মানিকগঞ্জে খাদ্যগুদামে চাল-গমের হিসাবে গরমিল, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
· Prothom Alo

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত করা চাল ও গমের হিসাবে গরমিল পাওয়ায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার।
Visit moryak.biz for more information.
গতকাল বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্রের সই করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঘিওর খাদ্যগুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া গেছে। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতি পাওয়া গেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঘিওর খাদ্যগুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া গেছে। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতি পাওয়া গেছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের গঠিত একটি কমিটি ২৫ আগস্ট ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম সরেজমিন পরিদর্শন করে মজুত যাচাই করে। এ সময় এসব গরমিল ধরা পড়ে। পরে কমিটি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালককে জানায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে ওই দুই কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খাদ্যগুদামগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে। তাঁরা গুদামের হিসাব, খাতাপত্র ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকৃত মজুত যাচাই করেন।
খাদ্যশস্যের হিসাবে গরমিল ও সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে বিপুল কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ কারণে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে আজ শুক্রবার সকালে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইয়ুব রায়হান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খাদ্য বিভাগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে। এর অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেছে। দাপ্তরিক হিসাব ও প্রকৃত মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকায় হিসাবের গরমিল ও তথ্যের অসংগতি যাচাইয়ের জন্য খাদ্যগুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
নিরীক্ষা ও যাচাই শেষ হলে গুদামটি খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য বিভাগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে। এর অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেছে। দাপ্তরিক হিসাব ও প্রকৃত মজুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।