গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: নাশকতা মামলায় আরও ১৫ আসামি রিমান্ডে
· Prothom Alo

রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
Visit betsport.cv for more information.
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত আজ ১৫ আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন। এর আগে আরও কয়েকজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আজ রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ১৫ আসামি হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী নিরব খান (২২), ঠাকুরগাঁও শহর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. জুয়েল সিকদার (৩৩), ভাটারা থানা যুবলীগের সদস্য মো. সাহেদ (৩৭), খিলক্ষেত থানা ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য শান্ত শেখ (২৮), ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদ ফয়সল (৪০), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. সফিকুর রহমান (৫০), চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিল্লাল গাজী (৩৫), তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল সিরাজী (৩২), ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের কর্মী মো. আরিফুর রহমান দিপু (২৭), বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), বাড্ডা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), ভাটারা থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় শ্রমিক লীগের সদস্যসচিব জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩) এবং আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক (৭৫)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা সমবেত হন। এ সময় তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাদের লক্ষ করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
আজ এ মামলায় ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের নিয়ে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পরিকল্পনাকারী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।