মৃত ঘোষণার পর ‘শিশু নড়ে উঠেছে’ বলে হাসপাতালে স্বজনদের হামলা–ভাঙচুর, চিকিৎসকসহ আহত ৪

· Prothom Alo

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন বছরের এক শিশুকে মৃত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসকসহ হাসপাতালের চারজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

Visit moryak.biz for more information.

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মিরপুর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার সাব্বির আহমেদের ছেলে রাফি (৩) পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়লে কেউ একজন বলে ওঠেন—শিশু নড়ে উঠেছে। এরপরই শিশুর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটিকে মৃত ঘোষণার পর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্বজন ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে হাসপাতালের ১১ নম্বর কক্ষসহ (চিকিৎসকের কক্ষ) হাসপাতালের বিভিন্ন অংশের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করেন।

এ সময় চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়া, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আবদুস সামাদ, জরুরি বিভাগের কর্মী বিজয় ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে মিরপুর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়া বলেন, জরুরি বিভাগে শিশুটিকে আনার পরপরই তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, পানিতে ডুবে যাওয়ার পর শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হঠাৎ করে শিশুটির স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পীযূষ কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার পরও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়নি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা সাব্বির আহমেদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন চিকিৎসক একবার শিশুটির বুক পরীক্ষা করে কক্ষে চলে যান। এরপর ২০ থেকে ২৫ মিনিট কোনো চিকিৎসক তাঁদের কিছু জানাননি। পরে আরেকজন চিকিৎসক এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কক্ষের কাচ ভেঙে যায়। তবে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনেরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে হেনস্তা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা চলে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার পর হাসপাতালে যান মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।

Read full story at source