প্যারিসে দেবীর আবির্ভাব: রাহুল মিশ্রর কতুরে মোহিত কার্ডি বি, নজর কাড়লেন ঈশা আম্বানিও

· Prothom Alo

প্যারিস ওত কতুর উইকের মঞ্চে এবার যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল ভারতের হাজার বছরের শিল্পঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনে ভারতীয় ডিজাইনার রাহুল মিশ্র উপস্থাপন করেন তাঁর নতুন কতুর সংগ্রহ ‘দেবী’। আর সেই সংগ্রহের সবচেয়ে আলোচিত দুই মুখ ছিলেন বিশ্বখ্যাত র্যাপার কার্ডি বি এবং ভারতের ব্যবসায়ী ও ফ্যাশন আইকন ঈশা আম্বানি।

দুজনের লুকই ছিল ভিন্ন, কিন্তু এক সুতোয় বাঁধা। নারীর শক্তি, সৌন্দর্য ও শিল্পের অনন্য প্রকাশ।

Visit sportbet.rodeo for more information.

কার্ডি বি যেন আধুনিক যুগের দেবী

সবসময় সাহসী ফ্যাশনের জন্য পরিচিত কার্ডি বি এবার নিজেকে হাজির করেন একেবারে অন্য রূপে। রাহুল মিশ্রর ‘দেবী’ সংগ্রহ থেকে তৈরি বিশেষ আইভরি-সাদা কতুর গাউনে তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন প্রাচীন কোনো মন্দিরের দেবীমূর্তি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

গাউনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর ভাস্কর্যসদৃশ নকশা। স্বচ্ছ বডিসের ওপর মুক্তা, ক্রিস্টাল এবং সূক্ষ্ম হ্যান্ড এমব্রয়ডারিতে এমনভাবে অলংকরণের ছাপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যেন প্রাচীন পাথরের মূর্তিতে খোদাই করা গয়না।

কাঁধজুড়ে মুক্তাখচিত স্ট্র্যাপ, কোমরে বিডওয়ার্ক, হাতে তৈরি ফ্রিঞ্জ এবং ভাস্কর্যের মতো গঠন পুরো পোশাকটিকে শিল্পকর্মে পরিণত করেছিল।

লুকটি সম্পূর্ণ করতে কার্ডি বি বেছে নিয়েছিলেন মাঝখানে সিঁথি করা লম্বা বেণী, কপালে ক্রিস্টালের অলংকার, লম্বা ডায়মন্ড কানের দুল এবং নরম গ্ল্যাম মেকআপ। চোখের নিচে ছোট্ট একটি ক্রিস্টাল তাঁর লুকে যোগ করেছিল স্বর্গীয় আবহ।

শোয়ের আগে নিজের ইনস্টাগ্রামে একাধিক ছবি শেয়ার করে কার্ডি বি লিখেছিলেন, ‘আমি শুধু প্রিন্সেস ট্রিটমেন্টই গ্রহণ করি।’ পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ তাঁকে বলেছেন ‘ওয়াকিং আর্ট’, কেউ ‘প্রিন্সেস গডেস’, আবার অনেকেই লিখেছেন ‘আপনার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষনীয় লুক’।

রাহুল মিশ্র নিজেও মন্তব্য করে কার্ডি বিকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তাঁর উপস্থিতি এই শোকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।

ঈশা আম্বানির ধূসর কতুরে রাজকীয় উপস্থিতি

কার্ডি বি-র মতোই দর্শকদের নজর কাড়েন ঈশা আম্বানি। তিনি পরেছিলেন ধাতব ধূসর রঙের একটি কাস্টম স্ট্র্যাপলেস কতুর গাউন। করসেট বডিসজুড়ে ছিল টোনাল এমব্রয়ডারি, ক্রিস্টাল, সিকুইন এবং ত্রিমাত্রিক বিডওয়ার্ক। পুরো নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যেন গাউনের ওপর একের পর এক গয়না ঝুলছে।

ফিটেড বডিসের সঙ্গে ড্রেপড স্কার্ট এবং কোমরের পাশে ফুলের অ্যাপ্লিক কাজ পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক অথচ রাজকীয় আবেদন। কাঁধে হালকা স্বচ্ছ স্টোল যোগ করেছিল কোমলতা ও সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা।

সবার নজর কেড়ে নিল যে ব্যাগ

ঈশার পুরো লুকের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তাঁর হাতে থাকা বিরল  আরমেস স্যাক বিজো ব্রিকেন।১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ড দিয়ে তৈরি এই ক্ষুদ্রাকৃতির বিলাসবহুল ব্যাগটিতে বসানো রয়েছে ৩,০২৫টি হীরা, যার মোট ওজন ১১১.০৯ ক্যারেট। বিশ্বের সবচেয়ে বিরল ও ব্যয়বহুল ব্যাগগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
মজার বিষয় হলো, এই একই ব্যাগ কয়েক বছর আগে ব্যবহার করেছিলেন নীতা আম্বানি। ফলে ঈশার এই উপস্থিতি ছিল মায়ের বিখ্যাত সংগ্রহের প্রতি সম্মান জানানো।

‘দেবী’ যেখানে ফ্যাশনের সঙ্গে মিশেছে ইতিহাস

রাহুল মিশ্রর এবারের কতুর সংগ্রহ ‘দেবী’ অনুপ্রাণিত হয়েছে ভারতের দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো মন্দিরের দেবীমূর্তি এবং প্রাচীন ভাস্কর্য থেকে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন পাথরের মূর্তিতে খোদাই করা অলংকার, ভঙ্গিমা ও ভাস্কর্যের সৌন্দর্যকে তিনি আধুনিক কতুরে রূপ দিয়েছেন।

সাদা, ধূসর, কালো, ব্রোঞ্জ ও সোনালি রঙের এই সংগ্রহে দেখা গেছে সূক্ষ্ম হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, জটিল বিডওয়ার্ক, অ্যাপ্লিকে, হাতে আঁকা নকশা এবং ভাস্কর্যধর্মী সিলুয়েট। অনেক পোশাকেই এমন অলংকরণ ছিল, যা দেখে মনে হয় যেন গয়নাগুলো কাপড়ের ওপর নয়, পাথরের গায়ে খোদাই করা।

শোয়ের গয়নাগুলো তৈরি করেছে ভারতের জনপ্রিয় জুয়েলারি ব্র্যান্ড তানিষ্ক, যারা কয়েক মৌসুম ধরেই রাহুল মিশ্রর সঙ্গে কাজ করছে।

প্যারিস ওত কতুর উইকে রাহুল মিশ্র শুধু একটি ফ্যাশন শো উপস্থাপন করেননি; তিনি ভারতীয় শিল্প, ইতিহাস ও নারীত্বের শক্তিকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন।
সামনের সারিতে পাশাপাশি বসে থাকা কার্ডি বি ও ঈশা আম্বানি যেন সেই গল্পেরই দুই ভিন্ন চরিত্র।

একজন আন্তর্জাতিক পপ সংস্কৃতির আইকন, অন্যজন ভারতীয় বিলাসবহুল ফ্যাশনের পরিচিত মুখ। দুজনের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, ভারতীয় ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত কতুর আজ শুধু দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ব ফ্যাশনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চেও সমানভাবে আলো ছড়াচ্ছে।

ছবি: এএফপি ও ইনস্টাগ্রাম

Read full story at source