আবারও এমবাপ্পের গোল, আবারও ৪ গোলে জয় রিয়ালের

· Prothom Alo

কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন শুরুতেই বলে দিলেন, এই মৌসুমে তিনি থামবেন না। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক। এবারও গোল। আর তাঁর সেই ছন্দে ভর করেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ।

মৌসুমের শুরুটা এমনই চেয়েছিলেন জোসে মরিনিও। দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা তিন ম্যাচে জয়। আগের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ছিল ৪-১। তার আগে এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-১।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

মালাগার গল্পটা উল্টো। আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে শুরু। এরপর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার সঙ্গে ড্র। বার্নাব্যুতে এসে তারা যেন শুরু থেকেই বুঝে গিয়েছিল, রাতটা সহজ হবে না।

ম্যাচের শুরুতেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিল রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের হাফ ভলি অল্পের জন্য বাইরে। গোল না হলেও আক্রমণের ধার স্পষ্ট ছিল।

এমবাপ্পে-ভিনি-কুকুরেয়াদের উদযাপন।

১৯ মিনিটে সেই ধারই রূপ নিল সৌন্দর্যে। জুড বেলিংহাম বল পেলেন প্রায় ২৫ গজ দূরে। একে একে দুজনকে কাটালেন। ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাঁ কোণে শট। গোল। মালাগার আপত্তি ছিল। রেফারি শুনলেন না। ভিএআরও বলল, সব ঠিক। বার্নাব্যুতে তখন একটাই সুর, ‘হেই জুড’।

৭ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ। ব্রাহিম দিয়াজের দৌড়, এমবাপ্পের ঘুরে দাঁড়ানো শট। গোলকিপার ঠেকালেও বল ঘুরে যায় জালে। শেষ পর্যন্ত সেটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে লেখা হয় আলফোনসো হেরেরোর নামে। রিয়ালের লিড ২-০।

৩০ মিনিটে তৃতীয় গোল। এবার আর কোনো বিভ্রান্তি নেই। আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের দারুণ ক্রস। এমবাপ্পের শটে বল জালে। লা লিগায় যাদের মুখোমুখি হয়েছেন, এলচে ছাড়া বাকি ২২ দলের বিপক্ষেই গোল হয়ে গেল তাঁর।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় ঠিক হয়ে যায়। মালাগা একবার সুযোগ পেয়েছিল। কর্নার থেকে রদ্রিগেজের শট পোস্টে লাগে। কোর্তোয়া রাগ ঝাড়লেন সতীর্থদের ওপর। কিন্তু তাতে ম্যাচের চিত্র বদলায়নি।

লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় পেল রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল আরও স্বচ্ছন্দ। কখনো মনে হয়েছে, অনুশীলন ম্যাচ চলছে। বেলিংহামের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আরেকবার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তিনিই।

মরিনিওর দলের একটা জিনিস চোখে পড়ার মতো। বল হারালেই তীব্র চাপ। প্রতিপক্ষকে উঠতেই দেয় না। বেলিংহাম আর আলেক্সান্ডার আর্নল্ড ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। মাঝমাঠ আর ডান প্রান্তে তাদের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

শেষ দিকে মালাগা একবার পেনাল্টির আশা জাগিয়েছিল। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দিলেও ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। উল্টো যোগ করা সময়ে এল রিয়ালের শেষ আঘাত। হাউসেন বল কেড়ে নিলেন। মুহূর্তেই আক্রমণ। ভিনিসিয়ুস বাম দিক দিয়ে গিয়ে কাটব্যাক। বদলি নামা আরদা গুলার সহজে জালে পাঠালেন। ৪-০।

শেষ বাঁশি বাজতেই বার্নাব্যুতে তৃপ্তির উল্লাস। মরিনিও খুব বেশি আবেগ দেখালেন না। কিন্তু এই জয় আবারও বুঝিয়ে দিল, এই মৌসুমে রিয়াল সহজে মাঠ ছেড়ে দেবে না গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে। তারা শুধু জিতছেই না, দাপট দেখিয়ে জিতছে। আর সেই দাপুটে রিয়ালে সবচেয়ে আলোচিত নাম। আর কে, এমবাপ্পে!

Read full story at source