দিনাজপুরে স্কুলছাত্রকে ‘ওষুধ দিয়ে সম্মোহন’, ছয় দিন পর নোয়াখালী থেকে উদ্ধার
· Prothom Alo

হোস্টেলে ফিরতে বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল স্কুলছাত্র আরাফাত রহমান (১৪)। বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য সে একটি রিকশায় ওঠে। সেখান থেকেই শুরু তার দুঃস্বপ্নের যাত্রা। ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
Visit rouesnews.click for more information.
শনিবার রাত আটটার দিকে নোয়াখালীর মাইজদীতে একটি অস্থায়ী টুপির দোকান থেকে আরাফাতকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুরে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন আরাফাতের বাবা জামাত আলী। তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণ বড়ুয়া গ্রামে। আরাফাত সৈয়দপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আরাফাতের বাবা জামাত আলী বলেন, ‘ছেলেকে ফিরে পেয়েছি, কিন্তু সে এখনো গভীর ট্রমায় আছে। খুব বেশি কথা বলতেছে না। শুধু এতটুকু বলতে পারছে, বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য রিকশায় ওঠার পর রিকশাচালক তার নাক-মুখে ওষুধ ছিটিয়ে দেয়। আমরা ফুলবাড়ী থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৬ জুলাই বিকেলে ছুটি শেষে সৈয়দপুরে হোস্টেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় আরাফাত। কিছুক্ষণ পর থেকেই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে পরদিন—কোথাও তার খোঁজ মেলেনি। ২৮ জুলাই সকালে ফুলবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আরাফাতের বাবা জামাত আলী। এরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, আরাফাত একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের কবলে পড়েছিল। তাকে ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন বা সম্মোহিত করা হয়। পরে তার মুঠোফোনটি নিয়ে নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর তার আংশিক জ্ঞান ফিরলেও সে স্বাভাবিকভাবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। পরে তাকে আলমগীর হোসেন নামের এক টুপি বিক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর প্রথমে আরাফাতকে কুমিল্লা, পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তাঁর ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাকে ওষুধ খাইয়ে নোয়াখালীতে নেওয়া হয়। আরাফাত পুলিশকে জানিয়েছে, ওই সময় সে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান
আরাফাতের মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সেই সূত্রে পুলিশ পৌঁছে যায় আলমগীরের যাত্রাবাড়ীর ভাড়া বাসায়। সেখানে আলমগীরের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তিনি আরাফাতকে নিয়ে নোয়াখালী গেছেন। এরপর শুরু হয় শেষ অভিযান।
শনিবার রাত। নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠসংলগ্ন পদচারী–সেতুর নিচে সারি সারি অস্থায়ী দোকান। সাধারণ ক্রেতাদের ভিড়ের মাঝেই গোপনে অবস্থান নেয় গোয়েন্দা পুলিশের দল। একপর্যায়ে একটি টুপির দোকানে আরাফাতকে দেখতে পেয়ে অভিযান চালানো হয়। মুহূর্তেই আরাফাতকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ। তবে অভিযানের শেষ মুহূর্তে ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যান আলমগীর।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পলাতক আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম।