তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প খুঁজতে এআইইউবির শিক্ষার্থীদের গবেষণা

· Prothom Alo

দেশের প্রচলিত তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক যানবাহনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থীরা। বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও প্লাগ–ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যান (পিএইচইভি) নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নিরাপদ চলাচল ও টেকসই নগর পরিবহনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

এআইইউবির আয়োজনে ‘ফ্রম রিসার্চ টু রিয়েলিটি: হাউ উই বিল্ট দ্য ইভি/পিএইচইভি ফিজিবিলিটি প্রজেক্ট’ শীর্ষক গবেষণা ও উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানে এ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন এআইইউবির বাণিজ্য গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক মুস্তাফা হাসান। প্রধান বক্তা ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এআইইউবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও উপদেষ্টা এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থ্রিলিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক–আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন রন্টি চৌধুরী এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আল–আমরান। এ ছাড়া এআইইউবির হেড অব এমআইএস ডিপার্টমেন্ট মো. মেজবাউল হক নাহিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় গুরুত্ব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোনো প্রযুক্তি বা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা জরুরি। এতে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পরিচালিত গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে গবেষণার সুফল সরাসরি দেশ ও মানুষের কাজে লাগানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকেরা বাংলাদেশের নগর বাস্তবতায় ইভি ও পিএইচইভি ব্যবস্থার সম্ভাবনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

‘গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন, কোনো ধারণা বাস্তবে প্রয়োগের আগে এর প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক দিক যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে একটি প্রকল্পের বাস্তব সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা ও সমাধান করা যায়। তিনি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্প খাতের অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রন্টি চৌধুরী বলেন, গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার সঙ্গে শিল্প খাতের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাজার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে বাস্তবমুখী প্রকল্প তৈরি করা সম্ভব।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি

অনুষ্ঠানে এআইইউবি এফবিএ স্টুডেন্ট রিসার্চ গ্রুপের গবেষণা কার্যক্রম ও বাংলাদেশে ইভি/পিএইচইভি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে অবদান রাখা সংশ্লিষ্ট প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান তৈরি হবে।

Read full story at source