৭ দিনের এলএনজি মজুত রাখার সক্ষমতা দরকার

· Prothom Alo

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির যে সংকট এখন চলছে, সেখান থেকে এ মুহূর্তে উত্তরণের উপায় খুব একটা নেই। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। উপায় যেটা আছে, সেটা হলো জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়ন। তবে এগুলো সময়সাপেক্ষ। আমরা এখনই জ্বালানির সরবরাহ যেহেতু বাড়াতে পারছি না, তাই চাহিদা কমিয়ে আনতে হবে।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে সরবরাহ করা একটা মেকানিক্যাল অপারেশন (যান্ত্রিক কার্যক্রম)। এতে সমস্যা হতেই পারে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে—এমন শর্ত চুক্তিতেই আছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে

যেহেতু আমাদের বিকল্প আর কোনো উৎস নেই, তাই অন্তত সাত দিনের সরবরাহের সমপরিমাণ এলএনজি মজুতের একটা ব্যবস্থা যদি আমরা রাখতে পারতাম, তাহলে এই ঝুঁকি থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত থাকা যেত।

আমদানিনির্ভরতা যত বেশি কমানো যায়, আমাদের জন্য তত ভালো। দেশের ২০১০ ও ২০১৬ সালের বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনায় জ্বালানি আমদানিনির্ভরতাকে সর্বোচ্চ প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব জ্বালানির ব্যাপারে সেখানে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না, সরকারি উদ্যোগও ছিল না। ফলে আমাদের আমদানিনির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে বেড়েই যাচ্ছে।

এখন আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৬৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালে এটা ৯০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।

গ্যাসের অভাবে শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

আমরা আমদানি বন্ধ করতে পারব না, আমদানি করতে হবে। কিন্তু তা কমাতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বাড়াতে হবে। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো দরকার। নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে একটা পরীক্ষার চেষ্টাও করা যেতে পারে।

আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কয়লার অভাব যেন না হয়, কয়লা সরবরাহে যেন ঘাটতি না ঘটে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ যেন পূর্ণোদ্যমে চলে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটা যাতে চলে আসতে পারে—এসব নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

আমরা সারাক্ষণই আপৎকালীন সমস্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ মেয়াদের চিন্তা করলেও সেটার ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সে কারণে ছয় মাসের সমস্যা সামাল দিতেই আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছি, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদের কাজগুলো সব সময় পিছিয়ে থাকছে।

দীর্ঘ মেয়াদের জন্য একটা সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। সেখানে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, ডিমান্ড সাইড ব্যবস্থাপনা (চাহিদা বিবেচনায় ব্যবস্থাপনা) থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হবে—তার একটা সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। সে অনুযায়ী এগোতে হবে।

আর আগামী ছয় মাসে সরকারের করণীয় হচ্ছে ফায়ার ফাইটিং। অর্থাৎ আমাদের যেখানে যা (তেল, এলএনজি ইত্যাদি) সরবরাহ আছে, সেগুলো সঠিকভাবে যাতে আসে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশে এখনো সৌরবিদ্যুতের প্রসারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধাবিপত্তি আছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্প করতে গেলে এমন সব ট্যাক্স-ভ্যাট (কর ও মূল্য সংযোজন কর) চলে আসছে, যেটা আগে ছিল না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একটা সমন্বয়হীনতা আছে। এগুলোকে দূর করে যত দ্রুত সম্ভব নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হবে। তাহলে অন্তত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা একটা স্বস্তি পেতে পারি।

ম তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং উপাচার্য, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)

Read full story at source