‘আটা আর চাল লিবার আসি দিনই চলি যায়’

· Prothom Alo

‘আটা আর চাল লিবার আসি দিনই চলি যায়। বাড়ির কোনো কাজ হয় না। সকাল আটটার দিকে আইছি, এখন বিকাল সাড়ে তিনটা বাজে।’ কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার মাঝগ্রাম মহল্লার বাসিন্দা জোছনা বেওয়া (৬০)।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ন্যায্যমূল্যের বিশেষ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় আজ সোমবার আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের জোছনা বেওয়া আটা ও চাল কিনতে আসেন। তবে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তাঁর কেনাকাটার পালা আসেনি।

জোছনা বেওয়ার মতো আরও অনেক নিম্ন আয়ের মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিক্রির গতি ধীর হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওএমএস কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে অনেকে লাইনের পাশে বসে আছেন। অপেক্ষার ক্লান্তি ও বিরক্তির ছাপ তাঁদের মুখে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন—রবি থেকে বৃহস্পতিবার ওএমএস কর্মসূচির আওতায় আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করা হয়। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন। প্রতিদিন ৪০০ জন এ সুবিধা পান।

বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা যায়, প্রথমে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ২৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এরপর আঙুলের ছাপ ও অমোচনীয় কালি দিয়ে শনাক্ত করার পর আটা ও চাল দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ায় একজনের ১০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে। এতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে ও অপেক্ষার সময় বাড়ছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, বাজারের তুলনায় কম দামে আটা ও চাল পাওয়া যায় বলে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় থাকে। কিন্তু বিক্রির গতি ধীর হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে দিনমজুরদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, আর গৃহিণীদেরও বাড়ির কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দুটি বুথে ওএমএসের দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রির কথা। তবে জনবলসংকটের কারণে একটি বুথ থেকেই বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও আক্কেলপুর উপজেলার ইউএনও আশিক-উর রহমান প্রথম আলোকে জানান, জনবলসংকটের কারণে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চলতি মাস পর্যন্ত নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম চালাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। এরপর ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন বুথ বাড়ানো হবে।

Read full story at source