৭ লাখ কৃষকের ৬০০ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ
· Prothom Alo

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষি খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি সরকার। তারই অংশ হিসেবে গত ৫ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০০ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কৃষি ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে এসব ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে তথ্য যাচাই-বাছাই ও হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষকদের এই মওকুফ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
Visit moryak.biz for more information.
বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে মওকুফ হবে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুফল পাবেন।
সরকারের সেই নির্দেশনা অনুসারে, দেশের ৪৮টি জেলার ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষকের মোট ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ মওকুফ করেছে কৃষি ব্যাংক। কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে মোট বিতরণ করা কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশই এককভাবে প্রদান করে ব্যাংকটি। কৃষি ব্যাংক জানায়, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে কৃষি ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার ঘোষিত মোট মওকুফ করা ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশই এককভাবে বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে কৃষি ব্যাংক আরও বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা কৃষিঋণ প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজার মন্দা ও নানা ধরনের আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ফলে ব্যাংকের পাওনা অনাদায়ী থাকার কারণে এসব কৃষক নতুন করে ঋণ পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনার আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষকের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে পুরোপুরি মুক্ত হলেন। এতে তাঁরা আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে নতুন করে ঋণ নিয়ে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হতে পারবেন।
বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খান, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার, প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। এবার আবার ঋণ মওকুফ করা হলো।
কৃষি খাতে এককভাবে কৃষকদের সর্বোচ্চ ঋণ দেয় কৃষি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত কৃষিঋণ–সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই–মে) কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ওই ১১ মাসে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।