হঠাৎ এলিয়েনদের নভোযান দেখলে যে ৭টি কাজ করতে পারো

· Prothom Alo

‘আই ওয়ান্ট টু বিলিভ’—নব্বই দশকের বিখ্যাত টিভি সিরিজ ‘দ্য এক্স-ফাইলস’–এর এই ট্যাগলাইনটা হয়তো তুমি শোনোনি। কিন্তু তখনকার দিনে এটি খুব জনপ্রিয় ছিল। এলিয়েনদের ব্যাপারেও এই লাইনটা হয়তো সবচেয়ে ভালো খাটে।

Visit casino-promo.biz for more information.

আকাশে অদ্ভুত কোনো আলো বা উড়ন্ত চাকতি দেখলেই আমাদের মনে হয়, ওই বুঝি এলিয়েনরা চলে এল! আমরা জানি ভিনগ্রহের প্রাণী বলে বাস্তবে কিছু নেই, অন্তত এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু মানুষের মন তো, মানতে চায় না। আকাশে অজানা কিছু দেখলে আমাদের উত্তেজনার শেষ থাকে না। আগে এগুলোকে ইউএফও বলা হতো, এখন স্মার্ট নাম হয়েছে ইউএপি বা আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা।

মজার ব্যাপার হলো, খোদ মার্কিন সরকারও এখন এগুলো নিয়ে বেশ সিরিয়াস। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তারা পারস্যু (PURSUE) নামে একটা প্রজেক্টের অধীনে ১৯৫০ সাল থেকে জমে থাকা শত শত গোপন ফাইল প্রকাশ করছে। এই তো, গত ৭ আগস্টেই তারা পঞ্চম দফার ফাইল উন্মুক্ত করল! তো, কখনো যদি তুমি আকাশে সত্যিই এমন ‘উড়ন্ত চাকতি’ দেখে ফেলো, তখন উত্তেজনায় অজ্ঞান না হয়ে তোমার কী করা উচিত, চলো তাই আলোচনা করি।

মহাকাশ স্টেশনকে যে কারণে সূর্যে ফেলে ধ্বংস করা হবে না

বছরে কত মানুষ এলিয়েন দেখে

মার্কিন সরকারের অ্যারো (AARO) নামে একটা অফিসিয়াল রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালে তারা ৩১৯টি এমন ঘটনার রিপোর্ট পেয়েছে। এর মধ্যে ১১৪টির রহস্য তারা ভেদ করেছে যেগুলো শেষমেশ সাধারণ বেলুন, স্যাটেলাইট, পাখি বা ড্রোন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে! হাস্যকর বিষয় হলো, এই অফিস শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের রিপোর্ট জমা নেয়।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য আছে নুফর্ক (NUFORC) বা মুফন (MUFON) নামে সংস্থা। এই বছর নুফর্কে এরই মধ্যে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি রিপোর্ট জমা পড়েছে! ২০২০ সালে তো সেটা ৮ হাজার ছুঁয়েছিল। অর্থাৎ মানুষের চোখের ভুল (নাকি এলিয়েনের আনাগোনা?) বেড়েই চলেছে।

এবার কাজের কথায় আসি। যদি সত্যিই কিছু দেখে ফেলো, তবে কী করবে?

১. শান্ত থাকো, ওটা এলিয়েন না-ও হতে পারে!

আকাশে অদ্ভুত কিছু দেখেই এলিয়েন এলিয়েন বলে চিল্লাপাল্লা শুরু কোরো না। আগে একটু শ্বাস নাও। দেখো তো আশপাশে কোনো বিমানবন্দর আছে কি না? কিংবা উলকাপাতের মৌসুম চলছে কি না? এমনও তো হতে পারে, তোমার পাশের বাড়ির ছেলেটা নতুন ড্রোন কিনে আকাশে ওড়াচ্ছে আর তুমি সেটাকে ভিনগ্রহের যান ভেবে বসে আছ!

