মধুপুরের বেদুরিয়া গ্রামে টেলিটকের টাওয়ার চালু, গ্রামবাসী উচ্ছ্বসিত

· Prothom Alo

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে রয়েছে গায়রা, গাছাবাড়ি, ইদিলপুরসহ অনেক গ্রাম। গ্রামগুলোতে বসবাস করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী গারোর সদস্যরা। অবাক করা বিষয় হলো, এই এলাকার বেশ কিছু তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন। অর্থাৎ এই বনাঞ্চলে বসেই তাঁরা বিদেশের গ্রাহকদের কাজ করে দিচ্ছেন। আয় করছেন ডলারে। কিন্তু তাঁদের কাজের প্রধান সমস্যা ছিল ধীরগতির ইন্টারনেট। এ নিয়ে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো অনলাইনে ‘ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়েই ফ্রিল্যান্সিং করেন গারো তরুণেরা’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর মধুপুর উপজেলার গায়রা গ্রামে উচ্চ গতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট সংযোগ দেয় ঢাকার ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাম্বার আইটি ও মুঠোফোন সেবাদাতা গ্রামীণফোন।

এরপর প্রায় দুই বছর মধুপুরের বেদুরিয়া গ্রামে টেলিটক টাওয়ার স্থাপন করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন তা সংযোগবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। সর্বশেষ গত ১৪ মে সংযোগ দেওয়া হয় মধুপুরের বেদুরিয়া গ্রামে। ফলে আশপাশের আরও ছয়টি গ্রাম ইন্টারনেটের সুবিধা পাচ্ছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম আলোতে এর আগে ‘মধুপুর বনের ফ্রিল্যান্সাররা ৪জি পেলেন’ শিরোনামের পর ভেবেছিলাম আমাদের গ্রামগুলোতেও দ্রুত ইন্টারনেট টাওয়ার ও সংযোগ আসবে; কিন্তু প্রায় দীর্ঘ তিন বছর অপেক্ষার পর নেটওয়ার্ক পাওয়া গেল। এই গ্রামের কাজল চিসিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘অনেক জল্পনা কল্পনা ও সাধনার পর নেটওয়ার্ক এর দেখা পেল বেদুরিয়াবাসী। ধন্যবাদ টেলিটক অপারেটর এবং বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন মহোদয়কে।’

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

বেদুরিয়ার ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার রিচার্ড দফো প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেদুরিয়া থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে টেলিটক নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে জালাবাদা, সাধুপাড়া, কাকড়াগুনি, বেদুরিয়া, বন্দরিয়া, লাংগলভাঙ্গা, জয়নাগাছা, হরিণধরা উল্ল্যেখযোগ্য। তবে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেলিটকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো টাওয়ারের ব্যাকআপ ব্যাটারিতে সমস্যা আছে। ঘরের বাইরে ভালোই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে; কিন্তু ঘরের ভেতরে কোনোভাবেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’

গায়রা গ্রামের ডিজিটাল মার্কেটার জেস এন্ড্রুজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেদুরিয়া গ্রামের স্বপ্নপূরণ হয়েছে জেনে আমরা গায়রা গ্রামবাসীও উচ্ছ্বসিত।’

নকরেক আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকতা সুবীর নকরেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূইয়া মাহবুব লতিফ একদিন আমাকে ফোন করেন কানাডা থেকে। তিনি মধুপুর বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীকে বলে বেদুরিয়ার টাওয়ারে দ্রুত নেটওয়ার্ক প্রদানের আশ্বাস দেন। এর দুই মাস পরেই মধুপুরের বেদুরিয়া গ্রামে টেলিটক টাওয়ারে ফোর–জি সংযোগ দেওয়ার খবর পাই। আমাদের আনন্দ হচ্ছে সরকারের এই উদ্যোগে।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আজ নিজ কার্যলয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যদি কারও জন্য কিছু করতে পারি এবং আমার এই কাজে মানুষ যদি উপকৃত হয়, ইউ হ্যাভ টু এনজয় ইট। মানুষ যদি আমার কাজে খুশি হন, কাজটা কারও উপকার করে, তাহলে কিন্তু এই কাজটা আমার করতে ইচ্ছা করবে। এই যে একটা কিছু করতে পেরেছি জেনে আমার খুব আনন্দ লাগছে, ভালো লাগছে। শুধু বন নয়, পাহাড়সহ যত প্রত্যন্ত এলাকা আছে, সেসব স্থানে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’

Read full story at source