বাংলার ছয় ঋতুকে পোশাকের ক্যানভাসে তুলে ধরলেন বিইউএফটির শিক্ষার্থী

· Prothom Alo

বাংলার ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যময় রূপ, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনকে পোশাকের নকশায় তুলে ধরেছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থী মাহমুদা ইসলাম হানি।

Visit milkshakeslot.com for more information.

বাংলার প্রকৃতি বছরে ছয়বার নতুন রূপে ধরা দেয়। কখনো প্রখর রোদের গ্রীষ্ম, কখনো বৃষ্টিস্নাত বর্ষা, কখনো কাশফুলে মোড়া শরৎ, আবার সোনালি ধানে ভরা হেমন্ত। শীত পেরিয়ে রঙিন ফুলের উচ্ছ্বাসে আসে বসন্ত। প্রকৃতির এই ধারাবাহিক রূপান্তরই বাংলাদেশের অন্যতম সৌন্দর্য।

সেই বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যকে সমকালীন নকশায় রূপ দিয়েছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) ফ্যাশন স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদা ইসলাম হানি। তাঁর ফ্যাশন কালেকশনের নাম ‘ছয়ের ছন্দ’ (রিদম অব সিক্স)।

্যাশন কালেকশন ডেভেলপমেন্ট স্টুডিও কোর্সের ফাইনাল প্রকল্প হিসেবে তিনি কালেকশনটি বানিয়েছেন। অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন বাংলাদেশের ছয় ঋতুকে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত—প্রতিটি ঋতুর স্বতন্ত্র রং, আবহ, প্রকৃতি ও জীবনধারাকে সমকালীন ফ্যাশনের নকশায় তুলে ধরেছেন তিনি।

তাঁর বিশ্বাস, ঋতুর প্রতিটি পালাবদল প্রকৃতির একেকটি স্বতন্ত্র ছন্দ বহন করে। সেই ছন্দই কখনো রঙের ব্যবহারে, কখনো টেক্সচার, মোটিফ কিংবা সিলুয়েটের বিন্যাসে ফুটে উঠেছে এই কালেকশনে। ফলে ‘ছয়ের ছন্দ’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের এক সৃজনশীল উপস্থাপনা।

সংগ্রহটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, প্রতিটি পোশাক যেন একটি জীবন্ত চিত্রপট। স্বচ্ছ অরগাঞ্জা কাপড়ের ওপর হাতে আঁকা চিত্র, সূচিকর্ম এবং পুঁতির অলংকরণের সমন্বয়ে ফুটে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি, লোকজ জীবন ও ঋতু পরিবর্তনের গল্প। কালার প্যালেটেও ডিজাইনার দিয়েছেন মুনশিয়ানার পরিচয়। সফট টোন, প্যাস্টেল কালার প্যালেটে সাজিয়েছেন তিনি এই কালেকশন।

একটি নকশায় হলুদ রঙের বিস্তীর্ণ খেত, গাছ, গ্রামের পথ ও মানুষের উপস্থিতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত গ্রামবাংলার দৃশ্য। সেই আবহকে আরও সম্পূর্ণ করতে পোশাকটির সঙ্গে রাখা হয়েছে পাখি-মোটিফের হাতে তৈরি ব্যাগ। আরেকটি নকশায় আকাশি ও ধূসর আভায় ফুটে উঠেছে বর্ষাকালের আকাশ।

মেঘ, নদী, নৌকা, বৃষ্টির রেখা এবং নদীতীরের সবুজ প্রকৃতি একসঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বর্ষার চিরচেনা আবহ। পোশাকটির নিচের অংশে কড়ি ও নীল ট্যাসেলের ব্যবহারও নজর কাড়ে।

স্বচ্ছ অরগাঞ্জার একটি শ্রাগের পেছনে সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খোলা মাঠ, দোলনায় দুলতে থাকা শিশু, গাছপালা, কুঁড়েঘর ও সূর্যের দৃশ্য। নিচের অংশে রঙিন অরগাঞ্জার স্তর এবং লম্বা রঙিন ফিতার ব্যবহার পোশাকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সংগ্রহের অন্য নকশাগুলোতেও ফুটে উঠেছে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, বিস্তীর্ণ পাকা ধানের খেত, কৃষকের কর্মব্যস্ততা এবং গ্রামীণ বসতি। সব মিলিয়ে বাংলার হেমন্ত যেন ধরা দিয়েছে এক পরিধানযোগ্য শিল্পকর্মে।

পুরুষদের পোশাকেও একই নান্দনিক ধারা বজায় রাখা হয়েছে। স্বচ্ছ অরগাঞ্জার শার্টে হাতে আঁকা চিত্র ও সূচিকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফুলে ভরা গাছ, গ্রামের পথ, মানুষ, নদীতীর এবং সবুজ প্রকৃতির দৃশ্য। অন্য একটি নকশায় পুকুরজুড়ে ভাসমান শাপলা, সাঁতার কাটা হাঁস, তালগাছ, লাল টালির ঘর ও মেঘলা আকাশ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বাংলার শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ।

অ্যাকসেসরিজেও ছিল একই ভাবনার প্রতিফলন। পাখির আকৃতির হাতে তৈরি ব্যাগ, গ্রামীণ মোটিফ–সংবলিত হ্যান্ডব্যাগ, কড়ি, ট্যাসেল এবং রঙিন ফিতার ব্যবহার পুরো কালেকশনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রতিটি অনুষঙ্গ মূল নকশারই সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে কাজ করেছে।

‘ছয়ের ছন্দ’ শুধু একটি ফ্যাশন কালেকশন নয়; এটি বাংলাদেশের ঋতুচক্র, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনকে শিল্পসম্মতভাবে ধারণ করার একটি প্রয়াস। দ্রুত বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ফ্যাশনের ভিড়ে নিজের সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে সমকালীন নকশার মাধ্যমে তুলে ধরার এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

থিম: ছয়ের ছন্দ (Rhythm of Six)

বিষয়: বাংলার ছয় ঋতু

কোর্স: ফ্যাশন কালেকশন ডেভেলপমেন্ট স্টুডিও

কোর্স সমন্বয়কারী: আফসানা ফেরদৌসী

Read full story at source