সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ডেভিল ফ্লাওয়ার, কীভাবে
· Prothom Alo

বেশির ভাগ উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে থাইল্যান্ডের থং ফা ফুম ন্যাশনাল পার্কের এক ছায়াঘেরা স্থানের মাটিতে এমন এক ক্ষুদ্র উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এই চিরন্তন নিয়ম ভেঙে দিয়েছে। দেখতে ভয়ংকর ও অদ্ভুত গড়নের এই উদ্ভিদের নাম থিসমিয়া ডেমোনা বা ডেভিল ফ্লাওয়ার। গত বছরের মে সাসে যৌথভাবে ডেভিল ফ্লাওয়ারের সন্ধান পান চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটি ও প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।
ডেভিল ফ্লাওয়ারের মাথায় তিনটি লম্বা শিংয়ের মতো অংশ রয়েছে। এর লালচে-কমলা অংশগুলোকে জ্বলন্ত চোখের মতো দেখায়। উদ্ভিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মতো এতে কোনো ক্লোরোফিল নেই। ফলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে এটি খাদ্য তৈরি করতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য এই উদ্ভিদ পুরোপুরি মাটির নিচের ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের ওপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মাইকোহেটারোট্রফি প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদটি মাটি থেকে কার্বন ও পুষ্টি সংগ্রহ করে থাকে, যা সূর্যালোকের পরিবর্তে সরাসরি মাটির নিচের ছত্রাক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর তাই জীবনের বেশির ভাগ সময় পাতার স্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকলেও ফুল ও ফল উৎপাদনের সময় এটি অল্প সময়ের জন্য মাটির ওপরে আত্মপ্রকাশ করে থাকে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ডেভিল ফ্লাওয়ার উদ্ভিদটির প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের ৯৩০ থেকে ৯৭০ মিটার উচ্চতায় এটি জন্মে থাকে। সাধারণত আর্দ্র রেইনফরেস্টে এই প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলে এর উপস্থিতি অবাক করেছে বিজ্ঞানীদের।
প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিদ সাহুত চান্তানওররাপিন্ট জানান, এই আবিষ্কার একটি বড় বিস্ময় ছিল। উদ্ভিদটির উচ্চতা ফুলসহ প্রায় সাড়ে বারো সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর মূলগুলো লোমশ এবং প্রবালের মতো। উদ্ভিদটির ফুলের রং প্রায় কালো এবং এর ভেতরে আধা-স্বচ্ছ নীল পুংকেশর রয়েছে। উদ্ভিদটি ফেইরি ল্যান্টার্ন বা পরির লন্ঠন নামেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে এই গণের প্রায় ১২০টি প্রজাতি রয়েছে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট