যাঁর কারণে ফুটবলে লাল-হলুদ কার্ডের জন্ম, সেই আর্জেন্টাইন রাতিন আর নেই

· Prothom Alo

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের হাতের দিকে তাকিয়েছেন?

Visit newsbetting.bond for more information.

লিওনেল মেসি, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারদের বাহুতে কালো বন্ধনী পরা। শোকের এই প্রতীক আর্জেন্টাইনরা পরেছেন আন্তোনিও রাতিনের স্মরণে। আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডারের জীবনাবসান ঘটেছে। আজ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিরা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নামার কিছুক্ষণ আগে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

ফুটবলার রাতিন তাঁর ১৫ বছরের পুরোটা সময় খেলেছেন বোকা জুনিয়র্সে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলেছেন ১০ বছর। এর মধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসচর্চায় তাঁর নাম বিশেষভাবেই উচ্চারিত হয়। বিশ্বকাপে লাল ও হলুদ কার্ড চালুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাতিনের নাম।

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া রাতিন খেলেছেন ১৯৬২ ও ১৯৬৬ আসরে। এর মধ্যে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের কারণে তিনি বেশি আলোচিত। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে একটি ফাউলের প্রতিবাদ করায় রেফারি রাতিনকে মাঠ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ (সেন্ট অফ) দেন। সে সময় রেফারিরা কার্ড ব্যবহার করতেন না, বরং মুখে বলেই খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিতেন।

শুরুতে মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান রাতিন। তিনি দাবি করেন, জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রেইটলেইন কী বলছিলেন তা বুঝতে পারেননি, কারণ রেফারি স্প্যানিশ ভাষা জানতেন না। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাতিন অদ্ভুত কাণ্ড করেন।

পরে এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণা করে রাতিন নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি যখন মাঠের কোনায় পৌঁছালাম, তখন ইংল্যান্ডের পতাকাটি মুচড়ে দিই এবং তাদের গালি দিই। এরপর রানি যে গালিচা দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতেন, সেটির ওপর গিয়ে প্রায় ৫ মিনিট বসে থাকি। লালগালিচাটি সত্যিই খুব সুন্দর ছিল।’

রাতিনের স্মরণে কালো বাহু বন্ধনী পরে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামে আর্জেন্টিনা

পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও রেফারিদের মধ্যে ভাষার এই যোগাযোগ সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হয় ফিফা। ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান কেনেথ জর্জ অ্যাস্টন ট্রাফিক লাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৭ সালে ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ডের ধারণা নিয়ে আসেন। ১৯৭০ সালে এই কার্ড ব্যবস্থার প্রচলন ঘটানো হয় বিশ্বকাপে।

ওয়েম্বলিতে রাতিনের সেই প্রতিবাদী ঘটনাটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবলীয় শত্রুতারও জন্ম দিয়েছিল, যা ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ আর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের কারণে নতুন মাত্রা পায়।

সেই রাতিন আজ এমন এক দিনে বিদায় নিলেন, যখন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেমেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারলে শেষ চারে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সেই ইংল্যান্ডই।

ঝুলন্ত তারে লাগা বলে ইংল্যান্ডের গোল, ফিফা কী বলছে

Read full story at source