তৃণমূলের এমপি হয়ে যে জমিতে উচ্ছেদের নোটিশ, বিজেপির জোটে যোগ দিয়ে সেই জমিই উপহার পাচ্ছেন ইউসুফ পাঠান

· Prothom Alo

তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জেতার পর যে জমিতে কথিত অবৈধ দখলদারির অভিযোগে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছিলেন, সেই জমিই এবার উপহার হিসেবে পেতে যাচ্ছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।

Visit playerbros.org for more information.

গুজরাটের বাদোদরায় তাঁর পরিবারের বাড়ির পাশের প্রায় ২০ কোটি রুপি মূল্যের পৌরসভার জমিটি তাঁকে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। এর অর্ধেক জমি বিনা মূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, বাকি অর্ধেক পাওয়া যাবে বাজারমূল্যের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম দামে।

একসময় নোটিশ এসেছিল যে জমির জন্য, সেটি ইউসুফ পাচ্ছেন এমন সময়ে, যার কিছুদিন আগে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জমির মালিকানা এখনই চূড়ান্তভাবে ইউসুফের হাতে যাচ্ছে না। গুজরাট সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে ভদোদরা পৌর করপোরেশনের (ভিএমসি) স্থায়ী কমিটিতে বরাদ্দের প্রস্তাব তোলার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

যে জমির জন্য এক যুগের লড়াই

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদোদরার তান্দালজা এলাকায় ইউসুফের পরিবারের বাড়ির পাশেই ৯৭৮ বর্গমিটারের জমিটির অবস্থান। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিজের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে জমিটি ৯৯ বছরের জন্য লিজে চেয়েছিলেন তিনি। প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই জমিটি বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাবে তখন ভিএমসির স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ সভা সম্মতি দিয়েছিল। জমিটির প্রতি বর্গমিটারের মূল্য ধরা হয়েছিল ৫৭ হাজার ২৭০ রুপি; পুরো জমির দাম দাঁড়াত প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ রুপি। ইউসুফও ওই মূল্য পরিশোধে সম্মতি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কিন্তু পৌরসভার প্রস্তাবে রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। ২০১৪ সালের জুনে গুজরাটের নগর উন্নয়ন বিভাগ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপরও জমিটি ইউসুফের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পৌর করপোরেশন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের পর ২০২৪ সালের জুনে তাঁকে জমি থেকে কথিত অবৈধ দখল সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেয় ভিএমসি। এর কিছুদিন আগে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আসন থেকে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন ইউসুফ।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে লোকসভায় সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান

দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের নোটিশের বিরুদ্ধে গুজরাট হাইকোর্টে গিয়েছিলেন ইউসুফ। গত বছরের আগস্টে আদালতের একক বেঞ্চ রাজ্য সরকারের জমি বরাদ্দের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এরপর ইউসুফ আপিলে গেলে চলতি বছরের জুনে শুনানির সময় হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলেন, বরাদ্দের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করে এবং মূল্য পরিশোধ ছাড়াই কীভাবে পৌরসভার জমি দখলে রাখা হয়েছে। জমি বরাদ্দের নীতির আওতায় দাবি নিষ্পত্তির জন্য সময় চাওয়ায় আদালত তাঁকে চার সপ্তাহ সময় দেন।

গত ৩১ আগস্ট ইউসুফের আইনজীবী আদালতকে জানান, মক্কেল আপিল প্রত্যাহার করতে চান। আদালত আবেদনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে মামলা নিষ্পত্তি করেন। এর প্রায় দুই মাস পর জমিটি বরাদ্দের বিষয়ে গুজরাট সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত সামনে এল।

অর্ধেক জমি উপহার, বাকি অর্ধেকে ছাড়

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাট সরকারের ১৩ আগস্টের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জমি বরাদ্দের প্রস্তাব তৈরি করেছে ভিএমসির ভূমি ও সম্পত্তি বিভাগ। সিদ্ধান্তটি পৌর করপোরেশনে পৌঁছায় ২৯ আগস্ট, অর্থাৎ ইউসুফের আদালতে আপিল প্রত্যাহারের দুই দিন আগে।

প্রস্তাব অনুযায়ী ৯৭৮ বর্গমিটারের মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার জমি আবাসিক ব্যবহারের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হবে ইউসুফকে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার জমির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ভদোদরা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ভিইউডিএ) মূল্যায়ন কমিটির ১৭ মার্চের নির্ধারিত দরের ৫৫ শতাংশ হিসেবে। অর্থাৎ ওই অংশের মূল্যের ওপর ৪৫ শতাংশ ছাড় পাবেন তিনি।

সাবেক খেলোয়াড়দের ক্রিকেট ম্যাচে ইরফান পাঠান, যুবরাজ সিং ও শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে ইউসুফ পাঠান

গুজরাট সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা গুজরাটের বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ নীতির আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ নিয়মে পৌরসভার জমি নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকায় সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তৃণমূল ছেড়ে এনডিএতে, তারপরই নতুন মোড়

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আসনে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ইউসুফ। তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের নোটিশ আসে।

চলতি বছরের জুনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের ২০ জন সংসদ সদস্যের একটি দল দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে গিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) সঙ্গে একীভূত হয়। এরপর তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গে যুক্ত হন। সেই দলে ছিলেন ইউসুফও।

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ইউসুফ ভারতের হয়ে ৫৭ ওয়ানডে ও ২২ টি–টুয়েন্টি খেলেছেন, যার সর্বশেষটি ২০১২ সালের মার্চে। ইউসুফের ছোট ভাই ইরফান পাঠানও ভারত জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে দুই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের ‘ছক্কা’

Read full story at source