২. গোয়েন্দার মতো প্রমাণ জোগাড় করো

যদি মনে হয় ড্রোন বা বিমান নয়, তবে জলদি পকেট থেকে ফোনটা বের করো। ছবি আর ভিডিও তো তুলবেই, সঙ্গে নাসার পরামর্শ অনুযায়ী এই জিনিসগুলো নোট করে রাখো—তোমার স্থানীয় সময়, তুমি ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছ, জিনিসটা কতক্ষণ ধরে আকাশে ছিল, কত বেগে ছুটছিল (যদি সম্ভব হয়), কোন দিকে যাচ্ছিল এবং আকাশের অন্য নক্ষত্রের তুলনায় ওটা কতটা উজ্জ্বল ছিল।

‘এলিয়েন’ সিনেমার রহস্যময় পাহাড়ে পর্যটকেরা কেন ভিড় করেন

৩. জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ক্লাবে ঢুঁ মারো

শুনতে একটু সেকেলে মনে হলেও এটাই সবচেয়ে কাজের। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ নাসার নাইট স্কাই নেটওয়ার্ক থেকে স্থানীয় অ্যাস্ট্রোনমি বা জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্লাবের খোঁজ নিতে পারে। বাংলাদেশেও এমন অ্যাসোসিয়েশন আছে, চাইলে সেখানে যোগাযোগ করতে পারো। আবার আমাদের দেশে এখন অনেক শখের জ্যোতির্বিজ্ঞানী আছেন, চাইলে তাঁদের সাহায্যও নিতে পারো। তাঁদেরকে তোমার অভিজ্ঞতার কথা বললে তাঁরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তোমার ‘এলিয়েন দেখার’ ভূত নিমেষেই ছাড়িয়ে দেবে!

৪. নিজের আকাশ নিজেই বানাও

স্টেলারিয়াম নামে একটা দারুণ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট আছে। সেখানে তোমার অবস্থান আর সময় দিলেই তারা হুবহু তোমার মাথার ওপরের আকাশটা স্ক্রিনে তৈরি করে দেবে। তুমি সহজেই মিলিয়ে দেখতে পারবে যে ওই মুহূর্তে ওখানে কোনো তারা, গ্রহ বা চাঁদ ছিল কি না।

৫. বিমান ও স্যাটেলাইটের খোঁজখবর

FlightAware বা Flightradar24-এর মতো ফ্রি অ্যাপগুলো দিয়ে তুমি দেখতে পারবে ওই সময় তোমার মাথার ওপর দিয়ে কোনো বিমান যাচ্ছিল কি না। সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে মানুষের ভুল হয়, সেটা হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট! এগুলো যখন আকাশে ছাড়া হয়, তখন একটার পিছে আরেকটা আলো জ্বালিয়ে ট্রেনের মতো যায়। স্যাটেলাইট ট্র্যাকার অ্যাপ দিয়ে চেক করে নাও, তুমি আবার মাস্কের স্যাটেলাইটকে এলিয়েনের যান ভাবছ না তো?

৬. প্রযুক্তি দিয়ে গোয়েন্দাগিরি

তুমি যদি একটু বেশিই টেক-স্যাভি হও, তবে সাইটরেক (Siterec) অ্যাপটা ব্যবহার করতে পারো। মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বানানো এই টুল এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। তোমার তোলা ইউএফওর ভিডিওটা এখানে আপলোড করলেই এটি ঠিক ওই সময় আর জায়গার একটা ভার্চ্যুয়াল আকাশ তৈরি করে দেবে। এরপর তুমি নিজেই মিলিয়ে দেখতে পারবে ওটা পরিচিত কোনো বস্তু কি না।

৭. রিপোর্ট করে দুনিয়াকে জানিয়ে দাও

এত সব কাঠখড় পুড়িয়েও যদি তোমার মনে হয় ওটা আসলেই কোনো ইউএফও বা ইউএপি, তবে এবার রিপোর্ট করার পালা! তুমি তো আর সরকারি লোক নও যে অ্যারোতে যোগাযোগ করবে! তুমি সোজা NUFORC, MUFON বা নতুন আসা Enigma অ্যাপে ঢুকে পরো। সেখানে তোমার সব প্রমাণ আর ছবি আপলোড করে দাও।

তারপর কী হবে

রিপোর্ট করার পর নিজেকে একটু বাহবা দিতে পারো। কারণ, তুমি সবেমাত্র মানবজাতির (অথবা এলিয়েন জাতির!) এক মহাগুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অংশ নিয়েছ। মুফন অ্যাপে রিপোর্ট করলে তারা তোমার কাছে একজন ইনভেস্টিগেটরও পাঠাতে পারে আরও বিস্তারিত জানার জন্য।

আর যদি তোমার ভিডিওটা সত্যিই জবরদস্ত হয়, তবে সেটা সোজা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দাও। কে জানে, হয়তো তোমার মতো আরও অনেকেই সেদিন ওই একই জিনিস দেখেছিল! তবে দিন শেষে যদি সত্যিই এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসে হাজির হয়, তখন অন্তত সবাইকে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম!’

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্টকিছু মানুষ কেন শিস বাজাতে পারে না

Read full story at source