পান্ডা চালাক নাকি বুদ্ধিহীন

· Prothom Alo

খাবারের প্রতি বাড়তি লোভ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের সুবিধা এবং সুরের মূর্ছনায় মেতে ওঠার মতো ঘটনা দেখে মনে হতে পারে, পান্ডা বুঝি প্রাণিকুলের সবচেয়ে চালাক প্রাণী! আবার তাদের কিছু কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হবে এদের মতো বুদ্ধিহীন প্রাণী আর নেই। বাঁশ খেয়ে বেঁচে থাকা এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীরা আসলে কতটা বুদ্ধিমান, নাকি নিছক নির্বোধ, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই।

Visit sport-tr.bet for more information.

চীনা ব্রিডিং সেন্টারের আই হিন নামের একটি নারী পান্ডা গর্ভাবস্থার ভান করে কর্মীদের চমকে দিয়েছিল। গর্ভবতী মনে করে তাকে এসি রুম এবং অতিরিক্ত ফল ও বাঁশ রেশন হিসেবে দেওয়া হয়। সেই সব সুবিধা পাওয়ার পরই সে স্বাভাবিক আচরণ করে। তখনই পান্ডার প্রতারণা ধরা পড়ে যায়। সাধারণভাবে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পান্ডাদের খামখেয়ালি রূপ অবাক করার মতো।

যুক্তরাজ্যের এডিনবরা চিড়িয়াখানায় তিয়ান তিয়ান ও ইয়াং গুয়াং নামের দুটি পান্ডাকে প্রজননের জন্য কাছাকাছি আনতে কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। লাভ টানেল থেকে শুরু করে সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল এই জুটি। এমনকি তাদের উৎসাহিত করতে পান্ডার প্রজননের ভিডিও দেখানো হয়। সঙ্গে বাজানো হয় আরামদায়ক গান। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য তাদের রাখা হয়েছিল পার্সোনাল ট্রেইনারও। শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম প্রজননের সাহায্য নিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।

পান্ডাদের খাবারের ধরনও বেশ রহস্যময়। মাংসাশী প্রাণীদের মতো পরিপাকতন্ত্র থাকা সত্ত্বেও তারা নিরামিষাশী হিসেবে বাঁশ খেয়ে দিন কাটায়। এর ফলে খাবার থেকে তারা প্রয়োজনীয় শক্তি খুব কম পায়। শরীর বাঁচিয়ে রাখতে তাদের দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কেবল খেয়েই কাটাতে হয়। তবে বাঁশ শক্ত করে ধরার জন্য এদের হাতের থাবার হাড় বিশেষভাবে বিবর্তিত হয়েছে, যা দেখতে হাতের বুড়ো আঙুলের মতো কাজ করে। এটি বিবর্তনের এক চমৎকার উদাহরণ। বিভিন্ন চিড়িয়াখানার ভেতরে মজার সব কাণ্ড দেখে অনেকেই পান্ডাকে বুদ্ধিমান বলে মনে করেন। চালাক কিংবা নির্বোধ যা–ই বলা হোক না কেন, তাদের কিউট রূপ সব বিতর্ককেই যেন ভুলিয়ে দেয়।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Read full story at source