অপু দ্য বুকাসুকা আশরাফুল
· Prothom Alo

আমার বয়স তখন ১৯। সিজিপিএ আর স্কলারশিপের ধান্দায় দিনরাত খাটাখাটনি করছি, লাইফটা পুরাই ডেড ইনসাইড। ঠিক তখনই আমার টেবিলের ওপর একটা ছবি ড্রপ হলো। নো ফিল্টার, নো মেকআপ, নো আড়ং-এর ওভারপ্রাইসড শাড়ি। ওল্ড স্কুল শাড়িতে জাস্ট গড লেভেল ভাইব! ওখানেই আমি ক্রাশ খেয়ে গেলাম, একদম সিম্পিং মোড অন। আমি তার নাম রাখলাম শিশির। সে ছিল একদম রিফ্রেশিং আর সকালের কড়া রোদে (মানে আমার ফ্যামিলির গ্যাঞ্জামে) সে যে এত জলদি ভ্যানিশ হবে, ভাবি নাই!
আমার বাপ আবার একটা গোল্ড ডিগার। মানি-মাইন্ডেড মাইন্ডসেট। ওনার লজিক, মেয়ের বয়স যেহেতু একটু বেশি, তার মানে মেয়ের বাপের ব্যাংক ব্যালেন্সের সাইজও হেভি থিক। সো, গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে ওনারা ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে দিলেন। বিয়ের আসরে যখন ওর সফট হাতটা আমার হাতে টাচ করল, আমার ভেতরের মেইন ক্যারেক্টার এনার্জি জেগে উঠল। মনে মনে ভাবলাম, আই ফাইনালি ওয়ান দ্য গেম, ব্রো!
Visit lebandit.lat for more information.
কিন্তু টুইস্ট তো তখনই শুরু হলো, যখন সে আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলির টক্সিক ডেরায় পা রাখল। শিশির ছিল একদম ওজি আর স্পনটেনিয়াস। সে কোনো ব্যাকবিটিং, স্মল টক বা চাটুকারিতা বুঝত না। আর আমার ফ্যামিলি? পুরাই হিপোক্রিট আর গ্যাসলাইটিংয়ে ওস্তাদ!
সবচেয়ে বড় গ্যাঞ্জামটা লাগল যখন শিশির হাইড অ্যান্ড সিক গেম না করে সোজা ডিক্লেয়ার করে দিল যে তার বয়স ১৭। ব্যস! আমার মা আর পিসিরা তো পুরাই শকড! ওনাদের রিঅ্যাকশন ছিল—কীহ্! এত ইভার এজড মেয়ে!
তখনকার সোসাইটির কাছে ১৭ বছরের অবিবাহিত মেয়ে মানে অলরেডি এক্সপায়ার্ড। ওনারা শিশিরকে মেন্টাল টর্চার করতে করতে ক্যানসেল করার মিশনে নেমে গেলেন।
এর মধ্যে ক্যাশ কালেকশন নিয়েও ড্রামা জমল। আমার বাপের আইডিয়া ছিল, আমার শ্বশুরের সব ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসেট ওনার অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হবে। কিন্তু আমার শ্বশুরমশাই রিটায়ারমেন্টের পর যখন নিজের জমানো সব টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি করে শিশিরের নামে পাঠালেন, আমার বাপের ইগোতে লাগল। ওনার চাই ক্যাশ। তাও নিজের অ্যাকাউন্টে।! ইগো দেখাতে গিয়ে উনি পুরা টাকাটাই ক্যাশব্যাক করলেন। নিজের বাপের এ অপমান দেখে শিশির মেন্টালি পুরাই ব্রেকডাউন করল।
আর আমি? অনেস্টলি স্পিকিং, আমি ছিলাম একটা বুকাসুকা আশরাফুল। বউকে ভালোবাসলেও ফ্যামিলির টক্সিসিটি আর ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের এগেইনস্টে গিয়ে একটা শক্ত স্ট্যান্ড নেওয়ার মতো বলস আমার ছিল না। আমি জাস্ট এককোনায় বসে উইটনেস হয়ে রইলাম।
টানা মেন্টাল হ্যারাসমেন্ট আর একাকিত্বে শিশিরের হেলথ কন্ডিশন যখন লো হতে শুরু করল, আমার ফ্যামিলি প্রোপার ডক্টর না ডেকে লোকদেখানো কবিরাজি দিয়ে স্ক্যাম করতে লাগল।
লং স্টোরি শর্ট, ভোরের শিশির যেমন সকালের কড়া রোদে ইভাপোরেট হয়ে যায়, তেমনই এই টক্সিক খাঁচার ভেতরে এক্সট্রিম লেভেলের ট্রমা নিয়ে আমার শিশিরও একদিন পার্মানেন্টলি লেফট দ্য চ্যাট! দুনিয়ার সব ফালতু নিয়ম আর সমাজের টক্সিক ইগো জিতে গেল আর আমি রয়ে গেলাম বুকাসুকা আশরাফুল হয়ে।