রেকর্ড ব্যবসা রেনাটা ফার্মার, মুনাফা বেড়েছে ১৪২ কোটি টাকা
· Prothom Alo

এক দশকের ব্যবধানে দেশের ওষুধ খাতের কোম্পানি রেনাটার ব্যবসা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। প্রথমবারের মতো কোম্পানিটির ব্যবসা সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে রেনাটা ব্যবসা করেছে ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির ব্যবসা প্রথমবারের মতো ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। এবার তা আরও বেড়ে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ কোম্পানি রেনাটার পরিচালনা পর্ষদের সভা আজ শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় গত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি একই সভা থেকে গত অর্থবছরের জন্য লভ্যাংশের ঘোষণা দেওয়া হয়। কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে সাড়ে ৫ টাকা লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারধারীরা।
রেনাটার গত ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে কোম্পানিটি আয় বা ব্যবসা করেছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার। গত অর্থবছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকায়। সেই হিসাবে এক দশকে রেনাটার ব্যবসা বা আয় বেড়েছে ৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা বা দ্বিগুণের বেশি। এর মধ্যে গত এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৩৩১ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ৪ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার।
এদিকে এক বছরে আয় ৩৩১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। গত অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ৩৬৪ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১৪২ কোটি টাকার বা ৬৪ শতাংশ।
ব্যবসা ও মুনাফা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোম্পানিটি বলেছে, ওষুধের দাম না বাড়িয়ে পরিচালন খরচ ও বিক্রি বাড়িয়ে কোম্পানিটি ব্যবসায় এই সাফল্য পেয়েছে। সার্বিকভাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বা ব্যবসা বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড ওষুধ রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোম্পানিটির। স্থানীয় বাজার থেকে রেনাটার আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। আর যুক্তরাজ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
এদিকে কোম্পানিটি গত বছরের জন্য যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তাতে লভ্যাংশবাবদ কোম্পানিটিকে বিতরণ করতে হবে ৬৩ কোটি টাকা; যার বড় অংশই পাবেন উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা। কারণ, কোম্পানিটির শেয়ারের ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশই রয়েছে তাঁদের হাতে। সেই হিসাবে উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা লভ্যাংশবাবদ পাবেন ৩২ কোটি টাকার বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাবেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। গত সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ ছিল তাঁদের হাতে। এই শেয়ারের বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ঘোষিত লভ্যাংশবাবদ পাবেন প্রায় ১৫ কোটি টাকা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে তাঁরা পাবেন প্রায় ১১ কোটি টাকা। আর ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঘোষিত লভ্যাংশবাবদ পাবেন প্রায় ৫ কোটি টাকা। কারণ, কোম্পানিটির সবচেয়ে কম শেয়ার রয়েছে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে।
রেকর্ড ব্যবসা ও মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হলেও আজ শনিবার শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিন ঢাকার বাজারে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকার বেশি কমে ৪৪৮ টাকায় নেমেছে।