বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আইনশৃঙ্খলা, সার ও বিদ্যুৎ নিয়ে প্রশ্ন
· Prothom Alo

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার ও বিদ্যুৎ–সংকটই আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সার ও বিদ্যুৎ–সংকট সম্পর্কে দলীয় সদস্যদের (এমপি) অবহিত করেছেন। এই সংকটকালে মানুষ যাতে সরকারকে ভুল না বোঝে, সে জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে মন্ত্রীরা দলীয় সদস্যদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
Visit mchezo.co.za for more information.
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়ে সোয়া ১টায় শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে অনেক সংসদ সদস্য অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি ‘মব কালচার’ নিয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকা এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সভাসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সার পরিস্থিতি নিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন। কৃষিমন্ত্রী সংসদ সদস্য না হওয়ায় তাঁর পরিবর্তে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন।
সভায় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এসব প্রশ্নের জবাব দেন।
‘এখনই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বিস্তারিত পরিস্থিতি তুলে ধরেন, যার মোদ্দাকথা হচ্ছে, আগের সরকার যে বিদ্যুৎ অবকাঠামো রেখে গেছে, তাতে এখনই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমাধান করে ফেলা সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
সার নিয়ে ‘স্যাবোটাজের’ আশঙ্কা
সার পরিস্থিতি নিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিতরণ যাতে যথাযথভাবে হয়, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে সার নিয়ে কোনো ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে উপজেলাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। সভায় বলা হয়, অনেক ইউনিয়নে সারের ডিলাররা পলাতক। এসব এলাকায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
‘মব কালচার’ নিয়ে সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, কোথাও কোথাও ‘মব কালচার’ লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে বিএনপির লোকজনও জড়িত বলে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার এবং মাঠপর্যায়ে সরকারবিরোধী ক্ষেত্র তৈরি করার সুযোগ পেয়ে যাবে।
এ বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নইলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কারও মুখ দেখা হবে না।
কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিরোধী মতের মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করা পুলিশের অনেক কর্মকর্তা ওসি ও অন্যান্য পদে এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সুনির্দিষ্ট নাম দিতে তিনি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব প্রচার, অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং এর জবাব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীরা সভায় যে ব্রিফিং দিয়েছেন, তা যেন সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, যাতে সরকার সম্পর্কে মানুষ ভুল না বোঝে। স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, সার ও গ্যাস–সংকটের বিষয়েও মানুষকে অবহিত করার জন্যও দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দল–সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনাও দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে দল–সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এবং ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।