আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ, আমিই সবচেয়ে সুন্দর বা আমি সবার চেয়ে ভালো বুঝি’—এই ধারণা কেবল অন্যদের জন্যই নয়, বরং ওই নার্সিসিস্ট ব্যক্তির জন্যই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। অতিরিক্ত নার্সিসিস্ট হওয়া ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নতি এবং সুখী হওয়ার পেছনে বড় বাধা।

সূত্র: সায়েন্স ফোকাসবনাঞ্চল বাড়াচ্ছে এমন সেরা ১০ দেশ

Read full story at source