নির্বাচনের এ ফলাফল বিপর্যয়কর, দেশে সংস্কার জরুরি: জার্মানির চ্যান্সেলর

· Prothom Alo

জার্মানির রাজ্য পর্যায়ের দুটি নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)। এ ফলাফলকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর। বলেছেন, দেশে সংস্কার জরুরি।

গতকাল রোববার জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন এবং বার্লিনে রাজ্য পর্যায়ের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। এতে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত শক্তি বাড়ানো কট্টর ডানপন্থী-নব্য নাৎসিবাদী দল আলটারনাটিভে ফ্যুর ডয়েচলান্ড (এএফডি) এগিয়ে আছে। ভালো করেছে বামপন্থীরাও। এর ফলে দ্বিমুখী চাপে পড়েছে সিডিইউ।

Visit esporist.com for more information.

জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেতে যাচ্ছে এএফডি। সপ্তাহ দুয়েক আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে ইতিহাসের সেরা ফলাফল করেছে দলটি।

বার্লিনে এগিয়ে বামপন্থীরা, উত্তর-পূর্বে কট্টর ডানপন্থীরা

সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে এএফডি ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ, বামপন্থী ডি লিংক ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, পরিবশবাদী গ্রিন পার্টি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও সিডিইউ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

অন্যদিকে বার্লিনে বামপন্থী ডি লিংক পার্টি পেয়েছে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। সিডিইউ ২০ শতাংশ, পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ, এএফডি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, রাজ্য পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত ৫ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। এ কারণে মের্ৎসের নড়বড়ে নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর এক ভাষণে মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের এই ফলাফলকে সরাসরি ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেন ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের ফলাফল নিয়ে বানিয়ে ভালো কিছু বলার সুযোগ নেই। এটি চরম বিপর্যয়। সিডিইউ কঠোর লড়াই করেছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও এএফডির তীব্র মেরুকরণের চাপে পড়েছে।

জার্মানির রাজনীতিতে নব্য ডানপন্থী শক্তির উত্থানের পেছনে কী

জার্মানিতে অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান ও গভীর বিভাজন দূর করতে সংস্কার জরুরি। শুধু আগের সোনালি দিনগুলোয় ফিরে যাওয়া সমাধান হতে পারে না, বলেন চ্যান্সেলর মের্ৎস।

বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর বার্লিনে সিডিইউর কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়। ভিন্ন চিত্র ছিল ডি লিংকের কার্যালয়ে। সেখানে দলটির নেতা-কর্মীদের উল্লাস করতে দেখা যায়। ডি লিংকের প্রধান প্রার্থী এলিফ এরাল্প বক্তব্য দেওয়ার সময় কর্মী-সমর্থকেরা স্লোগান দেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে এলিফ এরাল্প বলেন, ‘আমাদের এই শহরে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও ন্যায়ের জয় হয়েছে। আজ আমরা সবাই তা দেখিয়ে দিয়েছি। পুরো বিশ্বের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছি।’

প্রায় ৭৫ বছর আগে রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছিল সিডিইউ। ১৯৫১ সালের নির্বাচনে ব্রেমেন রাজ্যে দলটি মাত্র ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এর আগে কোনো রাজ্য নির্বাচনে দলটির ভোট এক অঙ্কে নেমে যাওয়ার একমাত্র নজির ছিল সেটি।

বুথফেরত জরিপের পর উচ্ছ্বাস জানিয়ে এএফডির সহনেত্রী অ্যালিস ওয়াইডেল সিএনএনকে বলেন, ‘এএফডি এখন জার্মানির গণমানুষের নতুন দল। আমরা সিডিইউকে ছাড়িয়ে গেছি। মানুষ এখন নীতির পরিবর্তন চায়।’

জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের জয়, কী তাদের এজেন্ডা

চ্যান্সেলর মের্ৎসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ‘মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অ্যালিস ওয়াইডেল। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এমন একজন দুর্বল চ্যান্সেলর ও নেতাকে নিয়ে সিডিইউ বেশি দূর এগোতে পারবে না।’

জার্মানির বার্লিনে রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনের আগে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) প্রধান প্রার্থী স্টেফান এভার্স ও ডি লিংকের প্রধান প্রার্থী এলিফ এরাল্পের নির্বাচনী প্রচারের পোস্টারের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মানুষ। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় সাক্সেন-আনহাল্টের নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী এএফডি বিপুল ভোটে (৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ) জয় পায়। ১৯৪৫ সালের পর জার্মানির রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে কোনো ডানপন্থী দলের এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

নাৎসিদের পর জার্মানিতে অতি ডানপন্থীদের প্রথম জয়, কেন

এর পর থেকে জার্মানির রাজনীতি, ক্ষমতাসীন জোট, চ্যান্সেলর মের্ৎস, এমনকি বিপুলসংখ্যক অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এখন দেশটির রাজনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন ও বার্লিনে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

রাজ্য পর্যায়ের এ নির্বাচন ঘিরে চ্যান্সেলর মের্ৎস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সফর বাতিল করেছেন।

উল্লেখ্য, গতকালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী ভোটাররাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপ কি পালাবদলের পথে

Read full story at source